হোম > মতামত

ফয়সালা কি তবে রাজপথেই

সায়ন্থ সাখাওয়াৎ

সায়ন্থ সাখাওয়াৎ

আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকট সমাধানের সংস্কৃতি বাংলাদেশে কখনোই ছিল না। অতীতে সংলাপের নামে বহু নাটক মঞ্চায়িত হয়েছে এই দেশে। কমনওয়েলথ মহাসচিবের বিশেষ দূত স্যার স্টিফেন নিনিয়ান ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে এসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মীমাংসার জন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান। ২০০৬ সালে বিএনপি মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল কয়েকদিন ধরে সংলাপের নামে যে নাটক করেছিলেন, তা এখনো একটি ব্যর্থ সংলাপের উদাহরণ হয়ে আছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে জাতিসংঘের প্রতিনিধি মিস্টার তারানকোর বাংলাদেশে এসে সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ফিরে যাওয়ার নজিরও নিশ্চয়ই অনেকের জানা।

এমন একটি দেশে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ৩০টি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে সিরিজ বৈঠকের মাধ্যমে কিছু রাজনৈতিক সংকট সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলোকে এক জায়গায় আনতে সক্ষম হয়েছে। আলোচনার শুরুতে মতভিন্নতা বেশি থাকলেও শেষ পর্যন্ত বেশ কিছু বিষয়ে দলগুলো একমত হয়েছে। এ পর্যন্ত অন্তত ৮৪টি বিষয়ে সংস্কার প্রশ্নে সবগুলো দল একমত পোষণ করেছে। যদিও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দলগুলো এখনো একমত হতে পারেনি। তাই এগুলোতে ঐকমত্যে আসার চেষ্টা অব্যাহত রাখার স্বার্থে কমিশনের আলোচনার মেয়াদ আরো এক মাস বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ একটি জাতীয় নির্বাচনের পথে হাঁটছে। তবু অনেকের মতে, নির্বাচন নিয়ে এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তা আছে। সেই অনিশ্চয়তা দূর করতে রাজনৈতিক দলগুলোর দূরত্ব আরো কমিয়ে আনতে কমিশনের মেয়াদ এক মাস বাড়ানো অবশ্যই ইতিবাচক। কারণ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলো এখনো একমত হতে পারেনি। ঐকমত্য কমিশনে আলোচনার ভিত্তিতে যে জুলাই সনদ তৈরি করা হচ্ছে, তার আইনি ভিত্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপিসহ কিছু সমমনা দলের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সম্মান কিছু দলের অবস্থান ভিন্ন। উচ্চকক্ষের পিআর পদ্ধতিতে সদস্য নির্বাচনের প্রশ্নেও দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা আছে। বিএনপি চাইছে নারী আসনের মতোই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনপ্রাপ্তির ভিত্তিতে উচ্চকক্ষে সদস্য সংখ্যা বণ্টন হবে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীসহ বেশ কিছু দল উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি প্রয়োগের পক্ষে। এ বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো একটা অনড় অবস্থা বিরাজমান। আরো কিছু বিষয় নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলো একমত হতে পারেনি এখনো। এসব ভিন্নমতকে এক জায়গায় আনার জন্য অধিকতর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সংলাপের সময় বাড়িয়েছে সরকার। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও খেলাফত মজলিস অভিন্ন ইস্যুতে যুগপৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি হাতে নেয়। নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)ও এই তিনটি দলের ঘোষিত অভিন্ন দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ইতোমধ্যে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো যে অভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠান, জাতীয় নির্বাচনে সংসদের উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি দল এবং প্রার্থীকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সব জুলুম, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা এবং স্বৈরাচারের সহায়ক হিসেবে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা। এসব দাবিতে ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায়, ১৯ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় শহরে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর সারা দেশে জেলা-উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছে দলগুলো। ধর্মভিত্তিক এই রাজনৈতিক দলগুলোর একই দিনে প্রায় অভিন্ন দাবিতে একই ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার ফলে কয়েকটি বিষয় আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই দলগুলো জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করতে যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল, তার প্রাথমিক পদক্ষেপ হলো এই যুগপৎ আন্দোলন কর্মসূচি। এর মাধ্যমে দলগুলো রাজপথে একে অন্যের কাছাকাছি আসার পদক্ষেপ নিল। তবে এদের দাবির মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুব জোরেশোরে নিম্নকক্ষে নির্বাচনে পিআর পদ্ধতির প্রয়োগের বিষয়টিতে জোর দেওয়ায় আলোচনা একটু ভিন্ন খাতেও প্রবাহিত হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, ইস্যু তৈরি করে আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন স্থগিত বা বানচাল করার উদ্দেশ্যে এমন একটি বিষয়কে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সামনে নিয়ে এলো। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের চলমান সংলাপে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিম্নকক্ষে পিআর পদ্ধতি নিয়ে জামায়াতে ইসলাম বা কোনো দল দাবি তুলে এ বিষয়টিকে আলোচনার এজেন্ডাভুক্ত করেনি। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার ভিত্তিতে যে সুপারিশ প্রণয়ন করেছে, তার মধ্যেও নিম্নকক্ষে পিআরের বিষয়টি একদম উল্লেখ করা হয়নি। অথচ এমন একটি বিষয় সামনে এনে জামায়াতে ইসলামীসহ ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দল রাজনৈতিক কর্মসূচিকে মাঠে নিয়ে গেল।

জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ কর্মসূচির জবাবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বিএনপি মনোনীত অন্যতম প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন আহমদের ইতোমধ্যে সংবাদমাধ্যমকে যা বলেছেন, তা কিছুটা উত্তাপের আভাস দেয়। তিনি বলেছেন, যেকোনো রাজনৈতিক দল তার গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে, তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে মাঠে যেতে পারে, রাজপথে যেতে পারে, জনগণের সামনে যেতে পারে। আমরাও আমাদের যে বক্তব্য সেটি মাঠে দেব, জনগণের সামনে দেব, মাঠের জবাব আমরা মাঠেই দেব। জনগণ যেটি গ্রহণ করবে, সেটি দেখা যাবে। পিআর পদ্ধতি নিয়ে বিএনপির অবস্থান আবার পুনর্ব্যক্ত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আমরা পিআর পদ্ধতির বিপক্ষে। উচ্চ ও নিম্নকক্ষ সর্বত্র। কারণ আমরা বলেছি, যাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা আছে পিআর পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার জন্য, তারা তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে সেই বিষয়টি উল্লেখ করে জনগণের কাছে যাক। জনগণের ম্যান্ডেট যদি তারা প্রাপ্ত হয়, তাহলে তারা তাদের সেই রাজনৈতিক আদর্শ বা কৌশল তখন তারা প্রণয়ন করতে পারবে, আইনপ্রণয়ন করতে পারবে।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মসূচির যে অতীত অভিজ্ঞতা, আমাদের আছে সেটি মোটেই সুখকর নয়। জামায়াতে ইসলামসহ কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দল যেসব দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে, তার মধ্যে অন্তত দুটি বিষয়ে বিএনপিসহ কয়েকটি দলের ঘোরতর আপত্তি আছে। যেখানে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার মেয়াদ আরো এক মাস বাড়ানো হয়েছে, দলগুলো যেখানে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে, সেখানে জামায়াতে ইসলামী হয়তো রাজপথের কর্মসূচি দিয়ে জুলাই সনদ ও নিম্নকক্ষের পিআর এবং জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে চায়। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি যদি মনে করে তারাও সরকারের ওপর পাল্টা চাপ প্রয়োগ করার কর্মসূচি হাতে নেবে, তাহলে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি অন্যায্য কিছু করেছে এমনটি বলা যাবে না। কিন্তু বিপরীতমুখী দাবিতে রাজনৈতিক দলগুলো যখন মাঠে নামে, তার পরিণতি কী হতে পারেম সেটির অনুমান এই দেশের মানুষ সহজেই করতে পারে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে গিয়ে আর ফিরে আসতে না পারার নজির নেহাত কম নয়। একটি কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমে এমন প্রেক্ষিত তৈরি হতে পারে যে, দলটির তখন আর কর্মসূচি গুটিয়ে মাঠ থেকে উঠে আসার সুযোগ থাকে না। পরিস্থিতি এক কর্মসূচি থেকে আরেক কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য করে। ধরা যাক জামায়াতে ইসলামী যে কর্মসূচি দিয়েছে, তার জবাবে বিএনপি যদি পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামে, সেখানে দুটো সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। আবার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির সুযোগে তৃতীয় পক্ষ পরিস্থিতি ঘোলাটে করে দিতে পারে। কারণ গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠীর হাতে প্রচুর অবৈধ অর্থ ও অস্ত্র এখনো আছে। তারা দেশে একটা অরাজকতা তৈরি করে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করবে। এই চেষ্টায় ইন্ধন জোগাতে গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি দাবিতে দেওয়া রাজনৈতিক কর্মসূচি।

