হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

ডিজিটাল ডেটা নিয়ে নীতিমালা প্রয়োজন

মো. মাহিন উদ্দিন

ডিজিটাল যুগে আমরা প্রতিদিন অজান্তেই কিছু দিচ্ছি—নাম, বয়স, অবস্থান, পছন্দ-অপছন্দ, চিন্তা, অনুভূতি এমনকি আমাদের ঘুম থেকে জাগার সময়টুকুও। প্রতিটি ক্লিক, সার্চ, লাইক ও স্ক্রল জমা হচ্ছে অদৃশ্য ভান্ডারে। বিনিময়ে আমরা পাচ্ছি ‘ফ্রি’ সেবা। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—ডেটা আমরা দিচ্ছি, লাভ করছে কে?

প্রথম লাভবান হচ্ছে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সার্চ ইঞ্জিন, ই-কমার্স ও অ্যাপভিত্তিক সেবাগুলো আমাদের ডেটাকে রূপ দিচ্ছে পণ্যে। ব্যবহারকারীর আচরণ বিশ্লেষণ করে তৈরি হচ্ছে লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন, যা থেকে আসে বিপুল মুনাফা। আমরা ভাবি ফেসবুক, গুগল বা টিকটক ব্যবহার করছি বিনা খরচে, কিন্তু আসলে আমরা নিজেরাই সেখানে পণ্য—আমাদের মনোযোগই তাদের মূল ব্যবসা।

ডেটা আজ শুধু বিজ্ঞাপনের হাতিয়ার নয়, এটি ক্ষমতার উৎস। কোন খবর আমরা দেখব, কোনটা দেখব না—এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে অ্যালগরিদম। ফলে আমাদের মতামত, পছন্দ এমনকি রাজনৈতিক ধারণাও প্রভাবিত হচ্ছে ডেটাভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে। এখানে লাভ করছে শুধু কোম্পানি নয়; প্রভাবশালী গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক শক্তিও এই ডেটার সুবিধা নিচ্ছে নিজেদের স্বার্থে।

রাষ্ট্রও এই ডেটা থেকে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে—নজরদারি, নিরাপত্তা বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার নামে। নাগরিকের আচরণ পর্যবেক্ষণ সহজ হচ্ছে, কিন্তু ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্ন ক্রমেই ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় আমরা জানিই না, আমাদের কোন তথ্য কোথায়, কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে। এই অস্বচ্ছতাই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।

অন্যদিকে, ব্যবহারকারী হিসেবে আমরা কী পাচ্ছি? কিছুটা সুবিধা, কিছুটা বিনোদন আর বিনিময়ে হারাচ্ছি নিয়ন্ত্রণ। আমাদের ডেটা কীভাবে ব্যবহৃত হবে, কতদিন রাখা হবে, কার সঙ্গে শেয়ার করা হবে—এই সিদ্ধান্তে আমাদের অংশগ্রহণ প্রায় নেই। ডিজিটাল সম্মতির নামে যে লম্বা শর্তাবলি আমরা না পড়েই ‘এগ্রি’ করি, সেখানেই আমাদের অধিকার নীরবে হারিয়ে যায়।

এই ডেটা অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে দুর্বল ও অজ্ঞ ব্যবহারকারীদের। ভুল তথ্য, ডিপফেক, মাইক্রো-টার্গেটিং—এসবের শিকার হয়ে মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে, সিদ্ধান্ত নিচ্ছে প্রভাবিত হয়ে। অথচ লাভের ভাগ যাচ্ছে বড় করপোরেট কাঠামো ও মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে।

এখন সময় এসেছে প্রশ্ন তোলারÑডেটার মালিক কে? ব্যবহারকারী নাকি প্ল্যাটফর্ম? উন্নত বিশ্বে ডেটা সুরক্ষা আইন, জিডিপিআরের মতো উদ্যোগ এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমাদের মতো দেশে এখনো সচেতনতা ও শক্ত আইনের অভাব স্পষ্ট। ফলে আমরা প্রতিদিন ডেটা দিচ্ছি, কিন্তু তার মূল্য বা নিরাপত্তা পাচ্ছি না।

ডেটা আধুনিক যুগের তেল—মূল্যবান, শক্তিশালী ও ঝুঁকিপূর্ণ। যদি এর নিয়ন্ত্রণ শুধু হাতে গোনা কিছু প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকে, তবে বৈষম্য আরো বাড়বে। তাই প্রয়োজন ডিজিটাল অধিকার নিয়ে জনসচেতনতা, স্বচ্ছ নীতিমালা ও জবাবদিহি। নইলে ভবিষ্যতে আমরা বুঝতে পারব—আমরা শুধু ডেটা দিইনি, ধীরে ধীরে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাটাও ছেড়ে দিয়েছি।

লেখক : অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা কলেজ

বাবরির পর এবার মথুরা-বৃন্দাবনে শাহী মসজিদ ভেঙে মন্দির চত্বর, ঘোষণা যোগী আদিত্যনাথের

শাপলা চত্বরে ১১ দলের লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু

অর্থ নয়ছয়ের সুযোগ কম আগ্রহ নেই কর্মকর্তাদের

বিকল্প জ্বালানিতেই মুক্তি দেখছে সরকার ও বেসরকারি খাত

টিভির পর্দায় নারী এশিয়া কাপের ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের সঙ্গে থাকছে ইউএস ওপেনের রোমাঞ্চ

নোয়াখালীতে মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার ১৩

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত প্রতিমন্ত্রী আবুল বারীকে দেখতে হাসপাতালে রিজভী

স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা

বিয়ে করলেন চাকসু ভিপি ইব্রাহিম

ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে টাকা আদায়, যুবক গ্রেপ্তার