হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

রাষ্ট্রহীন সীমান্ত ও আরাকান আর্মি

মে জে. (অব.) রোকন উদ্দিন

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের ২৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই বাস্তুচ্যুতি, চোরাচালান, উগ্রপন্থা ও জাতিগত সংঘাতের কেন্দ্র ছিল। তবে ২০২৩ সালের শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া এবং ২০২৪-২৬ সালে দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতি এই সীমান্তের বাস্তবতাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। আজ বাংলাদেশের সীমান্তের ওপারে কার্যত মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবর্তে আরাকান আর্মি (এএ) নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে আর নেপিদোর সামরিক সরকার মূলত বিমান হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত আরাকান আর্মি এবং এর রাজনৈতিক শাখা ইউনাইটেড লিগ অব আরাকান (ইউএলএ) বর্তমানে রাখাইন রাজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এটি আর শুধু একটি গেরিলা সংগঠন নয়; বরং নিজস্ব প্রশাসন, করব্যবস্থা ও স্থানীয় শাসন কাঠামো গড়ে তোলা একটি কার্যকর রাজনৈতিক-সামরিক শক্তি। এই বাস্তবতাকে বাংলাদেশ আর উপেক্ষা করতে পারে না।

পরিবর্তনের মূল সূচনা ঘটে ২০২৩ সালের অক্টোবরে অপারেশন ১০২৭-এর মাধ্যমে। থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের সমন্বিত অভিযানে আরাকান আর্মি দ্রুত একের পর এক সামরিক ঘাঁটি ও টাউনশিপ দখল করে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের বিপরীতে অবস্থিত কৌশলগত সীমান্ত শহর মংডু তাদের নিয়ন্ত্রণে আসে এবং একই সময়ে বাংলাদেশ-সংলগ্ন পুরো সীমান্ত কার্যত তাদের হাতে চলে যায়। এর ফলে বাংলাদেশের সীমান্তে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়, যেখানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রাষ্ট্র নয়, বরং একটি অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র সংগঠন কার্যকর নিয়ন্ত্রণকারী শক্তি। মিয়ানমারের সামরিক জান্তার প্রতিক্রিয়া মূলত বিমান হামলার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা বেসামরিক প্রাণহানি বাড়ালেও হারানো ভূখণ্ড পুনর্দখলে সফল হয়নি। ২০২৫ সালে ম্রাউক-উ হাসপাতালে বোমা হামলা এবং ২০২৬ সালের মধ্যে সমগ্র রাখাইন নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা আরাকান আর্মির আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন।

তবে সীমান্ত পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে তৃতীয় পক্ষ আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (এআরএসএ) সক্রিয় উপস্থিতির কারণে। বর্তমানে একদিকে আরাকান আর্মি ও আরসার স্থল সংঘর্ষ, অন্যদিকে জান্তার বিমান হামলা—এই ত্রিমুখী সংঘাত বাংলাদেশের সীমান্ত পর্যন্ত প্রভাব ফেলছে। ২০২৬ সালের শুরুতে বাংলাদেশ সীমান্তে উচ্চ সতর্কতা জারি করে এবং সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করা আরসার সদস্যদের আটক করে। গোলাগুলি ও মর্টার হামলার শব্দ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এই পরিস্থিতিতে বিজিবিকে একই সঙ্গে আরসার অনুপ্রবেশ ঠেকানো, আরাকান আর্মির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, জান্তার বিমান হামলার প্রভাব মোকাবিলা এবং ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো বহুস্তরীয় দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের নীতি ছিল শুধু মিয়ানমারের স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সেই নীতি বাস্তবসম্মত নয়। গত বছর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন যে সীমান্তের পুরো এলাকা এখন একটি রাষ্ট্রবহির্ভূত শক্তির নিয়ন্ত্রণে এবং জাতীয় স্বার্থে তাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ অপরিহার্য। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মংডু পতনের পর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি প্রকাশ করে। পরে আরাকান আর্মির প্রধান তোয়ান ম্রাত নাইং বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্র নেতৃত্বকে অভিনন্দন বার্তা পাঠান, যা উভয় পক্ষের মধ্যে সীমিত কিন্তু বাস্তবভিত্তিক যোগাযোগের ইঙ্গিত বহন করে।

