চলমান দুর্যোগ, টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ ছয় দফা দাবিতে সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা করেছেন উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষার্থীরা।
বুধবার বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীতে বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এর আগে বেলা ১১টার দিকে তারা রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করলে আশপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ' তুমি কে, আমি কে, ফার্মের মুরগি,' ‘দফা এক, দাবি এক মিলনের পদত্যাগ’, ‘আমাদের ন্যায্য দাবি মানতে হবে, মানতে হবে’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’ এবং ‘অ্যাকশন, অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীরা বলেন, চলমান দুর্যোগ, জলাবদ্ধতা ও সার্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনেক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকেই নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি, আবার অনেক শিক্ষার্থী মানসিক চাপের মধ্যেও পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য হয়েছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় পুনঃপরীক্ষার সুযোগ, প্রশ্নে ভুল থাকলে পূর্ণ নম্বর প্রদান এবং মূল্যায়নে বিশেষ বিবেচনার দাবি জানান তারা।
তারা আরো বলেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থতার দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ছয় দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নেরও আহ্বান জানান। আর দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
শিক্ষার্থীদের ঘোষিত ছয় দফা দাবিগুলো হলো
১. দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষাগুলো পুনরায় দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ২. একই বিষয়ে পুনঃপরীক্ষা হলে পূর্বের পরীক্ষা ও পুনঃপরীক্ষার মধ্যে যে পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়া যাবে, সেটিই চূড়ান্ত ফল হিসেবে গণ্য করতে হবে। ৩. প্রশ্নপত্রে ভুল বা অসংগতি থাকা প্রশ্নের পূর্ণ নম্বর সব পরীক্ষার্থীকে দিতে হবে। ৪. বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে প্রস্তুতির জন্য কিছুদিন বিরতি দিয়ে পরে পরীক্ষা শুরু করতে হবে। ৫. হঠাৎ প্রশ্নপত্রের ধরন পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নম্বরায়ন করতে হবে। ৬. পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় কঠোর আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে।