হোম > জাতীয়

জ্বালানি খাতের সমস্যা সমাধানে প্রথমে দুর্নীতির সমাধান করতে হবে

জাতীয় কনভেনশনের বক্তারা

স্টাফ রিপোর্টার

জ্বালানি খাতের সমস্যা সমাধানে শুরুতে দুর্নীতির সমাধান করতে হবে এবং জ্বালানি খাত সংস্কার করতে হবে। সৌরশক্তির উপর নির্ভরতা বাড়িয়ে তেলের উপর নির্ভরতা কমাতে হবে। কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করলে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট সমাধান সম্ভব।

রোববার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে জাতীয় নাগরিক পার্টির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত 'জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট' শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনের দ্বিতীয় সেশনে বক্তারা এসব কথা বলেছেন।

জ্বালানি নিরাপত্তা: বর্তমান সংকট এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে সেশনটি আয়োজিত হয়। এ সেশনে সভাপতিত্ব করবেন এনসিপির জাতীয় নারী শক্তির সদস্য সচিব মাহমুদা মিতু।

এছাড়া কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ এবং কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার অর্থনীতি বিষয়ক লেকচারার ড. খান জহিরুল ইসলাম, জাতীয় অর্থনীতির সম্পাদক ইসমাইল আলী, ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকনমিকস অ্যান্ড ফাইনান্সিয়াল এনালাইসিস-এর লিড এনার্জি এনালিস্ট শফিকুল আলম এতে বক্তব্য রাখেন।

বক্তব্যে জহিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের জ্বালানির যে সংকট, সেটা কিন্তু জ্বালানির অভাবের জন্য না। এটা মূলত দুটো নীতির সমস্যার জন্য। এক দুর্নীতি আর দুই হচ্ছে ভুল নীতি। বছরে বাংলাদেশ বছরে ১২ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় করে জ্বালানিতে। এটা আমাদের মোট বাজেটের ১৯ শতাংশ। আমাদের ইনস্টলড ক্যাপাসিটি থেকে আমাদের চাহিদা প্রায় অর্ধেক। এরপরও লোডশেডিং হয়। কারণ, আমাদের ইনস্টলড ক্যাপাসিটি আছে কিন্তু সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। এবং কারণ সেটাকে ব্যবহার করা হচ্ছে দুর্নীতির একটা মেইন সোর্স হিসেবে।

তিনি বলেন, ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই সেক্টরে জ্বালানি খাতে হাওয়া ভবনের ছত্রছায়ায় আপনারা খাম্বা কেলেঙ্কারির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা শত শত কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। বাংলাদেশে সামিট গ্রুপ মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। তারা কুইক রেন্টালের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। শুধু তাই না, তারা ১১০০ কোটি টাকার ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েছে। জ্বালানি খাটে সমস্যা সমাধান করতে হলে প্রথমের দুর্নীতির সমাধান করতে হবে। তবে এর সমাধান করব কীভাবে, ৫৫ বছরে যাদের দ্বারা হয়নি দুর্নীতির সমাধান হয়নি, তাদের দ্বারা ভবিষ্যতেও হবে না। দুর্নীতির সমাধান করতে হলে আমরা

তিনি বলেন, আমাদের ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি’ দিকে নজর দিতে হবে। আমাদের বাংলাদেশে প্রতিদিন ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টন বর্জ্য উৎপাদন হয়। শুধু ঢাকা শহরে ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টন বর্জ্য উৎপাদন হয় এবং এই শুধু ঢাকা শহরের যে বর্জ্য উৎপাদন হয় এটাকে যদি আমরা এনার্জিতে কনভার্ট করি সেটা ডেইলি ৩০০ থেকে ৪০০ মেগাওয়াট। এর মাধ্যমে লোডশেডিং কমানো সম্ভব।

আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রের অনেকগুলো খুঁটির সমন্বয়। বর্তমান জ্বালানি সংকটকে সার্বভৌমত্বের জায়গা থেকে দেখতেও হবে। কেন যুদ্ধগুলো হচ্ছে? প্রত্যেকটা রাষ্ট্র যদি দেখেন, যেখানে তেল আছে, সেখানে আল-কায়েদা আছে। যেখানে গ্যাস আছে সেখানে ওসামা বিন লাদেন আছে। যেখানে তেল গ্যাস নাই-ওইখানে কিচ্ছু নাই।

তিনি বলেন, আদানিকে বিদ্যুৎ দেয়া, আমাদের তেল থেকে সেভেন সিস্টার্সে সাপ্লাই চেইন তৈরি করা, ট্রান্সশিপটের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে অফলোড করে ভারতের সেভেন সিস্টার্সে চলে যাবে, এটার যে একটি নিরাপত্তা সংকট আছে, সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন আছে, তা আমরা বুঝতে পারছি না। রাজনৈতিক সার্বভৌমত্বের বিষয়টাকে ইরানকে দিয়ে বুঝতে হবে যে এটা কিন্তু কেবল দেশ দখলের যুদ্ধ না। বরং এটি সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন।

শফিকুল আলম বলেন, গত চার পাঁচ বছরে আমাদের ওভারঅল প্রাইমারি এনার্জি আমদানি নির্ভরতা সিগনিফিকেন্টলি বেড়ে গেছে। যেটা পাঁচ বছর আগেও ছিল ৪৭ শতাংশ ছিল, তা এখন ৬২.৫ শতাংশ। এভাবে এগোলে খুব দ্রুত হয়ত ২০৩০-৩৫ সালে গিয়ে এটি ৮০-৮৫ বা ৯০ শতাংশে গিয়ে পৌঁছাবে। আমাদের ট্রানজিশন করতে হবে। কিন্তু সেটা রেলেভেন্স ও এভিডেন্সের ভিত্তিতে হতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা দিনের বেলা অত্যন্ত এক্সপেনসিভ ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করি। এতই গত অর্থ বছরে আমরা ১০.৮ শতাংশের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি যেটা ১০ হাজার ৮৬০ গিগাওয়াট আওয়ার এবং প্রতি কিলোওয়াট আওয়ারে খরচ হয়েছে ২৭ টাকার উপরে।