বাংলাদেশ এখন একধরনের ত্রিভুজাকার কূটনীতির মধ্যে রয়েছে। একদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে হচ্ছে, অন্যদিকে সীমান্তে বাস্তব নিয়ন্ত্রণকারী আরাকান আর্মিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করাও সম্ভব নয়। সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য, মানবিক সহায়তা এবং ভবিষ্যৎ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বাস্তবতা এই দ্বৈত যোগাযোগকে অপরিহার্য করে তুলেছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে নাফ নদী ও সেন্ট মার্টিনসংলগ্ন বাংলাদেশের জেলে সম্প্রদায়ের ওপর। আরাকান আর্মির হাতে বাংলাদেশি জেলেদের আটক, গুলিবর্ষণ ও ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা স্থানীয় অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। যদিও ২০২৬ সালে দুই বছরের বেশি সময় আটক থাকা ৭৩ জন বাংলাদেশি জেলেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়, যা সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, তবু সামুদ্রিক এলাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এবং বাণিজ্যের ওপর কমিশন আদায়ের অভিযোগ ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

আরো উদ্বেগের বিষয় হলো, ২০২৬ সালে আরাকান আর্মির ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এক বৌদ্ধ ভিক্ষু একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন, যেখানে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু অংশকে কথিত ‘গ্রেটার রাখাইন’-এর অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়। যদিও এটি আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়, তবু বাংলাদেশের কৌশলগত মহলে এটি উদ্বেগ সৃষ্টি করে। কারণ আরাকান আর্মির আদর্শিক ভিত্তি ‘ওয়ে অব রাখিতা’ রাখাইনের ঐতিহাসিক গৌরব পুনঃপ্রতিষ্ঠার ধারণাকে গুরুত্ব দেয়। তাই তাদের বর্তমান বাস্তববাদী আচরণ ভবিষ্যতেও একই থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রশ্নে আরাকান আর্মির উত্থান নতুন জটিলতা সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আট লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার তথ্য মিয়ানমারের কাছে পাঠিয়েছে এবং কয়েক লাখের পরিচয় যাচাইও হয়েছে। কিন্তু সীমান্তের ওপারে স্থিতিশীল ও গ্রহণযোগ্য প্রশাসন না থাকলে এই যাচাইকরণ কার্যত অর্থহীন। তাছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, ড্রোন ও মর্টার হামলা, গ্রাম ধ্বংস এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে, যা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

তবু বাংলাদেশ ও আরাকান আর্মির মধ্যে সহযোগিতার একটি বাস্তব অর্থনৈতিক ভিত্তি রয়েছে। রাখাইনের জন্য বাংলাদেশ জ্বালানি, ওষুধ ও নিত্যপণ্যের নিকটতম উৎস আর বাংলাদেশের জন্য রাখাইন একটি সম্ভাবনাময় বাজার। মংডু ও কানিনচাউং বাণিজ্য কেন্দ্র পুনরুজ্জীবিত হলে উভয় পক্ষই উপকৃত হতে পারে। বৈধ সীমান্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণ মাদক ও চোরাচালান নেটওয়ার্ক দুর্বল করতেও সহায়ক হবে। এই সমীকরণে চীনের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। রাখাইনে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের প্রকল্প এবং কিয়াউকফিউ গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে চীনের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রয়েছে। ফলে যে পক্ষই রাখাইনে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করুক, চীন তার সঙ্গে কাজ করার বাস্তব প্রয়োজন অনুভব করবে। বাংলাদেশের জন্য এটি আরো একটি কৌশলগত বিবেচনার বিষয়।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত আজ এমন এক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় উপনীত হয়েছে, যার কোনো ঐতিহাসিক পূর্ব নজির নেই। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ তার সীমান্ত নীতি একটি স্বীকৃত প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে পরিচালনা করেছে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সীমান্তের ওপারে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মিয়ানমার সরকারের পরিবর্তে কার্যত একটি শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন প্রশাসনিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক রীতিনীতি অনুযায়ী বাংলাদেশ অবশ্যই মিয়ানমারের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করবে; তবে একই সঙ্গে সীমান্তের নিরাপত্তা, সীমান্ত বাণিজ্য, মানবিক সহায়তা, জেলেদের নিরাপত্তা এবং সর্বোপরি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোয় বাস্তবিক নিয়ন্ত্রণকারী শক্তিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করাও আর সম্ভব নয়। ফলে বাংলাদেশকে এখন এমন এক সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে, যেখানে নীতিগত অবস্থান এবং বাস্তব নিরাপত্তা প্রয়োজন—উভয়কেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

৭৩ বাংলাদেশি জেলের মুক্তি প্রমাণ করেছে, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতেও যোগাযোগ ও সমন্বয়ের একটি কার্যকর ক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব। এটি শুধু একটি মানবিক ঘটনা নয়; বরং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এই সীমিত যোগাযোগকে এখন আরো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। নাফ নদীতে মৎস্য আহরণ, সীমান্তবর্তী জনগণের নিরাপত্তা, দুর্ঘটনাজনিত সংঘর্ষ প্রতিরোধ, দ্রুত তথ্য বিনিময়, মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং সম্ভাব্য সীমান্ত সংকট মোকাবিলার জন্য একটি বাস্তবভিত্তিক সীমান্ত প্রটোকল গড়ে তোলা সময়ের দাবি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে একটি কার্যকর মানবিক করিডোর এবং আন্তর্জাতিকভাবে পর্যবেক্ষিত প্রত্যাবাসন কাঠামো নিয়ে কাজ করতে হবে।

তবে এই বাস্তবতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক কখনোই উপেক্ষা করা উচিত নয়। আরাকান আর্মি বর্তমানে বাস্তববাদী ও প্রশাসনিক সক্ষমতার পরিচয় দিলেও, তাদের আদর্শিক অবস্থান, জাতিগত জাতীয়তাবাদ এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক লক্ষ্য সম্পর্কে বাংলাদেশকে সতর্ক থাকতে হবে। ইতিহাস দেখিয়েছে, কোনো অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র সংগঠনের বর্তমান আচরণই তার ভবিষ্যৎ নীতির স্থায়ী নিশ্চয়তা নয়। তাই সীমান্তে সহযোগিতা যতটা প্রয়োজন, ততটাই প্রয়োজন শক্তিশালী গোয়েন্দা নজরদারি, আধুনিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং যেকোনো সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকির জন্য প্রস্তুতি। বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হলো—একদিকে জাতীয় সার্বভৌমত্ব, সীমান্ত অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে এমন কোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা যা অপ্রয়োজনীয় আঞ্চলিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য সামরিক প্রস্তুতি, কূটনৈতিক প্রজ্ঞা এবং গোয়েন্দা সক্ষমতার সমন্বিত প্রয়োগ অপরিহার্য। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী জনগণের আস্থা অর্জন, বৈধ সীমান্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণ, মাদক ও মানব পাচার প্রতিরোধ এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাও জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকাও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, রাখাইনে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক সহায়তার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ, আসিয়ান, ওআইসি, চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্য অংশীদারদের আরো কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। বাংলাদেশের একার পক্ষে এই বহুমাত্রিক সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়; এটি একটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক দায়িত্বও বটে।

সবশেষে বলা যায়, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বাস্তবতা স্থায়ীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। এই পরিবর্তনকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই, আবার আবেগপ্রসূত প্রতিক্রিয়ারও অবকাশ নেই। বাংলাদেশের জন্য সর্বোত্তম পথ হবে একটি স্বাধীন, বাস্তববাদী ও জাতীয় স্বার্থভিত্তিক কৌশল অনুসরণ করা—যেখানে শক্তিশালী সীমান্ত নিরাপত্তা, আধুনিক গোয়েন্দা সক্ষমতা, বিচক্ষণ কূটনীতি, অর্থনৈতিক সংযোগ এবং মানবিক দায়বদ্ধতা একই নীতির অধীনে পরিচালিত হবে। কারণ ভবিষ্যতের নিরাপত্তা শুধু সীমান্ত পাহারা দিয়ে নিশ্চিত করা যাবে না; বরং পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাকে সঠিকভাবে অনুধাবন করে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং সার্বভৌম নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

লেখক : নিরাপত্তা বিশ্লেষক, গবেষক ও লেখক

চব্বিশ, নব্বই, উনসত্তর

ভুল পরামর্শে কৃষকের সর্বনাশ

ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার

স্কুলে বিকালে ক্লাস নয়, খেলাধুলার সুযোগ দিন

শত্রুর সন্ধানে ইসরাইলের নিরন্তর যাত্রা

ওরা জাতির কলিজায় আঘাত দিয়েছে

মেডিকেল খাতে অস্থিরতা কেন

লুক ইস্ট পলিসি করিডোর ও সম্ভাবনার দুয়ার

‘মেড ইন ইন্ডিয়া’র আসল অর্থ যখন ‘মেড ইন চায়না’

রাজনীতিতে ব্যক্তি-বন্দনার অসুস্থ সংস্কৃতি