হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

সারের বস্তা থেকে ‘গুপ্ত’র সতর্কবার্তা

ড. শরিফুল আলম

এক সভা: দুই গল্প

জাতীয় সংসদের সরকারি দলের সভাকক্ষে ১১ অক্টোবর বিএনপির সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। তিন ঘণ্টার বেশি সময় চলা এই সভায় ১৯৪ সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এই সভায় অন্তত ২৫ মন্ত্রী ও এমপি বক্তব্য দেন। ওই একই ঘরে দুটি ভিন্ন গল্প উঠে আসে।

প্রথম গল্পটি বাইরের শত্রুর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশঙ্কা প্রকাশ করেন অচিরেই ‘স্বৈরাচার’ ও ‘গুপ্ত’রা একসঙ্গে হতে পারে এবং সেজন্য তার দলের সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলেন। আর দ্বিতীয় গল্পটি ভেতরের ব্যর্থতার। একই সভায় সংসদ সদস্যরা আইনশৃঙ্খলার অবনতি, মাদকের বিস্তার এবং সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম তুলে ধরেন। এমনকি ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ও ডিলারশিপ পাওয়ার অভিযোগ করেন।

দুটি গল্প আসলে একটি রাজনৈতিক ধাঁধার দুই প্রান্ত। শাসক দল যখন শত্রুর ছবি আঁকে, তখন তার নিজের কর্মীদের বণ্টন-রাজনীতি সেই ছবির নিচে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। এটি বুঝতে সংকটের দুটি স্তর আলাদা করে দেখতে হবে।

সংকট শুধু জোগানে নয়, প্রাপ্তিতেও

বাইরের ধাক্কা বাস্তব। দেশে ইউরিয়ার বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৬ লাখ টন, যার ১৪ লাখ টনই লাগে ডিসেম্বর-মার্চের বোরো মৌসুমে। অথচ ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইউরিয়ার মজুত ছিল মাত্র ৩ দশমিক ৭৬ লাখ টন এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে হরমুজ প্রণালির পথে আমদানি অনিশ্চিত। কিন্তু মজুত ও মাঠের তথ্যের মধ্যে ফাঁক আছে। সংসদীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে, তিন ধরনের সারের মজুত গত অর্থবছরের চেয়ে বেশি। তবু কমিটির অন্তত তিন সদস্য নিজ এলাকায় সংকটের অভিযোগ করেছেন। বিভিন্ন জাতীয় মিডিয়া সার-সংক্রান্ত মাঠের হিসাব দিয়েছে। ‘কৃষকরা সরকার-নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ১৫০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দিচ্ছেন’। ‘বরগুনার তালতলীর এক ইউনিয়নে অক্টোবরে চাহিদা ৭০ টন হলেও বরাদ্দ মিলেছে ২০ টন।’ ‘টিএসপি ও ডিএপি অনেক কৃষক সংগ্রহই করতে পারেননি এবং আমনের ফলন নিয়ে আশঙ্কা করছেন।’

অমর্ত্য সেন Poverty and Famines (১৯৮১) গ্রন্থে দেখিয়েছিলেন, দুর্ভিক্ষ বা সংকট শুধু মোট জোগান কমলে হয় না। মানুষের প্রাপ্তির অধিকার ও প্রবেশাধিকার ভেঙে পড়লেও হয়। দেশের সার ব্যবস্থাপনার জাতীয় মজুতের প্রশ্নের পাশাপাশি দেখতে হবে, কৃষক নির্ধারিত দামে ডিলারের কাছ থেকে সার পাচ্ছেন কি না। আর এখানেই ডিলার নেটওয়ার্কের রাজনীতি প্রাসঙ্গিক।

ডিলারশিপ: রেন্ট ও আনুগত্য মিলিত হয়

ভর্তুকিপ্রাপ্ত সারের সরকারি দাম বাজারদরের চেয়ে কম। এই ব্যবধানই অর্থনীতিবিদদের ভাষায় ‘রেন্ট’। অ্যান ক্রুগার ও গর্ডন টুলক দেখিয়েছেন, রাষ্ট্র কোনো সুবিধা সীমিত করে দিলে সমাজ সেই সুবিধা পাওয়ার প্রতিযোগিতায় সম্পদ খরচ করে। তাতে উৎপাদন বাড়ে না, তদবির বাড়ে। ডিলারশিপ সেই রেন্ট ধরার লাইসেন্স। বস্তাপ্রতি ১৫০-৪০০ টাকার বাড়তি দাম আসলে এই রেন্টেরই মাঠপর্যায়ের প্রতিচ্ছবি।

আনুগত্যের বিনিময়: জেমস স্কট পৃষ্ঠপোষক-মক্কেল সম্পর্ককে সংজ্ঞায়িত করেছেন ক্ষমতাবানের সুবিধা আর অনুগতের সমর্থনের বিনিময় হিসেবে। কিটশেল্ট ও উইলকিনসন দেখিয়েছেন, দলগুলো প্রায়ই নীতির বদলে ব্যক্তিগত পুরস্কারের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক টিকিয়ে রাখে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্টোকস ‘ব্রোকার’ ধারণা অনুযায়ী ইউনিয়ন-উপজেলার একজন সার ডিলার আদর্শ ব্রোকার, কারণ প্রতিটি কৃষক তার দোকানে নিয়মিত যান।

এই তাত্ত্বিক কাঠামো মাথায় রেখে বিভিন্ন জেলার অভিযোগগুলো পড়লে একটি ধরন চোখে পড়ে। যেমন : রাজশাহীতে নিয়োগ পাওয়া ৬৯ ডিলারের অধিকাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী বা তাদের পরিবারের সদস্য বলে অভিযোগ রয়েছে। মিডিয়ায় এসেছে, একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, ‘তিন সংসদ সদস্যের তালিকা থেকেই নিয়োগ হয়েছে অথচ আবেদনকারীরা লটারি চেয়েছিলেন।’ মেহেরপুরে ২২ জন ডিলারের তালিকায় নেতাদের ছেলে, ভাই, ভাতিজা ও স্ত্রীর নাম থাকার অভিযোগ। বগুড়ায় বাদ পড়া প্রার্থীরা ‘এমপি কোটা’র অভিযোগ তুলেছেন। এক বিএনপি নেতার ভাষ্য, সংসদ সদস্যের সুপারিশ ছাড়া কোনো ফাইল এগোয় না। নাটোরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনুসারী হিসেবে পরিচিত একজনের ডিলারশিপ বাতিলের দাবিতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা মানববন্ধন করেছেন। এ রকম হাজারো উদাহরণ আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারছি।

ভেতরের দ্বন্দ্ব ও আমলাতন্ত্রের চাপ

মুশতাক খানের ‘পলিটিক্যাল সেটলমেন্ট’ তত্ত্ব (২০১০) বলে, ক্ষমতাসীন জোট টিকে থাকে প্রভাবশালী উপদলগুলোর মধ্যে রেন্ট ভাগ করে। কর্মীদের পুরস্কৃত করার চাপ তাই স্বাভাবিক। ক্ষমতাসীন দলের সংসদীয় দলের সভায় একজন সংসদ সদস্য অন্যের নির্বাচনি এলাকায় হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানান। আর একজন প্রতিমন্ত্রী চাকরিসহ সরকারি নানা ক্ষেত্রে বিএনপি নেতাকর্মীদের সুযোগ দেওয়ার চেষ্টার আশ্বাস দেন। অর্থাৎ ব্রোকারদের এলাকা-সীমানা নিয়ে টানাপোড়েন এবং কর্মী-পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দুটোই প্রকাশ্যে এসেছে।

