হোম > জাতীয়

স্বৈরাচারের গুলি দেখেনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে খ্রিষ্টান: প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম ব্যুরো

‘স্বৈরাচারের গুলি কিন্তু দেখেনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে খ্রিষ্টান।’ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন। তাই নাগরিক হিসেবে সবার পরিচয় বাংলাদেশি এবং রাষ্ট্রের কাছে সবার অধিকার সমান।

মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেমসেন হলের পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উৎসব পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীও বক্তব্য দেন। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য দূর করা, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নাগরিক অধিকার, সম্পত্তি দখলের অভিযোগ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের মানুষ জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। তখন কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিষ্টান—তা বিবেচনা করে কেউ যুদ্ধে অংশ নেননি। একইভাবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেও ছাত্র-জনতা, নারীসহ সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারের গুলিতে যারা আহত ও শহীদ হয়েছেন, তাদের ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে কিংবা চিকিৎসার সময় কেউ তার ধর্ম জানতে চাননি। মানুষের জীবন রক্ষাই ছিল তখন প্রধান বিষয়।

তারেক রহমান বলেন, নাগরিকদের সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু পরিচয়ে আলাদা করে দেখার পরিবর্তে সবাইকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘ ১৭ বছর বিদেশে অবস্থানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, লন্ডনে থাকার সময় তিনি এমন পরিবেশে ছিলেন, যেখানে অন্য ধর্মের মানুষের সংখ্যা বেশি ছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষকে বিবেচনা করার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশের আইন আমার জন্য যেভাবে প্রযোজ্য, আপনার জন্যও একইভাবে প্রযোজ্য। এই দেশের ওপর আপনার যে অধিকার আছে, আমারও ঠিক সেই অধিকার রয়েছে।’

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ও জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষের আত্মত্যাগের অন্যতম লক্ষ্য ছিল একটি নিরাপদ, শান্তিময় ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

‘আপনারা কারও ভোটব্যাংক হবেন না’

একই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কারও ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করার রাজনীতিতে তারা বিশ্বাস করেন না। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে অন্য সবার মতো তাদেরও সমান সাংবিধানিক, গণতান্ত্রিক ও আইনি অধিকার রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা কারও ভোটব্যাংক হবেন না। আপনারা বাংলাদেশেরই নাগরিক। এই দেশের স্বাধীন সব অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং অন্যান্য আইনি অধিকার আপনারাও অন্য নাগরিকদের মতো ভোগ করবেন।’

তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন তারা চান না। রাষ্ট্রের কাছে সব নাগরিকের অধিকার সমান হওয়া উচিত। সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সংস্কৃতি ও উপাসনালয়ের সমান অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দুর্গাপূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও এর আনন্দ অন্য ধর্মের মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে উৎসবের এই সর্বজনীনতা দীর্ঘদিনের। একে রাজনৈতিক স্বার্থে বিভাজনের মধ্যে ফেলার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অর্পিত সম্পত্তি দখল নিয়ে অভিযোগ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সম্পত্তি দখলের প্রসঙ্গও তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার অভিযোগ, ১৯৭২ সালের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের শাসনামলে তাদের সম্পত্তি দখল করা হয়েছে। চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৯৬ সালে ভূমি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে কাজ করার সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার বিষয়ে খোঁজ নিয়েছিলেন তিনি। তার দাবি, তখন সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তাঁরা খুঁজে পাননি।

তিনি বলেন, অতীতে যাদের সম্পত্তি দখল হয়েছে, তাদের সে বিষয়ে কথা বলতে হবে এবং অধিকার আদায়ের দাবি তুলতে হবে। বিএনপির জন্মের আগের ঘটনাগুলোর দায় দলটির ওপর বর্তায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব ধর্মের মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সব নাগরিকের আস্থা অর্জন করতে চায় সরকার।

‘বিএনপিকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে অপপ্রচার’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, গত ১৭ বছর বিএনপিকে সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।

রিজভী বলেন, বিএনপি অতীতেও একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। তখন দলটিকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে যেভাবে প্রচার চালানো হয়েছে, গত ১৭ বছরে তা আরও পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষায়, ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য অতিরঞ্জিত প্রচার এবং মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়।

দুর্গাপূজার সর্বজনীনতার কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, পূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব হলেও এর আনন্দ অন্য ধর্মের মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, বগুড়ায় তার বাড়ির সামনে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বড় মেলা বসত। সারা বছর সেই মেলার জন্য অপেক্ষা করতেন তাঁরা। এ ধরনের অভিজ্ঞতা বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সামাজিক বন্ধনের পরিচয় দেয়।

ভারতীয় পর্যটকদের প্রশংসার কথা তুলে ধরলেন রিজভী

বাংলাদেশে দুর্গাপূজা দেখতে ভারত থেকে পর্যটকেরা এসেছেন উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের বিভিন্ন ভিডিও ও সাক্ষাৎকার দেখা যাচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশে আনন্দমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের প্রশংসা করছেন অনেকে বলে দাবি করেন তিনি।

রিজভী বলেন, বাংলাদেশের পূজার পরিবেশ নিয়ে বিদেশি পর্যটকদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের একটি দিক তুলে ধরে। অথচ অপপ্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বক্তব্যের শেষে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের পারস্পরিক বন্ধন, ভ্রাতৃত্ব ও সহাবস্থানের ঐতিহ্য রয়েছে। ভবিষ্যতে যেন বিভেদ সৃষ্টির সেই প্রচেষ্টার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ প্রমুখ।

বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চায় সরকার: শেখ রবিউল আলম

রাজধানীতে এক দিনে বৃদ্ধ ও যুবকের লাশ উদ্ধার

রাষ্ট্রপতি ও আব্দুল মঈন খানের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানীর

সেনাবাহিনীর এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং পরিদর্শন করলেন সেনাপ্রধান

তারা একাত্তরে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে, এখন ২৪ নিয়ে ধোঁকা দিচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

একদল সীমান্তের ওপার থেকে পয়সা দিচ্ছে, আরেক দল দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে

রাজশাহীবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে মিনুর ছয় দফা

সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করলেন স্পিকার

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে চার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে