ঢাকা-১৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, তার স্ত্রীর ও ছেলের ৫০টি ব্যাংক একাউন্টে থাকা ১৯ কোটি ৪১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া এদিন দুর্নীতির মামলায় পিএসসির সাবেক ড্রাইভার সৈয়দ আবেদ আলী এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মহিবুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এছাড়াও কারাবন্দী সাদেক খানকে পরিবারসহ সাবেক এনবিআর সদস্য মতিউর রহমানের মেয়ে ইস্পিতার ও এস আলমের শ্যালক মোহাম্মদ আরশেদ এবং কেয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক পাঠানসহ দশ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন বিচারক।
সোমবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালত পৃথকভাবে এসব আদেশ দেন।
নিষেধাজ্ঞা জারি করা অপর পাঁচ জন হলো, সাউথইস্ট ব্যাংক গুলশান শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোরশেদ আলম মামুন, একই শাখার সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট রেজওয়ানুল কবির, অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট অমীয় কুমার মল্লিক এবং এভিপি ও ইনচার্জ অব এক্সপোর্ট ডিপার্টমেন্টের আশরাফুল ইসলাম।
এদিন দুদকের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম। তিনি বলেন, আদালত সাবেক এমপি সাদেক খানের ১৮টি, তার স্ত্রী ফেরদৌস খানের ৮টি ও ছেলে ফাহিম সাদেক খানের ২৪টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আদেশ দিয়েছেন। এছাড়া দুদকের অপর এক আবেদনে সাদেক খান ও পরিবার এবং কেয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক পাঠানসহ ১০ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন বিচারক।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, সাদেক খান ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভূমিদস্যুতাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৭ কোটি ৩০ লাখ ২০ হাজার ৬৬৪ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া তার ছেলে ফাহিম সাদেক খানের বিরুদ্ধে পিতার ক্ষমতা অপব্যবহার করে অবৈধ উপায়ে ৬ কোটি ১২ লাখ ৮১ হাজার ১৫২ টাকার সম্পদ অর্জন এবং ৭০টি ব্যাংক হিসাবে ২০ কোটি ৫২ লাখ ৩৫ হাজার ৪০৯ টাকা জমার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনে দুদক।
এদিকে সাদেক খানের স্ত্রী ফেরদৌস খানের বিরুদ্ধে স্বামীর ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ পন্থায় ৫ কোটি ৯৮ লাখ ৩২ হাজার ৫২১ টাকার সম্পদ অর্জন এবং ১৫১টি ব্যাংক হিসাবে ৭২ কোটি ৩২ লাখ ২৯ হাজার ১০৬ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়।
গত বছরের ২৪ আগস্ট রাজধানীর নাখালপাড়া এলাকা থেকে সাদেক খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।