হোম > মতামত

জোট-বিজোটের রাজনীতি

আবদুল লতিফ মাসুম

ব্রিটিশ রাজনীতিক বেঞ্জামিন ডিসরাইলির একটি বিখ্যাত উক্তি ‘রাজনীতিতে শেষ বলতে কিছু নেই।’ বাক্যটি বাংলা ভাষায় একরকম প্রবাদের মতো উচ্চারিত। আমাদের রাজনীতিবিদরা হরহামেশা এ রকম কথা বলে থাকেন। পৃথিবীর সর্বত্র এ কথাটি সত্য। তবে বাংলাদেশের ভূগোল-ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে কথাটি অধিকতর সত্য। মোগল ঐতিহাসিক আবুল ফজল বাংলাদেশকে ‘বুলঘকখানা’ বা অশান্ত আবাসের সঙ্গে তুলনা করেছেন। গল্প আছে বাংলাদেশের জোয়ার-ভাটা দেখে কোনো এক মোগল সুবেদার বাংলাদেশ ত্যাগ করেছিলেন। সপ্তদশ শতকে শাহ নেয়ামত ফিরোজপুরী লিখেছেন, ‘বাংলা হচ্ছে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ও বেদনাকুল দেশ/কালবিলম্ব না করে, যাও, মৃতদের কাছে দোয়া চাও/মাটিতে পানিতে কোথাও শান্তি নেই, নেই স্বস্তি/আছে শুধু বাঘের থাবা আর কুমিরের হাঁ।’ বাংলাদেশকে একটি বিপদসংকুল দেশ হিসেবে প্রমাণ করাই এই পঙ্‌ক্তিমালার লক্ষ্য। ষোড়শ শতাব্দীতে পর্তুগিজ পর্যটক টম পিয়োরেস লিখেছেন, ‘দূর প্রাচ্যের লোকেরা বিশ্বাস করে, বাঙালিরা বিশ্বাসঘাতক।’ এই ধারণাই প্রতিফলিত হয়েছে ব্রিটিশ সিভিল সার্ভেন্ট মেকলের বাঙালির চরিত্র বিশ্লেষণে। তার ভাষায়—‘What the horns are to the buffalo, what the sting is to the bee, what beauty according to the song is to woman, deceit is to the Bengalese.’ মোষের যেমন শিং আছে, মৌমাছির আছে হুল, সংগীত যেমন মেয়েদের সৌন্দর্য, তেমনি বাঙালিদের বিশেষত্ব প্রতারণা। (আকবর আলী খান: ২০১৭:৩২)। রাজনীতির ভাঙাগড়া বিশেষত এই সময়ে নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট-বিজোটের রাজনীতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সম্ভবত এসব মন্তব্য অপ্রাসঙ্গিক নয়।

রাজনীতিতে যে শেষ কথা নেই, তার প্রমাণ মিলল জামায়াত জোটের ভাঙনে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে জোট-বিজোটের রাজনীতির ইতিহাস অনেক পুরোনো। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের রাজনীতির মধ্য দিয়ে এর শুরু। বাংলাদেশের শুরুতে আওয়ামী লীগ, কমিউনিস্ট পার্টি ও ন্যাপ মুজাফফর সমন্বয়ে ‘ত্রিদলীয় ঐক্যজোট’ হয়েছিল। অবশ্য সেটি ছিল আদর্শিক রাজনৈতিক জোট, নির্বাচনি জোট নয়। ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রাক্কালে জিয়াউর রহমানের সমর্থনে ‘জাতীয়তাবাদী ঐক্য ফ্রন্ট’ গঠিত হয়। এরশাদ আমলে নির্বাচনি জোট-বিজোটের কার্যক্রম লক্ষ করা যায়। ১৯৯১-পরবর্তী সময়ে বিএনপিকে ঘিরে জোটের রাজনীতি উত্তাপ ছড়ায়। ১৯৯৬ সালের বিভাজনের ক্ষয়ক্ষতি এড়িয়ে ২০০১ সালে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামি শক্তির ঐক্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। ওই বছর নির্বাচনে তারা বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও তাদের চৌদ্দ দলীয় জোট পাতানো নির্বাচনে জয়লাভ করে। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পরবর্তীকালে গণতান্ত্রিক সংগ্রামে ২০ দলীয় জোট আন্দোলনমুখর থাকে। তারপর সত্যিকার অর্থে রাজনীতি ছিল না, রাজনীতির নামে দেশে নিকৃষ্ট স্বৈরাচার কায়েম থাকে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এবং নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হলে রাজনীতির অঙ্গনে আবারও জোট-বিজোটের সমীকরণ সূচিত হয়।

পরিবর্তিত অবস্থায় বিএনপির প্রতি জনগণের নিরঙ্কুশ সমর্থন প্রতীয়মান হয়। রাজনীতিকরা মন্তব্য করছিলেন, একরকম প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু রাজনীতির গতিপ্রকৃতি পরিবর্তিত হতে থাকে। বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে কঠোর হতে হয়। ইতোমধ্যে বিএনপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। যেহেতু দেশের প্রধান রাজনৈতিক শত্রু আওয়ামী লীগ বিতাড়িত হয়েছে এবং তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে, সেহেতু রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নতুন সমীকরণের সুযোগ সৃষ্টি হয়। জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের পাঁচটি বৃহত্তর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অভাবিত বিজয়ের পর রাজনৈতিক সমীকরণের পাল্লা জামায়াতের অনুকূলে ভারী হয়ে ওঠে। জনগণের মধ্যে বিএনপির প্রাধান্যের কারণে এবং বিএনপির জন্য খোলা মাঠে গোল দেওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার কারণে এ দলের পক্ষ থেকে জোটের সম্ভাবনা একরকম তিরোহিত হয়। তারপরও ডান, বাম ও ইসলামি ঘরানার ছোটখাটো দলগুলো বিএনপির ছাতার নিচে সমবেত হয়।

অপরদিকে ইসলামি রাজনৈতিক ঘরানার পক্ষ থেকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। জনগণের একাংশ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পরে ইসলামি শক্তির শাসন দেখার আগ্রহ প্রকাশ করে। গণমাধ্যমের বিভিন্ন সূত্রে এটি অনুভূত হয়। প্রধান ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামী এবং অপর ইসলামি রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ইসলামী আন্দোলনের কর্ণধার চরমোনাইয়ের পীর সৈয়দ রেজাউল করিম এক্ষেত্রে প্রাথমিক নেতৃত্ব দেন। ইসলামের নামে ঐক্যের ধারণা খুবই সহজ ও সরল; কিন্তু বাস্তবে এটি কঠিন ও জটিল। ইসলামি রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে প্রাথমিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে অবশেষে ‘একবাক্স’ নীতি বাস্তবায়নের কৌশল গ্রহণ করা হয়। এই ফরমুলায় ইসলামপন্থি যত মত ও যত পথই থাকুক, ভোটের মাঠে বাক্স থাকবে একটি। অর্থাৎ জোট নয়, ভোটের ময়দানে একক অবস্থান নিশ্চিত করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রধান দুটো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে বিভাগীয় পর্যায়ে বড় জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন জোট এসব দেখে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তারাও নানা ধরনের সভা-সম্মেলনের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে ওই কার্যক্রমের মোকাবিলা করে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করে, ইসলামি শক্তির এই ঐক্যবদ্ধতার কারণে বিএনপির প্রার্থিতার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। খোলা মাঠে গোল দেওয়ার আশায় যেসব বিএনপি প্রার্থীরা নিশ্চিন্ত ছিলেন, তারাও সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

আবারও প্রমাণিত হলো, রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। জনগণ অবাক হয়ে পর্যবেক্ষণ করল ১১ দলীয় জোটের ভাঙন। শেষ পর্যন্ত চরমোনাইর পীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১১ দলীয় জোট পরিত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ২৬৮ আসনে তারা নির্বাচন করবে। বাকি ৩২টি আসনে দলটি পছন্দের কোনো দলের প্রার্থীকে সমর্থন দেবে। ৩০০ আসনেই ইসলামী আন্দোলন ভোটে থাকছে।

