সংসদের ৫০ সংরক্ষিত নারী আসনের বিপরীতে সমসংখ্যক মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)। ফলে এ নির্বাচনে ভোটাভুটিতে যেতে হচ্ছে না ইসিকে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই। বাছাইয়ে সবাইর প্রার্থিতা বৈধ হলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় সংরক্ষিত নারী এমপিরা নির্বাচিত হয়ে যাবেন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনের যুগ্মসচিব ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন খান।
আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে এ পর্যন্ত ৫০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
মঈন উদ্দিন খান বলেন, এ পর্যন্ত ৫০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এরমধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামীর জোট থেকে ১৩টি এবং স্বতন্ত্র থেকে একটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।
ইসির যুগ্মসচিব মঈন উদ্দিন খান বলেন, এছাড়া আরও তিনজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- শাম্মা আক্তার, মোসাম্মদ মেহরুন্নেসা ও মাহবুবা রহমান। তারা কোনো দল বা জোট থেকে নয়, স্বতন্ত্রভাবে আবেদন করেছেন। তাদের বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের সময় বিস্তারিত জানানো হবে।
মঈন উদ্দিন খান আরও বলেন, তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। ২২ এপ্রিল বিকেল ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এবং ২৩ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। কমিশনের কাছে যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল বেলা ১১টা থেকে শেষ না হওয়া পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। প্রতীক বরাদ্দ হবে ৩০ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে শেষ না হওয়া পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা এবং সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে তা একই কি না—এ প্রশ্নের জবাবে মঈন উদ্দিন বলেন, প্রার্থীর দাখিল করা নথিপত্র পর্যালোচনা করে নিয়ম অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এ যে বিধান রয়েছে, সেটিই প্রযোজ্য। সেখানে প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া আছে।
এছাড়া কেউ যদি প্রজাতন্ত্রের লাভজনক কোনো পদে কর্মরত থাকেন (যেমন সরকারি কর্মকর্তা), তবে অবসর গ্রহণ বা পদত্যাগের পর কতদিন পর তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন—সেটিও আরপিওতে নির্ধারিত রয়েছে। এই বিষয়টিও মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের সময় বিবেচনা করা হয়।