খানের আখ্যান
সুইডিশ সাংবাদিক বার্টিল লিন্টনারের কথা মনে আছে? বেচারা এখন বুড়ো হয়েছেন। সত্তরের বেশি বয়স হবে। হয়তো এখন কোথাও অবসরজীবন কাটাচ্ছেন। ২৩-২৪ বছর আগে ২০০২ সালে তার এক লেখায় বাংলাদেশে ভূমিকম্পের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। তখন তার বয়স পঞ্চাশের কোঠায়। ‘ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ’ নামে হংকং থেকে তখন একটা নামকরা ইংরেজি কাগজ বেরুত। ১৯৪৬ সাল থেকে প্রকাশিত ওই সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনটির প্রকাশনা ২০০৯ সালে বন্ধ হয়ে গেছে। তারও আগে ২০০৪ সালে পত্রিকাটি মাসিক সাময়িকীতে রূপান্তরিত হয় এবং সে হিসেবেই টিকে ছিল ২০০৯ সাল পর্যন্ত। মূলত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যক পত্রিকা হলেও ফির (FEER) এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের রাজনীতি ও সংস্কৃতি নিয়েও সাড়াজাগানো বিভিন্ন রিপোর্ট করত। লিন্টনার ছিলেন ওই কাগজের বার্মা করেসপনডেন্ট। তিনি বাংলাদেশ নিয়ে এক ভয়ানক লেখা লিখলেন। সেটা ছাপা হলো ‘ফির’-এর কভার স্টোরি হিসেবে। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল-‘বাংলাদেশ : এ ককুন অব টেরর’। এ রিপোর্ট বাংলাদেশের শাসন-প্রশাসনে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের মতো আঘাত হানে।
সেটা ২০০২ সাল। ৪ এপ্রিল ওই প্রচ্ছদ প্রতিবেদন বেরোয় ‘ফির’-এ। খুব নাজুক সময় সেটা। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট ভূমিধস বিজয় অর্জন করে। বেগম খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী করে গঠিত সরকারের বয়স তখনো ছয় মাসও পূরণ হয়নি। তখনই এলো এই আঘাত। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বাংলাদেশকে একটি ‘মডারেট মুসলিম ডেমোক্রেসি’ হিসেবে দৃঢ় সমর্থন জানানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন। নির্বাচনী প্রচারাভিযান চলার সময়ে বাংলাদেশ সফরে এসে আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারও একই ধরনের মনোভাব ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু এখানকার নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে আমেরিকায় ঘটে যায় এক গুরুতর ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ার নামে খ্যাত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার গুঁড়িয়ে যায় এক ভয়ংকর হামলায়। যাত্রীবিমান ছিনতাই করে পরিচালিত ওই আত্মঘাতী হামলা আরো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় চালানো হয়। ইসলামি বিপ্লববাদী জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা সেই হামলার দায় স্বীকার করে। ১১ সেপ্টেম্বর সকালবেলার ওই হামলাকে আমেরিকানরা ‘নাইন-ইলেভেন’ নামকরণ করে। প্রায় তিন হাজার মানুষ তাতে প্রাণ হারায়। ওই হামলা বদলে দেয় পুরো বিশ্বপরিস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ইসলামি জঙ্গিবাদ দমনে গ্লোবাল ওয়ার অন টেরর (GWOT) বা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিশ্বযুদ্ধ ঘোষণা করেন। সর্বব্যাপী ও সর্বাত্মক এই যুদ্ধ শুরু হয় সব ফ্রন্টে। পশ্চিমি দুনিয়ার শত্রু-মিত্র বদলে যায়। ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক ঘৃণা, বিদ্বেষ ও বিভক্তি তীব্র হয়ে ওঠে। পাশ্চাত্যের রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা ইসলাম ও মুসলিম সম্প্রদায়কে সন্ত্রাসের সমার্থক বলে প্রচার শুরু করেন। মার্কিন অধ্যাপক স্যামুয়েল পি হান্টিংটন ১৯৯৬ সালে মুসলিম সভ্যতাকে পাশ্চাত্যের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে ‘ক্ল্যাশ অব সিভিলাইজেশন’ নামে এক বই লিখেছিলেন। নাইন-ইলেভেনের পরে ওই তত্ত্ব ওয়েস্টার্ন ওয়ার্ল্ড ব্যাপকভাবে গ্রহণ করে। GWOT নামে মূলত চলতে থাকে মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ।