প্রকৃতপক্ষে, সমস্যা শুরু হয় বণ্টন অস্বচ্ছ হলে। তখন উপদলীয় ক্ষোভ জন্ম নেয়, যেমন নীলফামারী বা নাটোরে নিজ দলের নেতাদের প্রতিবাদে দেখা গেছে। মাইকেল লিপস্কির ‘স্ট্রিট-লেভেল ব্যুরোক্র্যাসি’র ধারণাও এখানে প্রযোজ্য। কৃষি কর্মকর্তা, ইউএনও ও জেলা প্রশাসকের হাতে মাঠপর্যায়ের বিবেচনা-ক্ষমতা আছে আর সেই ক্ষমতা স্থানীয় রাজনৈতিক চাপে বেঁকে যেতে পারে। কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি নিজেই স্বীকার করেছেন, ডিলার নিয়োগে কিছু অনিয়ম হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ‘স্বৈরাচার-গুপ্ত’ তত্ত্ব

প্রধানমন্ত্রীর স্বৈরাচার, গুপ্ত-সংক্রান্ত মন্তব্যটি নতুন নয়। ফেনীর এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, গত নির্বাচনে গুপ্ত বাহিনীর সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া শক্তির তলে তলে যোগাযোগ হয়েছিল। রাজশাহীর জনসভায়ও তিনি একই কথা বলেছেন এবং গোয়েন্দা তথ্য থাকার দাবি করেছেন। বিরোধী দল জামায়াত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতি ইঙ্গিত তা সহজে বোঝা যায় ।

কার্ল শ্মিটের মতে, রাজনীতির মূল ভিত্তি বন্ধু ও শত্রুর পার্থক্য। ‘স্বৈরাচার’ ও ‘গুপ্ত’ দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক ধারাকে এক শত্রু শিবিরে বসিয়ে দেয়। এতে প্রতিপক্ষ ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শের প্রতিদ্বন্দ্বী থাকে না, একটি অভিন্ন বিপদে পরিণত হয়।

এর্নেস্তো লাক্লাউ দেখিয়েছেন, জনতাবাদী রাজনীতি বিভিন্ন অসন্তোষকে ‘সমতুল্যতার শৃঙ্খলে’ গেঁথে একটি সাধারণ প্রতিপক্ষ তৈরি করে। কাস মুদ্দে জনতাবাদের মূলে দেখেছেন ‘বিশুদ্ধ জনগণ বনাম দুর্নীতিগ্রস্ত অভিজাত’ দ্বিভাজন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এই কাঠামো স্পষ্ট। একদিকে ‘রাজপথে থাকা’ ও কাজ করা জনগণ আর বিএনপি, অন্যদিকে ‘পালানো’ ও ‘গুপ্ত’ শক্তি। তার পূর্ববর্তী বক্তব্যে এই দ্বিভাজন আরো খোলামেলা ছিল; যেখানে তিনি প্রতিপক্ষের কোনো কর্মসূচি নেই বলে দাবি করে বিএনপিকে কাজ দিয়ে প্রমাণিত শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন।

বুজান, ওয়েভার ও ডি উইল্ডের কোপেনহেগেন স্কুল বলে, কোনো বিষয়কে ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ হিসেবে উপস্থাপন করলে স্বাভাবিক রাজনীতির নিয়মের বাইরে গিয়ে কঠোর পদক্ষেপ ও শৃঙ্খলা দাবি করা সহজ হয়। ‘অস্থিতিশীলতা’, ‘মব সৃষ্টি’ ও ‘ষড়যন্ত্র’র ভাষা সেদিকেই ইঙ্গিত করে। তবে এখানে সীমাবদ্ধতা আছে। তিনি একই সভায় বলেছেন, বিএনপি হামলা-মামলা ও জেল-জুলুমের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তাই এটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তায়ন নয়। বরং ‘আংশিক নিরাপত্তায়ন’। বয়ানে হুমকির ভাষা আছে, কিন্তু ঘোষিত নীতিতে দমনের প্রতিশ্রুতি নেই।

লুইস কোজারের তত্ত্বে বাইরের শত্রু অভ্যন্তরীণ সংহতি বাড়ায়। প্রধানমন্ত্রী যখন বাইরের সম্ভাব্য জোটের কথা তুলে নিজ দলে সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ থেকে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার নির্দেশ দেন, তখন এই সংহতির কাজটিই দেখা যায়। ডিলারশিপ নিয়ে সংসদ সদস্যদের পারস্পরিক অভিযোগের মুহূর্তে এর রাজনৈতিক তাৎপর্য আরো বেড়ে যায়।

