হোম > জাতীয়

কেরানীগঞ্জে গ্যাস নেই সাত দিন, কলকারখানা বন্ধ

রাকিব হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ

ঢাকার কেরানীগঞ্জে সাত দিন ধরে গ্যাস নেই। গ্যাসের সংকট দীর্ঘদিনের হলেও গত সাত দিন ধরে একেবারেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না। শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা বন্ধ থাকার দৃশ্য দেখা গেছে। গ্যাস না থাকায় চাপ বাড়ছে বিদ্যুৎ ও এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ওপর। এলাকার বিভিন্ন জায়গায় এলপিজি সিলিন্ডারের সংকটও দেখা গেছে।

এ অবস্থায় এলাকাবাসীর চাপে রয়েছেন তিতাস গ্যাসের জোন-৫ (জিনজিরা) অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রতিদিনই তিতাসের অফিসে বিভিন্ন এলাকার শত শত মানুষ ভিড় করছেন। গ্যাস না পেয়ে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করছেন কেউ কেউ। এ কারণে গ্যাসবঞ্চিত সাধারণ মানুষের হামলার আতঙ্কে দিন কাটছে তিতাসের লোকজনদের। গত বৃহস্পতিবার তিতাস গ্যাসের জোন-৫ (জিনজিরা) অফিসে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এলাকাবাসী জানান, কেরানীগঞ্জে তিতাসের বৈধ গ্রাহকের চেয়ে অবৈধ গ্রাহকের সংখ্যা বেশি। ২০১৬ সালে কেরানীগঞ্জে বৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গত ১৫ বছরে মিল-ফ্যাক্টরি থেকে শুরু করে ওয়াশিং প্ল্যান্ট ও বহুতল ভবনে অবৈধ সংযোগ দিয়েছে কতিপয় অসাধু চক্র। যে কারণে সারা বছরই গ্যাসের সংকট লেগে থাকে। কিন্তু গত সাত দিন ধরে একেবারেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।

গ্যাস না পাওয়ায় তিতাসের ৫,৬৭৩টি শিল্প গ্রাহকের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে জানা যায়। সংকট দেখা দিয়েছে গ্যাস সিলিন্ডারেরও। জিনজিরার বাইরে অনেক দোকানে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি এবং সিলিন্ডার না পাওয়ার চিত্র দেখা গেছে।

১২ কেজি বেসরকারি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দাম এক হাজার ৫৯৮ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকায়। আগানগর, শুভাঢ্যা ও কালিন্দী ইউনিয়নের কয়েকটি দোকানে বসুন্ধরা এলপি গ্যাস, যমুনা এলপিজি, মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি, ইউনাইটেড আইগ্যাস, পেট্রোম্যাক্স এলপিজি, নাভানা এলপিজি ও টোটালগ্যাসের বোতল এক হাজার ৭০০ থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেরানীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি ফাতেমা আমিন একা জানান, গত সাত দিন ধরে জিনজিরাসহ কেরানীগঞ্জের নয়টি ইউনিয়নের কোথাও গ্যাস নেই। গ্যাসের জন্য হাহাকার চলছে। এলাকার মানুষ বিদ্যুতের চুলা ও এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছে। অনেকে লাকড়ির চুলায় রান্না করছেন। অনেকে আবার রেস্টুরেন্টের খাবারের ওপর নির্ভর করছেন। তিনি এজন্য সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন।

গ্যাস ঠিকাদার শাহ আলম জানান, কেরানীগঞ্জের গ্যাস বাড়ানোর জন্য কোন্ডা ইউনিয়নের পানগাও এলাকায় ডিআরএসএ বাল্ব পরিবর্তন করা হয়েছে। পরিবর্তনের পরও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ঢাকা শহরের গ্যাস সরবরাহ ঠিক রাখতে কেরানীগঞ্জের গ্যাস পাইপলাইন বন্ধ করা হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন জোন-৫, জিনজিরা অফিসের ম্যানেজার প্রকৌশলী বিধান চন্দ্র মৈত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাসাবাড়িতে চুলার জন্য সরবরাহ করা গ্যাসের চাপ সাধারণত খুব কম। গৃহস্থালির ক্ষেত্রে প্রায় ২০-৩০ এমবিএআর বা পাইপলাইনের প্রেসার ১০-১২ থাকে। বর্তমানে কেরানীগঞ্জের গ্যাস লাইনের প্রেসার ২ আছে। যে কারণে কেউ গ্যাস পাচ্ছে না। বড় ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধ রয়েছে।

এজন্য তিনি বার্নারের ছিদ্র বন্ধ, রেগুলেটর সমস্যা, পাইপ ভাঁজ বা লিক হওয়া, নিচু এলাকা হওয়া, গ্যাস লাইনে পানি ঢুকে যাওয়া এবং লাইনে চাপ কম থাকার কথাও স্বীকার করেন।

কেরানীগঞ্জে অসংখ্য অবৈধ তিতাস গ্যাসের লাইন রয়েছে এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে গত এক বছরে অর্ধশত অবৈধ লাইন বিচ্ছিন্ন করেছেন বলেও তিনি জানান।

কীভাবে প্রায় ৬০-৬৫ হাজার অবৈধ গ্যাসের লাইন ও চুলা এলাকায় চলছে—এ প্রশ্ন করা হলে ম্যানেজার বলেন, আমাদের অজান্তেই এগুলো হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সদস্যরা বিগত দিনে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ লাইন স্থাপন করেছেন।

এমই

প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে সচিবালয়ে রাত কাটাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

চিংড়ি রপ্তানিতে গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

হাইতিতে জাতিসংঘ মিশনে যাচ্ছে সেনাবাহিনীর ৫০ সদস্য

বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য চালকদের দক্ষ করে তুলতে হবে: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্য প্যাকেটে সতর্কতামূলক লেবেল চালুর দাবি

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাই সমাজে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত: জামায়াত এমপি

মক্কা-মদিনার সুরক্ষা ও পবিত্রতা রক্ষা করা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব

শিক্ষার্থীবিচ্ছিন্ন হওয়ায় নির্বাচন দিতে ভয় পায় ছাত্রদল: ফরহাদ

উপকূলে বৃষ্টির প্রবণতা, কমেছে তাপমাত্রা

ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ডিলার নিয়োগে আসছে নতুন নীতিমালা