তাই জামায়াতে ইসলামীর যেখানে এখনো আলোচনার সুযোগ ছিল, সেখানে শেষ সুযোগ গ্রহণ না করে রাজপথের আন্দোলনে গিয়ে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে, তার ফলে যদি গণতন্ত্রে উত্তরণের পথ ব্যাহত হয়, তার দায় দলটি এড়াতে পারে না। এর পাল্টা যুক্তি হিসেবে কেউ বলতে পারেন, বিএনপি-জামায়াতসহ কয়েকটি দলের দাবি না মেনে নিয়ে জামায়াতকে রাজপথে ঠেলে দিয়েছে। তাই এর দায় বিএনপিও এড়াতে পারে না। তারা এ কথাটি হয়তো ভাবেন না যে, সব দলকে একমত হতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা গণতন্ত্রে নেই। এই যে ৮৪টি বিষয়ে আলোচনায় বসে সবগুলো রাজনৈতিক দল একমত হলো, এটাও কি কম অর্জন? এই অর্জনকে ভিত্তি ধরে আলোচনা চলমান রেখে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে গেলে সেটি দেশের জন্য ও গণতন্ত্রে উত্তরণের পথকে সুগম রাখতে সহায়তা করবে।

গণতন্ত্র হলো একটি বৃহত্তর ধারণা। এতে একটি বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক দল ন্যায্যতা দেখলেও আরেকটি রাজনৈতিক দল তাতে ন্যায্যতা নাও খুঁজে পেতে পারে। এতে যারা ন্যায্যতা খুঁজে পেয়েছে বা যারা পায়নি, তার কোনটা সঠিক, সে বিষয়ে রায় দেওয়ার মালিক একমাত্র জনগণ। জনগণ এ রায়টি ভোটের মাধ্যমে দিয়ে থাকে। মানুষ যদি জামায়াতে ইসলামীর চাওয়া নিম্নকক্ষের পিআর পদ্ধতিকে সমর্থন করে, তাহলে নিশ্চয়ই আগামী জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীকে তারা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে। জনগণের রায়ে দলটি সরকার গঠন করতে পারলে তারা পরের নির্বাচনগুলো পিআর পদ্ধতিতে করবেÑএমন অঙ্গীকার তাদের নির্বাচনি মেনিফেস্টোতে রাখতে পারে। অন্যদিকে বিএনপি যে পিআর পদ্ধতিতে একমত নয়, সেটি ইতোমধ্যে দেশবাসী জেনে গেছে। তাদের এই অবস্থান অন্যায্য মনে হলে মানুষ নিশ্চয়ই ভোটের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে রায় দেবে। সুতরাং মানুষের রায়ই বলে দেবে কোন দলের অবস্থান তাদের কাছে অধিকতর ন্যায্য।

বাংলাদেশের মানুষ আর রাস্তার সহিংসতা সংঘর্ষ সৃষ্টির রাজনীতি দেখতে চায় না। মানুষ চায় শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি।

লেখক : কবি, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

সিরিয়ায় ওয়াইপিজির বিলুপ্তি ইরাকের জন্য সতর্কবার্তা

চিন্তার স্বাধীনতা বনাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব

বিধ্বস্ত শিক্ষাব্যবস্থা

ভাষার কোনো বিদেশ নেই, নেই কোনো খাঁচা

নৌবিদ্রোহ ও রাজনীতির বিশ্বাসঘাতকতা

চ্যালেঞ্জের মুখে খামেনির নেতৃত্ব ও ইসলামি বিপ্লব

শব্দের রাজনীতি, ক্ষমতার ভয়

নতুন প্রধানমন্ত্রীর শুরুটা কেমন হলো

কূটনীতিক, পণ্ডিত ও বাংলাদেশের বন্ধু

কৃষি পর্যটন : টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত