চালকের অদক্ষতা, অসচেতনতা, স্বেচ্ছাচারিতা এবং ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের কারণেই দেশে অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেন, জনগণের অসচেতনতা এবং একই সড়কে ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের যান চলাচলও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
রোববার রাজবাড়ী পৌর মিলনায়তনে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক আয়োজিত “সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চেক বিতরণ ও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গণসচেতনতামূলক অনুষ্ঠান”-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সড়কমন্ত্রী বলেন, আজকের এই আয়োজন মূলত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সংহতি ও সহমর্মিতা প্রকাশের জন্য। এটি আমাদের সামগ্রিক ব্যর্থতা এবং একটি জাতীয় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা।
তিনি বলেন, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে সংঘটিত মর্মান্তিক দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের হাতে এসেছে এবং প্রতিবেদনে চালকের ত্রুটি ও যানবাহনের সমস্যাকেই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকার বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্পের আওতায় চালকদের প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চোখ ও রক্তচাপ পরীক্ষা, মাদকাসক্তি শনাক্তকরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। “সড়ক নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলমান থাকবে,” বলেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী জনাব হাবিবুর রশীদ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য পরিবারের কান্না ও দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ। তিনি বলেন, সরকার সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং চালক, মালিক, যাত্রীসহ সকলকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, এ সহায়তা কোনো ক্ষতিপূরণ নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বেদনার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের একটি প্রয়াস।” তিনি দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণের জন্য মন্ত্রী মহোদয়ের প্রতি আহ্বান জানান এবং নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন জনাব রেজাউল করিম। তিনি বলেন, সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার কারণেই দুর্ঘটনার মাত্র ০১ মাস ২৪ দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সহায়তা পেয়েছে। তিনি তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
উল্লেখ, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে সংঘটিত বাস দুর্ঘটনাসহ জেলায় বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত মোট ৬২ জনের মধ্যে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
এএস