তিনি আরও বলেন, কিন্তু ভারত ও পাকিস্তান দুটো দেশই ১ শতাংশের নিচে ব্যবহার করে তেল জ্বালানি হিসেবে। ভিয়েতনাম যারা আমাদের অ্যাপারেল সেক্টরের প্রতিদ্বন্দ্বী, তারাও ১ শতাংশের নিচে ব্যবহার করে। তো আমাদেরকে দিনের বেলায় সূর্যের আলো ব্যবহার করে তেলের ব্যবহারটাকে কমাতে হবে। এটা করলে আমরা ৮-৯ টাকা ১০ টাকার ভেতরে আমরা সেটা করতে পারি। সাশ্রয় হবে ১৫-১৬ টাকা। ব্যাটারি স্টোরেজ এক্সপেনসিভ কিন্তু ক্যাজুয়ালি খরচ কমছে। তেলের সাথে যদি কম্পেয়ার করা হয় তাহলে এখনই এটা ফিজিবল। সো রাতের বেলাও সেটা চিন্তা করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, এছাড়া লো হ্যাঙ্গিং ফ্রুট হিসেবে আছে ইন্ডাস্ট্রির রুফটপ সোলার। এই খাটে আমরা অন্তত ৩০০০ মেগাওয়াট বা ৩৫০০ মেগাওয়াট আমরা করতে পারি। রুফটপ সোলারের এক্সেসরিজগুলোর উপর আমদানি শুল্ক থাকাটা সত্যি বলতে অদ্ভুত। কাজেই আগামী দুই বছর বা তিন বছরের জন্য আমদানি শুল্ক পুরোপুরি ওয়েইভার যায় ইভেন ব্যাটারি এনার্জিতেও তাহলে কোনো কোনো ইন্ডাস্ট্রি হয়ত সেই সুযোগটা নিবে।

ইসমাইল আলী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জ্বালানি সেক্টর এবং বিদ্যুৎ সেক্টর সংস্কারের উদ্যোগ নেবে বলে আশা করেছিলাম। তারা একটি কমিটি করেছিল, কিন্তু সেই কমিটি এতই সময় পার করেছে যে আমরা কোনো ফল পাইনি। তাদের সুপারিশে বলা হয়েছে, আদানির চুক্তিতে অনিয়ম হয়েছে কিন্তু কি ধরনের অনিয়ম সেটা তারা স্পেসিফিক করেনি। নির্বাচিত সরকার আসার পর বলেছে, আমরা আদানির চুক্তি রিভিউ করছি। কিন্তু ইতোমধ্যে দুই মাস পার হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, আমাদের পাওয়ার জেনারেশনের খরচ প্রায় ১২ টাকা। কিন্তু আমরা সেই বিদ্যুৎ বিক্রি করছি সাড়ে ৫ টাকায়। কোনোভাবেই একটা রাষ্ট্র প্রতিবছর ৫০-৫২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে বিদ্যুৎ সেক্টর চলতে পারে না। এইজন্য অবশ্যই জ্বালানি সেক্টর খুব দ্রুত ভিত্তিতে সংস্কার করতে হবে এবং বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য যে ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল এগুলো সংস্কার করতে হবে। ২০২৪ সালে পাকিস্তানেও তাদের ওভার ওভার ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল। কিন্তু তিন মাসে তারা পাওয়ার কোম্পানিগুলোর সাথে বসে ৩০% ক্যাপাসিটি চার্জ কমিয়ে এনেছে।

সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট সমাধানে আমরা সৌরশক্তিকে যাব বলে বলা হচ্ছে। আমাদের ১০ হাজার মেগাওয়াট সোলারের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু তার জন্য কত জমি দরকার। আমাদের অত জমি এভেইলেবল না। পাকিস্তান সোলারে বড় পরিবর্ত এনেছে। ২০২১ সালে যেকোনো মোট বিদ্যুতের ৫ শতাংশ আসত সোলার থেকে, এখন তা ২৫ শতাংশ আসে। বাংলাদেশ সরকারের রুফটপ সোলারে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাছাড়া আমাদের বড় ১০টা কোম্পানির সাথে নেগোসিয়েশন করলে পাওয়ার জেনারেশন কষ্ট অলমোস্ট ৪০% কমানো সম্ভব। কিন্তু সরকার কখনো এগুলো গুরুত্ব দেয়নি।

এএস

রাতের মধ্যে ১৫ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা

জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ কমিটির বৈঠক

শপথ নিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিরা

গ্রীষ্মে বেশি হলেও বৃষ্টি কমবে বর্ষায়

জাকাত নিয়ে বিএনপি নেত্রীর অবমাননাকর বক্তব্য: এবার প্রতিবাদ জানালো হেফাজত

‘হাওরের ফসলহানি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি’

দেশে পর্যাপ্ত কোরবানির পশু আছে, আমদানির প্রয়োজন নেই

অবসরে পাঠানো হলো ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে

প্রথমবারের মতো হতে যাচ্ছে ‘শাপলা গণহত্যা’ প্রদর্শনী

শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের তদন্ত শেষের দিকে: চিফ প্রসিকিউটর