হোম > প্রকৃতি ও পরিবেশ

তাপপ্রবাহের মধ্যে লঘুচাপে অতি ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস

স্টাফ রিপোর্টার

ছবি: সংগৃহীত

কয়েক দিনের অসহনীয় তাপপ্রবাহ আর ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করছিল জনজীবন। আকাশজুড়ে মেঘের আনাগোনা থাকলেও বৃষ্টির দেখা ছিল না বললেই চলে। অবশেষে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সারা দেশেই বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা চলমান তাপপ্রবাহকে পুরোপুরি প্রশমিত করে জনজীবনে স্বস্তি ফেরাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তীব্র গরমের ভয়াবহতার চিত্র উঠে এসেছে। কর্মজীবী মানুষ বলছেন, দিনের বেলায় রোদের তীব্রতা এবং রাতে ভ্যাপসা গরমের কারণে জীবনযাত্রা অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে।

ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী এম এম আকাশ জানান, গত কয়েক দিন ধরে বাতাসে আর্দ্রতা এত বেশি ছিল যে, সামান্য নড়াচড়াতেই শরীর ঘামছিল। ঘরের ফ্যানও যেন গরম বাতাস ছাড়াচ্ছিল। বৃষ্টির জন্য আমরা আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি।

একই সুর শোনা গেল শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষের কণ্ঠেও। পথচারী অনেকে জানান, প্রচণ্ড গরমের কারণে অসুস্থতা বাড়ছে। বয়স্ক ও শিশুদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। তারা বলছেন, এখন বৃষ্টির একটু ছোঁয়া পাওয়ার জন্য প্রতিটি মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও গত কয়েক দিন ধরে সাধারণ মানুষকে বৃষ্টির জন্য আকুলতা প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী হচ্ছে। এর প্রভাবে মৌসুমি বায়ু দেশের ওপর বেশ সক্রিয়। এতে সারা দেশেই বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও আগামী ৪৮ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।

এরই মধ্যে পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা এবং ভূমিধসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশের কোথাও ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেই তাকে ভারি এবং ৮৯ মিলিমিটার বা তার বেশি হলেই অতিভারি বৃষ্টি বলে গণ্য করা হয়।

সংস্থাটি বলছে, সারা দেশে তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। এতে চলমান মৃদু তাপপ্রবাহ প্রশমিত হতে পারে।

খরার আশঙ্কায় থাকা কৃষকদের মধ্যেও বৃষ্টির খবরে স্বস্তি ফিরেছে। চলতি আমন মৌসুমে বীজতলা তৈরি ও ধান রোপণের জন্য এই বৃষ্টিকে ‘নিয়ামত’ হিসেবে দেখছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। সময়মতো বৃষ্টিপাত হলে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তারা।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর এবং নদী বন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্কসংকেত মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ এই সময়ে উপকূলীয় বাসিন্দাদের এবং পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রকৃতিতে বৃষ্টির ছোঁয়া আসা কেবল তাপপ্রবাহ কমাতেই সাহায্য করবে না, বরং জনজীবনে দীর্ঘদিনের জমে থাকা অস্বস্তি কাটিয়ে এক প্রশান্তির আমেজ নিয়ে আসবে বলে মনে করছেন নগরবাসী।

আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক জানান, লঘুচাপের প্রভাবে মৌসুমি বায়ু দেশের ওপর বেশ সক্রিয় থাকায় আজ থেকেই সারা দেশে কমবেশি বৃষ্টি হতে পারে; তবে সিলেট, চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় অঞ্চলে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এমবি

আগামী ৩ দিন ভারী বৃষ্টি হতে পারে যেসব অঞ্চলে

বৃষ্টি বেড়ে দিনের ভ্যাপসা গরম কমেছে, আরো কয়েক দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস

সাত অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত

ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্র বৃষ্টি নামতে পারে ১২ অঞ্চলে

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, সারা দেশে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ঘনীভূত, ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

লঘুচাপের মধ্যেও দেশজুড়ে ভ্যাপসা গরমের দাপট

ঢাকায় আজও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, অপরিবর্তিত থাকতে পারে তাপমাত্রা

ভ্যাপসা গরমে জনজীবন হাঁসফাঁস, বৃষ্টি বাড়বে কবে থেকে

উপকূলে ঝোড়ো হাওয়ার শঙ্কা, ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেত