হোম > মতামত

শেখ হাসিনার সেই আদালত অবমাননা

এম এ নোমান

১৯৯৯ সালের ৪ মার্চ। এদিন প্রধান বিচারপতি এ টি এম আফজলের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করে। রায়টি ছিল আদালত অবমাননার মামলার। যে মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ শুনানি শেষে শেখ হাসিনাকে ‘রং হেডেড’ ঘোষণা করে সাংবিধানিক কার্যক্রম নিয়ে উপস্থিত মন্তব্য করার বিষয়ে অধিক সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেয় আদালত। সর্বোচ্চ আদালতের এমন একটি রায়ের পর প্রধানমন্ত্রীর আসনে থাকা বাঞ্ছনীয় নয়। বিরোধী দলগুলো তাকে পদত্যাগের দাবি জানালেও তিনি পদত্যাগ করেননি। বরং প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে আদালত অবমাননা হয় এমন আরও মন্তব্য করেন।

আপিল বিভাগের সেই ঐতিহাসিক রায়ের পর হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ আবারও আদালত অবমাননাকর মন্তব্যের জন্য ২০০০ সালের ২৪ অক্টোবর অন্য তিনটি আদালত অবমাননার মামলার রায়েও শেখ হাসিনাকে ‘রং হেডেড’ ঘোষণা করে তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করেন। তরপরও দেশের প্রধানমন্ত্রীর আসনে ছিলেন শেখ হাসিনা।

অভিযুক্ত ব্যক্তি সাংবিধানিকভাবে প্রজাতন্ত্রের প্রধান নির্বাহী! এমন যখন অবস্থা, তখন গণমাধ্যমে গুরুত্ব পায় অভিযোগের শুনানি। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে আদালতে উপস্থিত থেকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের শুনানি থেকে সংবাদ প্রতিবেদন করার সুযোগ পেয়েছিলাম আমিও। পর্যবেক্ষণসহ আপিল বিভাগের রায়টি ঢাকা ল রিপোর্টের ৫১ ডিএলআর (এডি) ৬৮ অধ্যায় স্থান পেয়েছে। আর হাইকোর্ট বিভাগের রায়টি ৫৩ ডিএলআর (২০০১)-এ স্থান পায়।

এরপর পার হয় সময়, হয় ক্ষমতার পালাবদল। তারপর আবার ক্ষমতায় আসেন সেই ‘রং হেডেড’খ্যাত শেখ হাসিনা। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন তাকে ক্ষমতায় বসালে তিনি এক তরফা, দিনের ভোট রাতে ও ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে চড়ে বসেন দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের কাঁধে। টানা সাড়ে ১৫ বছরের মসনদকে কাজে লাগান স্বেচ্ছাচারিতায়। তাই ২০২৪ সালে এসে উচ্চ আদালতের রায়ের এ ‘রং হেডেড’ প্রসঙ্গটি শতভাগ প্রাসঙ্গিক বলে হয়ে ওঠে। এর যৌক্তিক আরও কারণও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে কথা বলার ক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্ক থাকার নির্দেশনা থাকলেও শেখ হাসিনা তা মেনে চলতে পারেননি স্বভাবগত কারণে। তার অসংলগ্ন ও অসংযত নানা উক্তি দেশবাসীর মনে রসাত্মক আলোচনার খোরাক জোগাত। নতুন নতুন রেসিপি দিয়েও তিনি আলোচনায় থাকতে পছন্দ করতেন।

আদালত অবমাননার চাঞ্চল্যকর সেই অভিযোগ

সরকারি একটি সফর শেষে ভারত থেকে দেশে ফিরে ১৯৯৯ সালের ২৯ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা অপ্রাসঙ্গিকভাবে দেশের উচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে বলেন, গত ২৫ ও ২৬ আগস্ট দুদিনে হাইকোর্টে ১২০০ মামলার জামিন হয়েছিল। এটা কখনো হতে পারে না। এরপর কোর্ট পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু প্রধান বিচারপতি এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেননি। বাংলাদেশের হাইকোর্টের এমন অবস্থা করে রেখে গেছে আগের সরকার যে, দুদিনে ১২০০ মামলার জামিন হয়ে যায়। কীভাবে হলো, কেন হলো? এটা কোনো দিন হয়? এটা প্রধান বিচারপতির দৃষ্টিতে আনা হয়েছে। যদিও কোর্ট চেঞ্জ করা হয়েছে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা তিনি নেননি। যদি তদন্ত করা হতো এবং ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তবে জুডিশিয়ারি অনেক দায়-দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেত। জুডিশিয়ারি সম্পর্কে মানুষের কোনো সন্দেহ দেখা দিত না। পরদিন শেখ হাসিনার এ বক্তব্য দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়।

শেখ হাসিনার এ বক্তব্য স্পষ্টভাবেই আদালত অবমাননা- এমন অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির তৎকালীন সভাপতি হাবিবুল ইসলাম ভূঁইয়া প্রধান বিচারপতি বরাবর আবেদন করেন। আবেদনের সঙ্গে তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের কাটিংও জমা দেন।

আপিল বিভাগ আবেদনটি গ্রহণ করে শুনানি গ্রহণ করেন। শুনানিতে প্রধান বিচারপতি এ টি এম আফজাল, বিচারপতি মোস্তফা কামাল, বিচারপতি লতিফুর রহমান, বিচারপতি বি বি রায় চৌধুরী ও এ এম মাহমুদুর রহমান অংশ নেন।

কী ছিল আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণে

আইনজীবীদের দীর্ঘ শুনানি শেষে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ১৯৯৯ সালের ৪ মার্চ সর্বসম্মতভাবে অভিযোগের নিষ্পত্তি করে রায় দেন। পর্যবেক্ষণের শুরুতেই আপিল বিভাগ অভিযোগের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি উল্লেখ করেন। এতে বলা হয়েছে, ‘সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ও সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতির সভাপতি হাবিবুল ইসলাম ভূঁইয়া আপিল বিভাগে একটি আবেদন দাখিল করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনেন। কর্মরত প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অভিযোগ আনতে গিয়ে অ্যাডভোকেট হাবিবুল ইসলাম ভূঁইয়া নিজেকে কোর্টের একজন কর্মকর্তা হিসেবে আবার উল্লেখ করে গত ১৯৯৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এই আবেদন করেন। আবেদনে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে এই অভিযোগ করা হয়, কথিত বিবৃতিগুলো সুস্পষ্টভাবে আদালত অবমাননার শামিল। কেননা তিনি ভালোভাবেই জানেন, এ ধরনের বিবৃতি সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞ বিচারপতিরা ও বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির ন্যায়পরায়ণতা ও বিচক্ষণতা নিয়ে জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি করবে। তবু তিনি এ ধরনের মিথ্যা বিবৃতি দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞ বিচারপতিরা ও বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির উচ্চ ভাবমূর্তি এবং অভিযোগ করার অযোগ্য ন্যায়পরায়ণতা ও বিচক্ষণতাকে সচেতনভাবে খর্ব করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আবেদনকারী সুষ্ঠু বিচারের প্রার্থনা জানিয়েছেন।

আবেদনের বিষয়ে আদালত বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে আনা আদালত অবমাননার মামলাটি দেখলাম। অ্যাটর্নি জেনারেলকে অবহিত করে ১৯৯৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে শুনানির জন্য আবেদনটি আমরা তালিকাভুক্ত করি। প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদার কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে এ রকম সন্দেহজনক বিবৃতি দেখে আমরা অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছি। হাইকোর্টের কার্যক্রম সম্পর্কে জ্ঞাত কোনো ব্যক্তির পক্ষে এ রকম মন্তব্য করা একেবারেই অসম্ভব। বিচারকদের এ রকম হারে জামিন দেওয়ার ক্ষমতা থাকলে আদালতে এত কাজ জমা থাকত না। আমাদের সন্তুষ্টির জন্য বিষয়টি পরীক্ষা করে আমরা দেখেছি, বর্ণিত দুদিনে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ কর্তৃক রুল ও জামিনের সংখ্যা মোট (৮৩+৭২)=১৫৫ এবং আগাম জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সংখ্যা (২১৯+১৪৮) =৩৬৭।

করা হলো সতর্ক

পর্যবেক্ষণ শেষে আদালত তার রায়ে উল্লেখ করেন, আদালত অবমাননার বিচারের জন্য আমাদের কাছে পেশ করা ঘটনাবলির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে গিয়ে আমরা লর্ড অ্যাটকীনের বাণী এখানে উদ্ধৃত করছি। আদালতে আমরা সর্বদাই ‘রং হেডেড’-সংক্রান্ত এ বাণী মেনে চলি।

লর্ড অ্যাটকীন বলেছেন, ‘… The path of critism in a public way; The wrongheaded are permitted to carr therein; provided that members of the public abstain from imputing improper motives to those taking part in the administration of justice, and are genuinely exercising a right of criticism and not acting in malice or attempting to impair the administration of justice is not a cloistered virtue; she must be allowed to suffer the security and respectful even though outspoken comments of ordinary men.’

সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে লক্ষ রাখতে হবে, প্রধানমন্ত্রীকে তার পদ থেকে সাংবিধানিক কার্যক্রম নিয়ে উপস্থিত মন্তব্য করার ব্যাপারে আরও সতর্ক হতে হবে বলে আদালত আশা করেন। এসব কারণে উপরোক্ত মন্তব্যের আলোকে আবেদনটি নিষ্পত্তি করা হলো।

বিবিসিকে ইন্টারভিউ, হাইকোর্টে ৩ আবেদন

আপিল বিভাগের শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের নিষ্পত্তির পরের বছর ২০০০ সালের ২৭ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিবিসিকে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন। ওই সাক্ষাৎকারে একটি প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘দেখুন, যে দেশে খুনিকে সহযোগিতা করা হয়, খুনিকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়, খুনিদের বিচার হয় না, সে দেশে হত্যা-খুন চলবে। সমস্যা হচ্ছে, পুলিশ কষ্ট করে আসামিদের ধরে। তখনই আসামিদের হাইকোর্ট থেকে জামিন দেওয়া হয়। কোর্ট থেকে জামিন দেওয়া হয়। লোয়ার কোর্ট বলেন তো হাইকোর্ট বলেন, যেখানেই যাক সে দুর্নীতিবাজ হোক আর আসামিই হোক, তাদের জন্য যেন একটা নিরাপদ আশ্রয়স্থল হচ্ছে কোর্ট। যখনই যাচ্ছে, তারা জামিন পেয়ে যাচ্ছে। আর এই জামিন পেয়ে ফিরে এসেই হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। আমি তো মনে করি, যে উকিল তার জন্য জামিন চাচ্ছেন, সেই উকিলকেও ধরা উচিত এবং কোন কোর্ট জামিন দিচ্ছে, তারও জবাবদিহি করা উচিত। এটা যতক্ষণ পর্যন্ত এ দেশে প্রতিষ্ঠিত না হবে আর অপরাধী যতক্ষণ পর্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না পাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না পাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এখন থেকে এই পরিস্থিতিকে উন্নত করা অত্যন্ত কঠিন।’

আদালতের বিষয় নিয়ে বিবিসিকে দেওয়া বক্তব্য আদালত অবমাননার শামিল উল্লেখ করে হাইকোর্টে তিনটি আবেদন পেশ করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষে প্রথম আবেদনটি করেন বারের সভাপতি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। দ্বিতীয় আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের ৩৩৮ আইনজীবীর পক্ষে ব্যারিস্টার রফিক উল হক। তৃতীয় আবেদন করেন ১১০ জন সংসদ সদস্যের পক্ষে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। আদালতের নির্দেশে তিনটি আবেদনের একসঙ্গে শুনানি হয়।

হাইকোর্টের রায়েও ‘রং হেড’ প্রসঙ্গ

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হওয়া তিনটি আবেদনের শুনানির পর ২০০০ সালের ২৪ অক্টোবর বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হক ও বিচারপতি মো. আবদুর রশিদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণসহ রায় ঘোষণা করেন। হাইকোর্ট তার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘আইন পেশা ও বিচার বিভাগ এখন ইতিহাসের ভয়াবহ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছে।’

অন্য এক পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বিচারকরা শুধু নিজেদের বিবেকের কাছেই নন, সংবিধান এবং সর্বোপরি সংবিধানপ্রণেতা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।’

এ মামলার রায়ের হাইকোর্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের ১৯৯৯ সালের ৪ মার্চের দেওয়া আপিল বিভাগের রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। এ বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, ‘বিচার বিভাগের বৃহত্তর স্বার্থে আমরা প্রধান বিচারপতি এ টি এম আফজালের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করলাম।’

৩৬ দিনের আন্দোলনে ‘রং হেডেড’র প্রভাব

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন গড়ে তোলেন। এ আন্দোলনে নতুনমাত্রা যোগ করে শেখ হাসিনার একটি অযাচিত মন্তব্য। শিক্ষার্থীরা যখন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিলেন, সেই পর্যায়ে গত ১৪ জুলাই শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছিলেন। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি রাজাকার শব্দও ব্যবহার করেছিলেন। এতে তার একগুঁয়েমি ও অহঙ্কারের বিষয়টিই প্রকাশ পেয়েছিল। এতে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমাতে শেখ হাসিনার নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেপরোয়াভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হলে আন্দোলন সারা দেশে অগ্নিগর্ভ রূপ ধারণ করে। আন্দোলনে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রায় দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দেওয়া এক পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ২০ হাজারের বেশি মানুষ। অনেক আজীবনের জন্য পঙ্গু হয়েছেন।

ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে পুরো পরিবারের সবাইকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন। ভারত থেকেও তার কয়েকটি টেলিফোন বার্তা ফাঁস হয়েছে। এসব অডিও বার্তায় দলের যেসব হুমকি, ধমকি ও জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দেওয়ার কথা প্রকাশ পেয়েছে, তা যেকোনো সুস্থ মানুষের বৈশিষ্ট্যের পরিপন্থী। এগুলোও রং হেডেড ব্যক্তির বক্তব্য বলেই মনে হতে পারে।

তথ্যসূত্র : ঢাকা ল রিপোর্টের ৫১ ডিএলআর (এডি) ৬৮ অধ্যায় এবং ৫৩ ডিএলআর (২০০১)

লেখক : বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক আমার দেশ

বিপ্লব অস্বীকার করলে ক্ষমতার ন্যায্যতা থাকবে না

বিরোধী রাজনীতিতে জামায়াতের নতুন সমীকরণ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ থেকে বাংলাদেশের শিক্ষা

দুবাইয়ের খাঁচায় এক ‘ফ্রাংকেনস্টাইন’ এবং একটি চিঠির হাহাকার

রিজার্ভ চুরি : আর কত সময়ক্ষেপণ

স্মৃতির পাতায় শিল্পের মহিরুহ মুস্তাফা মনোয়ার

ডিজিটাল পর্দার ফাঁদে শিশু : সংকট ও করণীয়

তিস্তায় বন্ধুত্বের হাত চীনের

অভ্যন্তরীণ অভিবাসন : সংকটে নগর অবকাঠামো

ড. ইউনূস ‘ভিলেন’ নাকি ‘ক্রান্তিকালীন নায়ক’