এই ভাঙনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বাছবিচার চলছে কার দোষে তীরে এসে তরী ডুবল! আরো বিচার বিশ্লেষণ চলছে—কার লাভ-ক্ষতি কত হবে! একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আগে দৃশ্যমানভাবে যে ঐক্যের সূচনা হয়েছিল, তার অবসানে তিন ভাগে বিভক্ত হবে ইসলামি ঘরানার ভোট। গরিষ্ঠ অংশ বাস্তবতার কারণে জামায়াতের সঙ্গেই থাকবে। এর সঙ্গে ১০ দলীয় জোটের অবস্থান তাদের শক্তি ও সামর্থ্যকে বাড়িয়ে দেবে। অপরদিকে চরমোনাইয়ের ইসলামী আন্দোলন এককভাবে শক্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হবে। তৃতীয় অংশ ইতোমধ্যেই বিএনপির সঙ্গে শামিল হয়েছে। অতীতে জাতীয় সংসদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব না থাকার ফলে তাদের শক্তি-সামর্থ্য হিসাব করা যায়নি। তবে বিগত ১৭ বছরে তাদের জনক্ষয় ঘটেনি। তাদের কেউ জেলে যায়নি। নির্যাতন-নিপীড়ন ভোগ করেনি। তাদের জনশক্তি যেমন ছিল, তার চেয়ে আরো বেড়েছে। দেশের অনেক জায়গায় নির্বাচনি পকেট সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াতের অনুপস্থিতিতে তাদের কার্যক্রম প্রসারিত হয়েছে। এখন জোট ছেড়ে যাওয়ার ফলে তাদের সবটুকু অর্জন ভেস্তে যেতে বসেছে। অথচ এই জোটকে এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তাদের অবদান কম নয়।

ইসলামী আন্দোলন গত শুক্রবার বিকালে রাজধানীর পুরোনো পল্টনে তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের অভিযোগ-অনুযোগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সচিব গাজী আতাউর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। পীর সাহেব রেজাউল করিম এবং দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তিত্ব ফয়জুল করিম সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না। গাজী আতাউর বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য না থাকার কারণ হচ্ছে, আমরা নীতি ও ইনসাফের প্রশ্নে বৈষম্যের শিকার হয়েছি।’ তাদের আরো অভিযোগ, জামায়াতের দিক থেকে তারা উপেক্ষা ও অসম্মানের শিকার হয়েছেন। এছাড়া জামায়াতের আমিরের বিরুদ্ধে ইসলামী আন্দোলনের অভিযোগ, জামায়াত আমির বলেছেন, ‘ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা না করে প্রচলিত আইনে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন।’ ইসলামী আন্দোলনের সম্মতি ছাড়া এনসিপিকে জোটে নেওয়া নিয়েও রয়েছে পীর সাহেবের গুরুতর আপত্তি। দৃশ্যমান অভিযোগ যা-ই হোক না কেন মূলত আসন বণ্টনের হিসেবনিকেশ কেন্দ্র করে এই বিভেদ-বিভাজন ঘটেছে। শুরুতেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াতের সমান সমান মর্যাদা ও ক্ষমতা দাবি করে আসছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল ৬০ থেকে ৮০টি আসন। অপরদিকে জামায়াত তাদের ৩০-৩৫টি আসনের মধ্যে সীমিত করতে চেয়েছে। অবশেষে জামায়াত তাদের ৪৭টি আসন ছেড়ে দিতে রাজি হলেও ইসলামী আন্দোলন তা মেনে নেয়নি। বেশি সিট চাওয়ায় জামায়াত নেতৃত্বে আস্থা ও বিশ্বাসের সংকট দেখা দেয়। জামায়াতের অভ্যন্তরীণ তথা বিভিন্ন সংসদীয় আসনের অবস্থান সম্পর্কে যারা খোঁজখবর রাখেন, তারা মত প্রকাশ করেন যে, ইসলামী আন্দোলনের জোট ত্যাগে তারা তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। অপরদিকে ইসলামী আন্দোলন সম্পর্কে নানা ধরনের কাঙ্ক্ষিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত গুজবের কথা শোনা যায়। গণমাধ্যমে কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, এটি প্রতিবেশীর খেলা। আবার কেউ বলছেন, প্রধান দল অর্থাৎ বিএনপির সঙ্গে কোনো রকম গোপন চুক্তির কারণে তারা হয়তো এটা করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বিএনপির সঙ্গে আসন বণ্টন বা অন্যরকম সমঝোতার কোনো সুযোগ বাকি নেই। তবে নির্বাচন-পরবর্তীকালে তাদের সরকারে অংশগ্রহণের ব্যাপারে এখনই মন্তব্য করা সঠিক হবে না। উল্লেখ্য, আমিরে জামায়াত ডাক্তার শফিকুর রহমান ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সান্ত্বনা জানাতে গিয়ে জাতীয় সরকারের সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তিনি বেগম খালেদা জিয়াকে জাতীয় ঐক্যের পাটাতন নির্মাতা বলেও অভিহিত করেছেন। এই দুটো মন্তব্যেও ইসলামী আন্দোলনের গুরুতর আপত্তি। তারা বলছেন, বিএনপির সঙ্গে হয়তো তাদের গোপন যোগসাজশ রয়েছে।

বিএনপি সম্পর্কে ইসলামী আন্দোলনের এ রকম নেতিবাচক ধারণা সবসময়ই ছিল। তারা ইসলামি রাজনীতির সুযোগ দেওয়ার ব্যক্তিত্ব জিয়াউর রহমান এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে একইভাবে মূল্যায়ন করেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে সমান্তরাল ভেবে কঠিন কঠিন কথাবার্তা বলেন। তাদের নেতা ও নেতৃত্বের বক্তৃতা-বিবৃতি শুনলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। তবে তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হলো, এ বছরের শুরুতে বিএনপির সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের একটি সমঝোতার প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায়। ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি ইসলামী আন্দোলন প্রধান মুফতী সৈয়দ রেজাউল করিম এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মধ্যে ১০ দফা যৌথ সিদ্ধান্ত স্বাক্ষরিত হয়। এতে উভয় নেতা আধিপত্যবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সাম্রাজ্যবাদমুক্ত স্বাধীন-সার্বভৌম টেকসই গণতান্ত্রিক কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজন সম্পর্কে ঐকমত্য পোষণ করেন। কিন্তু সেই যৌথ ঘোষণা আর অগ্রসর হয়নি। ইসলামী আন্দোলন থেকে অভিযোগ করা হয় যে, রাজনৈতিকভাবে জিয়াউর রহমানের ইসলামি আদর্শ থেকে বিএনপি সরে গেলে দূরত্বের সৃষ্টি হয়। পরবর্তী ঘটনাবলিতে সেই দূরত্ব স্থায়ী রূপ লাভ করে। বিকল্প হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের সম্পর্কের সূচনা ঘটে।

একজন সাধারণ মানুষও বোঝে, ঐক্যেই শক্তি, ভাঙনে সর্বনাশ। এই ভাঙনের জন্য কোনো ব্যক্তি বা দলকে এককভাবে দায়ী করা যাবে না। ১১ দলীয় জোটের ভাঙনে কতটা সর্বনাশ হয়েছে, কতটা সর্বনাশ হবে—ভবিষ্যৎই তা নির্ধারণ করবে। তবে ইমেজ বা রূপকল্পের যে ক্ষতি হয়েছে, তা আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। এ বিষয়ে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘আমরা তাদের জন্য চেয়ারও খালি রেখেছি, আসনও ফাঁকা রেখেছি। এরপর কী করণীয় ছিল আমাদের?’ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী প্রতিপক্ষ ইসলামী আন্দোলনকে জোটে রাখার জন্য প্রাণান্ত প্রয়াস চালায়। তারা কোনো কঠিন ও অপ্রীতিকর মন্তব্য থেকে বিরত থাকে। জামায়াত জোট এখনো বলছে, ‘দুয়ার খোলা রয়েছে।’ উভয় দলের শুভাকাঙ্ক্ষী ও অভিভাবকরা সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য তাদের সব চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির ফয়জুল করিমের আসনে প্রার্থী দেবে না জামায়াতে ইসলামী। আবারও যদি ভাঙা হাট জোড়া লাগে, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন ফিরে আসে সমঝোতায়—তাহলে প্রমাণিত হবে, ‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই।’

লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সাবেক অধ্যাপক, সরকার রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে ভোটবিপ্লবেই সমাধান

মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সামরিক জোট ও বাংলাদেশ

ক্ষমতা, দ্বন্দ্ব ও বিশ্বরাজনীতির নতুন সম্ভাবনা

তুমি কোনো রাজার ছেলে নও

সার্ক গঠন জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী চিন্তা

জিয়াউর রহমানকে কেন পাঠ করতে হবে

শহীদ জিয়া: ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ, আদর্শের রূপকার

বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু মোকাবিলা ও টেকসই অর্থনীতির নীতিগত বিশ্লেষণ

আন্তর্জাতিক রেটিং এবং অর্থনীতির সম্ভাবনা

তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তান চুক্তি ও নতুন নিরাপত্তা বাজার