দেশের প্রতিটি জেলাকে পর্যায়ক্রমে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। এ লক্ষ্যে বর্তমানে দেশব্যাপী ৩ হাজার ৪২৮ কিলোমিটার রেলরুটের পাশাপাশি নতুন রেলপথ সম্প্রসারণে বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ চলমান রয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য জানানো হয়। কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম দেশের রেলপথের বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সরকারের রেল সম্প্রসারণের এই ভিশনের কথা সংসদে জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
অধিবেশনে সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান তার প্রশ্নে জানতে চেয়েছিলেন- বর্তমানে দেশে রেলপথের পরিমাণ কত, গেজ অনুযায়ী এর হিসাব এবং নতুন রেলপথ সম্প্রসারণের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না।
প্রশ্নের জবাবে সংসদে জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে মোট রেলওয়ে রুটের দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ৪২৮ দশমিক ০৯ কিলোমিটার এবং ট্র্যাকের দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ৮২৬ দশমিক ০৯ কিলোমিটার।
রুট হিসেবে দৈর্ঘ্যের বিভাজন:
মিটার গেজ: ১ হাজার ৫৯১ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার
ব্রড গেজ: ১ হাজার ৬৬ দশমিক ৬০ কিলোমিটার
ডুয়েল গেজ: ৭৭০ দশমিক ০৬ কিলোমিটার
ট্র্যাক হিসেবে দৈর্ঘ্যের বিভাজন:
মিটার গেজ: ২ হাজার ৩০৭ দশমিক ৩৮ কিলোমিটার
ব্রড গেজ: ১ হাজার ৪৩৪ দশমিক ১৯ কিলোমিটার
ডুয়েল গেজ: ১ হাজার ৮৪ দশমিক ৫২ কিলোমিটার
সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কে আনার পরিকল্পনা
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং রেলওয়ে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী দেশের সব জেলাকে পর্যায়ক্রমে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনার লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে সংসদে জানানো হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য বর্তমানে বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। সেগুলো হলো-
১. মধুখালী থেকে কামারখালী হয়ে মাগুরা শহর পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ।
২. বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ।
৩. শেরপুর ও রৌমারি রেলওয়ে কানেকটিভিটির জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা।
এছাড়া, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষে ‘নাভারণ থেকে সাতক্ষীরা হয়ে ভোমরা স্থল বন্দর পর্যন্ত নতুন ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ’ প্রকল্পটির উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) বর্তমানে অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
নতুন যেসব রেলপথের সমীক্ষা চলছে
রেলপথ আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার নতুন কয়েকটি রুটের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে অধিবেশনে জানানো হয়। এগুলো হলো-
নোয়াখালীর চৌমুহনী থেকে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ।
নেত্রকোনার ঝারিয়া ঝাঞ্জাইল থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ নকশা প্রণয়ন।
সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ।
ঢাকা হতে কুমিল্লা পর্যন্ত সরাসরি কর্ড লাইন নির্মাণ।
ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে নতুন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে দেশব্যাপী সব জেলাতে রেলপথ সম্প্রসারণ করা হবে বলে সরকারের এই প্রতিশ্রুতি সংসদে পুনর্ব্যক্ত করা হয়।