ওই রকম একটি স্পর্শকাতর সময়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এ ধরনের একটি প্রতিবেদনের প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া ছিল মারাত্মক। দাবানলের মতো সর্বত্র এ বার্তা ছড়িয়ে পড়ে, বাংলাদেশ ইসলামি জঙ্গিবাদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। লিন্টনার তার লেখায় কেবল অভিযোগ করেই ক্ষান্ত হননি, কী করতে হবে সে পথও বাতলে দেন। লিন্টনার লেখেন: ‘Rising fundamentalism and religious intolerance are threatening secularism and moderate Islam. The implications for the region and beyond are grave, but it's not too late for a counter-revolution.’ লিন্টনার রায় দিয়েছিলেন, সেক্যুলারিজম ও মডারেট ইসলামের প্রতি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে মৌলবাদের উত্থান ও ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা। কেবল বাংলাদেশ নয়, এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে পুরো অঞ্চল ও তার বাইরেও। তাই পালটা অভ্যুত্থান ঘটানোর প্রেসক্রিপশন দিয়ে লিন্টনার লেখেন, ‘সে সময় এখনো একেবারে চলে যায়নি।’ অর্থাৎ লিন্টনার প্রকাশ্যেই পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি বাংলাদেশের সরকারকে উৎখাত করার ডাক দিয়েছিলেন। সেই থেকে শুরু। পাশ্চাত্যের বিভিন্ন প্রভাবশালী সব মিডিয়ায় কোরাস শুরু হয় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। ভারতীয় ও জায়নবাদী মিডিয়াও যুক্ত হয় তাদের সঙ্গে। তরুণ সাংবাদিক অ্যালেক্স পেরি ২০০২ সালেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আরেক গুরুতর আর্টিকেল লেখেন বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনে। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত ‘ডেডলি কার্গো’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে পেরি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ আল-কায়েদাসহ ইসলামি জঙ্গিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে তৎপর কিছু দাতব্য সংস্থা আল-কায়েদার জন্য গোপনে অর্থ সংগ্রহ করেছে এবং জঙ্গি তৎপরতায় মদত দিচ্ছে। বাংলাদেশের উপকূল ও পাহাড়ি অঞ্চলে জঙ্গিরা আস্তানা গেড়ে তাদের শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে।
বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণামূলক প্রতিটি আর্টিকেলেই জঙ্গিবাদের প্রতি সরকারের প্রত্যক্ষ বা প্রচ্ছন্ন আশকারা দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। বাংলাদেশ সরকার এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করার নীতি গ্রহণ করে। ফির ও টাইমের সংশ্লিষ্ট সংখ্যা বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হয়। এই নীতি আমার বিবেচনায় খুব কার্যকর ছিল না। তবু সরকারের নীতিনির্ধারক, পরামর্শদাতা, থিংক ট্যাংক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ওই অস্বীকার ও লুকানোর নীতিতে অটল থাকে। তারেক রহমান তখন বিএনপির সিনিয়ির যুগ্ম মহাসচিব হয়েছেন। নির্বাচনের সময় বনানীর ‘হাওয়া’ নামের ভাড়া বাসায় চেয়ারপারসনের জন্য যে অফিস নেওয়া হয়েছিল, তারেক রহমান সেখানে বসে গবেষণা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতেন। তিনি সে সময় মিডিয়ার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বাংলাদেশে ইসলামি জঙ্গিবাদের সমর্থকদের তৎপরতা আছে। তবে তারা তেমন শক্তিশালী নয়, তাদের তেমন জনসমর্থনও নেই। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে তাদের যোগসূত্রের ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। তবে আমরা কোনো ধরনের উগ্রবাদ বা চরমপন্থাকে প্রশ্রয় দেব না।
আমার নিজের ধারণা, তারেক রহমানের ওই অবস্থান সঠিকই ছিল। কিন্তু ডিপ স্টেট ও এস্টাব্লিশমেন্ট তাতে সায় দিতে মোটেও রাজি ছিল না। তারা এ বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। আমাকেও অনেকে বলেন, আমি যেন এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিই। অবশেষে তারেক রহমান প্রেস কনফারেন্স ডেকে একটি ব্যাখ্যা দিয়ে তার মন্তব্য থেকে সরে আসেন। পরে অবশ্য সরকারের পক্ষে অস্বীকারের নীতিতে অনড় থাকা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন জঙ্গি গ্রুপ তাদের তৎপরতা বাড়িয়ে ক্রমেই প্রকটভাবে দৃশ্যমান করে তুলতে থাকে। উত্তরাঞ্চলে বামপন্থি ‘সর্বহারা’ গোষ্ঠীর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এই তৎপরতার প্রতি কয়েকজন মন্ত্রীর অনুমোদনের অভিযোগ ওঠে। ছদ্মনামের দুই জঙ্গিনেতা শায়েখ আবদুর রহমান ও বাংলা ভাইয়ের নাম সবখানে ছড়িয়ে পড়ে। সরকারের শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষনেতা ও মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ‘বাংলা ভাই মূলত মিডিয়ার সৃষ্টি’ বলে একটি মন্তব্য করার পরপরই সরকার-সমর্থক একটি টিভি চ্যানেলে বিএনপির অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে পরিচিত এক রিপোর্টার লুকিয়ে থাকা ‘বাংলা ভাই’কে জবরদস্ত বিপ্লবী ভূমিকায় উপস্থাপন করে তার সাক্ষাৎকার নিয়ে তা প্রচার করেন। এতে এক লেজে-গোবরে অবস্থা সৃষ্টি হয়। সরকার জনসমর্থন সংগঠিত করে কঠিন হাতে জঙ্গিবাদ দমনের উদ্যোগ নিলেও সে উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনে ব্যর্থ হয়।
বাংলাদেশবিরোধী ওই আন্তর্জাতিক অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও পররাষ্ট্র দপ্তরের তেমন কোনো কার্যকর ভূমিকাই ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে আমি আমার দায়িত্বের বাইরে উদ্যোগ নিয়ে কিছু মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করতাম। তাদের অসত্য রিপোর্টের প্রতিবাদ ও সঠিক তথ্য-উপাত্ত পাঠাতাম। তবে পরিস্থিতি যতটা গুরুতর ছিল, সে অনুযায়ী আমার ভূমিকা ছিল ঝিনুক দিয়ে সাগর সেঁচার সমতুল্য। যাই হোক, আমি ফির ও টাইম ম্যাগাজিনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। ফির তখন ধুঁকতে শুরু করেছে এবং অচিরেই তারা মাসিক পত্রিকা হয়ে যায়। টাইম ম্যাগাজিনের তখনকার এশিয়া এডিশনের সম্পাদক বিশিষ্ট লেখক-সাংবাদিক উইলিয়াম গ্রিন খুব ইতিবাচক সাড়া দেন। তিনি অবশেষে লেখক-সাংবাদিক আলেক্স পেরিকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। তারা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্টারভিউ নেন। সেই সাক্ষাৎকার এবং তাদের অন্যান্য খোঁজ-খবরের ওপর ভিত্তি করে টাইম ম্যাগাজিন বেগম জিয়ার ওপর কভার স্টোরি প্রচার করে। ‘রেসকিউ মিশন’ শিরোনামের সেই প্রচ্ছদ প্রতিবেদনটি খ্যাতিমান আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের তোলা অসাধারণ একটি ফটোশোভিত ছিল। তার তোলা আরো দুটি ছবি ভেতরের পৃষ্ঠায় প্রতিবেদনের সঙ্গে ছাপা হয়।
উইলিয়াম গ্রিন ও পেরিকে বেগম জিয়া তার একটি জনসভা দেখার আমন্ত্রণ জানান। তিনি তাদের সঙ্গে নিয়ে পাবনার জনসভায় যান। হেলিকপ্টারেই শহিদুল আলম ফটোটি তোলেন। সেটিই প্রচ্ছদে ব্যবহার করা হয়। বেগম জিয়ার জনসভায় যোগদানের অভিজ্ঞতা গ্রিন ও পেরি দুজনকেই মুগ্ধ করে। ম্যাডাম জিয়ার ইন্টারভিউয়ের পর তারা তারেক রহমান ও লুৎফুজ্জামান বাবরের সাক্ষাৎকার নেওয়ার ব্যাপারে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তখন বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী। তিনি তখনকার শেরাটন হোটেলের টপ অব দ্য পার্কের নিরিবিলি পরিবেশে ডিনারের আয়োজন করেন। সেখানেই টাইম ম্যাগাজিনের দুই সাংবাদিকের সঙ্গে তারেক রহমান ও লুৎফুজ্জামান বাবরের সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়। সাংবাদিক দুজনের সঙ্গে আলোচনার জন্য মির্জা আলমগীর ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে তাজুল ইসলাম ও আমি নৈশভোজে যোগ দিই। খুবই প্রাণবন্ত আলোচনা হয়। কিন্তু বারবার ফোনে যোগাযোগ করা সত্ত্বেও কোনো এক ব্যস্ততার কারণে তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত আসতে পারেননি। প্রকৃতপক্ষে তিনি তখন দারুণ মিডিয়া-লাজুক ছিলেন। বাবর আসেন একটু দেরিতে। তার জ্ঞানগম্যি, বিদ্যাবুদ্ধি ও যোগ্যতার ওপর আমার খুব বেশি ভরসা ছিল না। কিন্তু ওই দিন আমার ধারণা পুরোই পালটে গেল। বাবর সাহেব ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে যেভাবে প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দিলেন, তাতে আমি শুধু নই, টাইম ম্যাগাজিনের দুই জাঁদরেল সাংবাদিকও অভিভূত হয়ে গেলেন। তিনি কোনো অভিযোগই অস্বীকার করলেন না; বললেন, জঙ্গিদের কৌশল প্রথম দিকে আমরা বুঝতে পারিনি। কম্যুনিস্ট সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তারা বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে সংগঠিত করেছে। আমরা ভেবেছিলাম, এটা খারাপ কিছু নয়। পরে তারা আসল চেহারায় আবির্ভূত হলো। সশস্ত্র জেহাদের ডাক দিতে শুরু করল। নাশকতা ও বোমাহামলায় লিপ্ত হলো। তখন আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করি। তাদের এক চুল ছাড় দেওয়া হচ্ছে না, হবেও না। বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ খুবই ধর্মানুরাগী; কিন্তু তারা উগ্রবাদী নয়, ধর্মের নামে বা অন্য কোনো অজুহাতে কোনো রকম সন্ত্রাস তারা বরদাশত করবে না।
লুৎফুজ্জামান বাবরের কথাকে দুই সাংবাদিক সত্য ও আন্তরিক বলে বিশ্বাস করলেন। পরে কভার স্টোরির অংশ হিসেবে তার সাক্ষাৎকার বেশ গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়। ২০০৬ সালের এপ্রিল মাসে টাইম ম্যাগাজিনের কভার স্টোরি বাংলাদেশ, সরকার ও খালেদা জিয়ার জন্য খুব ইতিবাচক ছিল। তবে ততক্ষণে পানি অনেক গড়িয়ে গেছে। জঙ্গিবাদ ইস্যুতে অন্তহীন প্রচারণায় যা ক্ষতি হওয়ার তা এর আগেই হয়ে গিয়েছিল। এত দিন পরে আজ কেন সেই পুরোনো গল্প ফাঁদছি? এগুলো আমাদের ইতিহাসের উপাদান। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে। আর তাই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়াটা খুবই জরুরি। ২০০২ সালের কায়দায় নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সেই পুরোনো অভিযোগের আবার পুনরাবৃত্তি করে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। সাবধান ও সতর্ক করার জন্য এমন প্রতিবেদন করা হয়ে থাকলে আপত্তি ছিল না। ঢাকাইয়া এক স্পোর্টস রিপোর্টারের জোগান দেওয়া মাল-মসলায় কাবুলিওয়ালা মুজিব মশালের লেখা রিপোর্টটিকে আসলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক প্রোপাগান্ডা ছাড়া আর কিছুই মনে হয়নি আমার। খালেদা জিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে এমন প্রচারণা এন্তার দেখেছি। হাসিনার জামানায় তাদের ‘উন্নয়ন-বন্দনা’ শুনে কান পচে গেছে। এখন আবার শুরু হয়েছে সেই পুরোনো ধুন। পশ্চিমাকাশের এই সিঁদুরে মেঘ যেন ঘরপোড়া গরু হিসেবে আমাদের সময়মতো সতর্ক রাখে।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও লেখক