হোম > প্রকৃতি ও পরিবেশ

দেশজুড়ে ভ্যাপসা গরমে চরম অস্বস্তি

জুনে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার পূর্বাভাস

স্টাফ রিপোর্টার

ছবি: সংগৃহীত

আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রথম দিকেই জানানো হয়েছিল এবার বর্ষা মৌসুম জুন-জুলাই মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হতে পারে। সংস্থাটির সেই পূর্বাভাসই যেন সত্যি হতে চলছে। জুনের শুরুতে যেখানে প্রচুর বৃষ্টি হওয়ার কথা সেখানে দেশজুড়ে চলছে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলতি জুন মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

জুনের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়া পূর্বাভাসে সোমবার আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, এ মাসে দুই থেকে তিনটি ‘মৃদু’ থেকে ‘মাঝারি’ তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তাপপ্রবাহ চলাকালে কিছু এলাকায় তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

এই পূর্বাভাস এমন এক সময় এলো, যখন সোমবার টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলা ছাড়াও বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা, রাজশাহী বিভাগের আট জেলা, রংপুর বিভাগের আট জেলা এবং খুলনা বিভাগের ১০ জেলাসহ মোট ৪০ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

সংস্থাটির পূর্বাভাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, জুন মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকতে পারে। এ সময় বিচ্ছিন্নভাবে একাধিক মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। বর্ষার আগমন ঘটলেও স্বাভাবিকের চেয়ে এবার বৃষ্টিপাত তুলনামূলক কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মাসের প্রথমার্ধেই সারা দেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা বিস্তার লাভ করবে। এ মাসে পাঁচ থেকে সাত দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রঝড় হতে পারে।

এছাড়া বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ সময় বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় অস্বস্তিকর গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।

অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক আমার দেশকে বলেন, জুন মাসে দুই থেকে তিনটি তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে চলমান তাপপ্রবাহ অন্তর্ভুক্ত আছে। এ মাসে দেশে বিছিন্নভাবে একাধিক তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

দেশের কোথাও তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম হলে সেটিকে ‘মৃদু তাপপ্রবাহ’ ধরা হয়। ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রির কম তাপমাত্রাকে বলা হয় ‘মাঝারি’ এবং ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রির কম তাপমাত্রাকে ‘তীব্র তাপপ্রবাহ’ বলা হয়। তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির ওপরে উঠলে সেটিকে ধরা হয় ‘অতি তীব্র তাপপ্রবাহ’।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, আবওহাওয়া অধিদপ্তর জুন মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে। ফলে এ মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থেকে বেশি থাকতে পারে।

জুনে বঙ্গোপসাগরে একটি থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এর মধ্যে একটি পরিণত হতে পারে মৌসুমি নিম্নচাপে। মাসের প্রথমার্ধে সারা দেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষার বিস্তার থাকবে। এ মাসে দেশে পাঁচ-সাত দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রঝড়ও হতে পারে।

জুন মাসের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে অধিদপ্তর বলছে, এ মাসে দেশের প্রধান নদ-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান থাকতে পারে। তবে বিচ্ছিন্ন ভারি বৃষ্টিপাতের প্রেক্ষিতে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীর পানি সমতল সময় বিশেষে বাড়তে পারে।

এদিকে দেশের ৪০ জেলার ওপর দিয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো গতকাল সোমবার তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। এতে তীব্র ভ্যাপসা গরমে জনজীবনে চরম অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত এই অবস্থা থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

তাপপ্রবাহের সঙ্গে বাতাসে বেশি আর্দ্রতার কারণে সারা দেশে অসহনীয় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের লোডশেডিং বাড়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অসহনীয় গরমে ছটফট করছে মানুষ। আগামী দুই দিন তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল খুলনায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস । এদিন রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন রোববার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং রাজধানীতে ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক আমার দেশকে আরো বলেন, আগামী ৪ জুন থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়ে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা প্রশমিত হতে পারে। তিনি বলেন, ৫ জুনের পর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমা মৌসুমীবায়ু সক্রিয় হয়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়ে স্বস্তি দেখা দিতে পারে।

সংস্থাটি বলছে, আগামী দুদিন দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এছাড়া আগামী পাঁচদিনে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু টেকনাফ উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হয়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির আমার দেশকে বলেন, আগামী ৫ জুন বা এর কাছাকাছি সময় থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমা মৌসুমি বায়ু টেকনাফ উপকূল দিয়ে অগ্রসর হয়ে দেশের ভেতরে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে সারা দেশে সক্রিয় হতে পারে। এতে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়ে বর্ষাকালের আমেজ শুরু হতে পারে।

সোমবার রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি না হলেও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সর্বোচ্চ রাঙামাটি ও কুমিল্লায় ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া দেশের অধিকাংশ এলাকায় কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। এর আগের দিন কক্সবাজারে সর্বোচ্চ ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছিল। ওইদিনও রাঙামাটি, বান্দরবন ও কক্সবাজার ছাড়া রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায়ও কোনো বৃষ্টি হয়নি। আগামী দুই দিনে বৃষ্টির প্রবণতা আরো কমতে পারে।

এমবি

সন্ধ্যার আগে দুই জেলায় ঝড়ের সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত

বৃষ্টি কমে ৩৭ জেলায় তাপপ্রবাহ, দেশজুড়ে ভ্যাপসা গরম

গরম নিয়ে নতুন বার্তা আবহাওয়া অফিসের

বৃষ্টিপাত কমলেও তীব্র ভ্যাপসা গরমের আশঙ্কা নেই

সন্ধ্যার মধ্যে যেসব অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টি ও ঝড়ের আভাস

৫ জুন থেকে দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়বে

বায়ুদূষণের শীর্ষে রিয়াদ, ঢাকার বাতাস সহনীয়

৫ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা

২৪ ঘণ্টার মধ্যে সারা দেশে ভারি বর্ষণের শঙ্কা

দেশের ৮ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস