হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হার্টের রিং বা করোনারি স্টেন্টের (স্টেন্ট) পুনঃনির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নে দেশের হাসপাতালগুলোকে চিঠি দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ)। চিঠিতে হাসপাতালগুলোর জন্য ৪টি জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার অধিদপ্তর থেকে জারি করা এক চিঠিতে হাসপাতালগুলোকে স্টেন্টের নতুন নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নির্দেশনা এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আমদানিকৃত বিভিন্ন ধরনের করোনারি স্টেন্টের মূল্য পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের স্মারক অনুযায়ী, ট্যাক্স, ভ্যাট, বিভিন্ন চার্জ-কমিশন এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের যৌক্তিক মুনাফা বিবেচনায় নিয়ে স্টেন্টগুলোর নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য এর আগে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পরে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মূল্য পুনর্বিবেচনার আবেদন বিশেষজ্ঞ কমিটির সপ্তম সভায় পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের গঠিত বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির পঞ্চম ও ষষ্ঠ সভার সুপারিশের আলোকে স্টেন্টের দাম পুনর্র্নিধারণ করা হয়। এরপর গত ১৩ মে অনুষ্ঠিত কমিটির সপ্তম সভায় মূল্য সংক্রান্ত আপত্তি ও আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
চিঠিতে হাসপাতালগুলোর জন্য ৪টি জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, হার্টের রিংয়ের নতুন মূল্য তালিকা সংশ্লিষ্ট সকল হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে সর্বসাধারণের অবগতির জন্য প্রদর্শন করতে হবে। রিংয়ের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য বা এমআরপি অনুসরণ করে ক্রয়-বিক্রয় নিশ্চিত করতে হবে এবং এটিকে কোনোভাবেই চিকিৎসা প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না ।
চিঠিতে জানানো হয়, আমদানিকরা বিভিন্ন মডেলের হার্টের রিংয়ের দাম সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। ‘সিলিন কাভার্ড স্টেন্ট’ বা রিংয়ে দাম ১ লাখ ৯ হাজার ৮০০ টাকা থেকে কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২ হাজার টাকা। এছাড়া ‘ম্যাগমা র্যাপামাইসিন’ রিংয়ের দাম ৩৭ হাজার থেকে কমিয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২৮ ধরনের হার্টের রিংয়ের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৫ থেকে ১৯ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর ঘোষণা দেয়। তবে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও অনেক হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে পুরনো দামেই স্টেন্ট বিক্রির অভিযোগ ওঠে।