হোম > জাতীয়

মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা হবে নির্মোহ ও নির্ভুল: মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার

মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ এবং শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের প্রকৃত ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়নে নির্মোহভাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি বলেন, ইতিহাসের দায় থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে চাই। কারণ স্বাধীনতার ইতিহাস আমাদের ঠিকানার ইতিহাস, আমাদের পরিচয়ের ইতিহাস। এ স্বাধীনতা কিন্তু বারবার আসে না, একবার এসেছে। আমরা স্বাধীন জাতি হিসেবেই যুগ যুগ ধরে থাকব। এখানে যেন কোনো ইতিহাসের দায় না থাকে, কোনো মিথ্যা না থাকে এবং কোনো কলঙ্ক না থাকে। সেই চেষ্টাটা আমরা নির্মোহভাবে চালিয়ে যাব।

বুধবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের তালিকা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের প্রকৃত তালিকা প্রণয়নের কৌশল ও করণীয় নির্ধারণ’-এর লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আহমেদ আযম খান বলেন, প্রকৃত কোনো মুক্তিযোদ্ধা যেন তালিকা থেকে বাদ না পড়েন এবং কোনো অ-মুক্তিযোদ্ধা বা ভুয়া ব্যক্তি যেন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না থাকেন—এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আবেদনগুলো যথাযথ যাচাই-বাছাই করা হবে। একই সঙ্গে দুই লাখ তিন হাজারের মতো যে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা আছে, সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। কোনো অমুক্তিযোদ্ধা তালিকায় থাকবেন না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকার বিষয়ে কোনো ধরনের অসঙ্গতি বা বিতর্ক ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে রেখে যেতে চায় না সরকার।

মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পথে এসেও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন গ্রহণের বিষয়টি চলমান থাকা কাঙ্ক্ষিত নয়। স্বাধীনতার পরপরই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার প্রয়োজন ছিল। তিনি জানান, ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের পর নতুন করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির আবেদন গ্রহণ করা হবে না। ইতোমধ্যে যেসব আবেদন জমা পড়েছে, সেগুলো যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজনীয় যাচাই, তদন্ত ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতার যারা মুক্তিযোদ্ধা, তাঁদের সাথে হাজার হাজার অমুক্তিযোদ্ধা যুক্ত হয়েছে। এই আলোচনা এবং এই সমালোচনাটা এখন রাস্তাঘাটে, পত্রপত্রিকায় এবং সংসদে সব জায়গায় উঠে এসেছে যে, স্বাধীনতার সময়ে ৭১-এ শহীদদের তালিকা নিয়ে অনেক বিতর্ক। এই বিতর্কের কথা বলে আমাদের মহান নেত্রীও (খালেদা জিয়া) তখন মামলার আসামি হয়েছিলেন। এই বিষয়গুলো নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় কাজ করছে নির্মোহভাবে, দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে। আমরা এই বিষয়গুলোকে সঠিকভাবে যদি তুলে আনতে পারি, তাহলে আমরা মনে করি যে ইতিহাসের দায় থেকে আমরা নিজেদেরকে মুক্ত করতে পারব।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব ও আত্মপরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই ইতিহাসে কোনো ধরনের অসত্য, বিভ্রান্তি বা অসঙ্গতি থাকা উচিত নয়। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব। মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে আবেগ বা দলীয় বিবেচনার পরিবর্তে তথ্য, প্রমাণ ও নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাইকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। আগের রেজিমে এই মন্ত্রণালয় মুক্তিযোদ্ধা বানানোর ফ্যাক্টরি ছিল, সেটা আর হবে না।

মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর অস্ত্র লুট হওয়ার বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা একে একে সব বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে চাই। সকল বিষয় একত্রে ধরলে হয়তোবা আমরা কাজ করতে পারব না। আমরা স্টেপ বাই স্টেপ সব বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করব। এজন্যই তো ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে বাংলাদেশের মহান নেত্রী, দেশনেত্রী, গণতন্ত্রের নেত্রী, গণতন্ত্রের মাতা ম্যাডাম মরহুমা খালেদা জিয়া এই মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই মন্ত্রণালয়ের কাজ হবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়েই, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়েই কাজ করা।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আবু সাইয়েদ, বীরমুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) আমিনুল ইসলাম, ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত, মতিউর রহমান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, ড. রেদোয়ান আহমেদ, সাংবাদিক শাহেদ আলম, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান, রুহিন হোসেন প্রিন্স, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) জয়নুল আবেদীন এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

মতবিনিময় সভায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, শহীদদের তালিকা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের তালিকা নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, মুক্তিযুদ্ধের গবেষক, শিক্ষক, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন।

মৌসুমি বায়ুর বিদায়লগ্নে দুই দিন বৃষ্টির আভাস, সাগরে লঘুচাপ

নদী শাসনে আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর তাগিদ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ধাক্কায় আবারো ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি

ইউএনও-উপজেলা প্রশাসকদের জরুরি নির্দেশনা

দেশীয় পণ্যের প্রসারে বিসিক শরৎ মেলা শুরু

শহীদ আবরার স্মরণে গত বছর যা বলেছিলেন শহীদ ওসমান হাদি

চা খাতকে কৃষিতে নেওয়া সরকারের নীতির পরিপন্থী: জিল্লুর রহমান

দেশবিরোধী চুক্তির বিরুদ্ধে লেখালেখিই ছিল আবরারের অপরাধ: বাবা

ফ্রান্সের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ: এলজিআরডিমন্ত্রী

নারী ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির সুপারিশ