সেমিনারে বক্তারা
মাদকদ্রব্য সহজলভ্য হওয়ায় মাদকসেবীর সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বক্তারা। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে যুব উন্নয়ন সংসদের উদ্যোগে ‘সামাজিক প্রতিরোধ, আইনের কার্যকর প্রয়োগ ও সচেতনতা : মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে যৌথ প্রয়াস’-শীর্ষক সেমিনারে অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। এ সময় বক্তারা বলেন, সহজলভ্য হওয়ায় শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীরা মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।
বক্তারা আরো বলেন, মাদক নির্মূলের জন্য সর্বপ্রথম সীমান্ত দিয়ে দেশে মাদক প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। কিন্তু সরকার সেটি করতে বরাবরই ব্যর্থ। সরকার এটি জেনেও বন্ধ করছে না। কারণ, এই মাদকের সঙ্গে সরকারের অনেক এমপি-মন্ত্রী জড়িত রয়েছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ব্যতীত মাদকের হাত থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করা যাবে না। তাই সবার আগে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। এছাড়া নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধের অভাবে মানুষ যাতে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে না পড়ে সেই পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে বক্তারা আহ্বান জানান।
রাওয়া ক্লাবের সভাপতি কর্নেল (অব.) আব্দুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ডিআইজি আনোয়ার হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক।
যুব উন্নয়ন সংসদের সদস্য সচিব ড. মোবারক হোসাইনের পরিচালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ, যুব উন্নয়ন সংসদের উপদেষ্টা যথাক্রমে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি মো. কামাল হোসেন এমপি, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে কর্নেল (অব.) আব্দুল হক বলেন, মাদকের সূত্রপাত হচ্ছে সিগারেট। অথচ এই সিগারেটই সরকার বাংলাদেশে বন্ধ করতে পারেনি। তিনি বলেন, মাদক এমনি-এমনি নির্মূল হবে না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যেখানে দুর্নীতিগ্রস্ত; সেখানে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এজন্য আগে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে হবে। দুর্নীতির সব অপরাধের উৎস।
সেমিনারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এএস