বক্তব্যটির অবস্থান মূলত শ্মিটীয় বন্ধু-শত্রু বিভাজন ও লাক্লাউ-ধাঁচের জনতাবাদী সীমারেখা টানার জায়গায়। এর সঙ্গে কাজ করছে আংশিক নিরাপত্তায়ন ও কোজারীয় সংহতি কৌশল। অর্থাৎ বক্তব্যটির দ্বৈততা লক্ষণীয়। বাইরের দিকে প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক সীমানা নির্ধারণ, ভেতরের দিকে দলীয় শৃঙ্খলা ও ঐক্য।

কোজারের তত্ত্ব অনুযায়ী বাইরের হুমকির বোধ উপদলীয় বিরোধ সাময়িক চেপে রাখে। প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দল ও সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা বলেছেন, তাই এই সংহতি-কৌশল সময়োপযোগী। কিন্তু ডিলারশিপের মতো বণ্টন-দ্বন্দ্ব বাইরের হুমকির ভাষায় মেটে না। ভেতরের ক্ষোভ চাপা পড়তে পারে, নিষ্পত্তি নাও হতে পারে।

রবার্ট মার্টনের ‘স্বয়ংসিদ্ধ ভবিষ্যদ্বাণী’ ধারণা এখানে সতর্কবার্তা থেকে বলা যায়, কোনো জোটকে আগেভাগে ‘অবশ্যম্ভাবী’ ঘোষণা করলে সেই জোটের যুক্তি জোরালো হতে পারে এবং প্রতিপক্ষ পরস্পরের কাছে আসার প্রণোদনা পায়। উল্টোদিকে, এই লেবেলিং আস্থাশীল ভোটারদের কাছে বিরোধীদের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করতেও পারে। কোন প্রভাবটি জোরালো হবে, তা আগামী মাসগুলোর রাজনৈতিক আচরণ ও স্থানীয় নির্বাচনের ফলেই বোঝা যাবে।

বৈধতার পরীক্ষা: সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

ফ্রিৎস শার্ফ বৈধতাকে ‘ইনপুট’ যাকে আমরা নির্বাচন ও অংশগ্রহণ আর ‘আউটপুট’Ñযাকে সরকারের কার্যকর সেবা বলি এই দুই ভাগে দেখেছেন। বিএনপির বৈধতা নির্বাচনি ম্যান্ডেট থেকে আসে। কিন্তু সারের সরবরাহ, আইনশৃঙ্খলা বা মাদকের মতো বিষয়ে আউটপুট বা বৈধতা যাচাই হয় কৃষকের হাতে সার পৌঁছানো দিয়ে। শত্রুর বর্ণনা দিয়ে নয়। কেনেথ উইভারের ‘ব্লেম অ্যাভয়ডেন্স’ তত্ত্ব বলে, ক্ষমতাসীনরা প্রায়ই ব্যর্থতার দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেকে রক্ষা করতে চান। সংকটের সময় ‘অস্থিতিশীলতার ষড়যন্ত্র’ বয়ান সেই প্রবণতার সঙ্গে মিলে যেতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী শুধু দায় বাইরে ঠেলেননি। একই দিনের আরেকটি মিডিয়ার শিরোনামে তার বরাতে বলা হয়েছে, অপকর্মে জড়ালে নেতা, এমপি বা মন্ত্রী কেউ ছাড় পাবেন না। অভ্যন্তরীণ জবাবদিহির এই বার্তা ইতিবাচক, তবে বাস্তবায়নের প্রমাণ এখনো বাকি।

বয়ানের বুমেরাং: ডিলারশিপে

সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক দিক হলো, ‘স্বৈরাচারের দোসর’ ও ‘গুপ্ত’ লেবেল এখন দলের ভেতরের বিতর্কেও ব্যবহৃত হচ্ছে। নাটোর ও সাতক্ষীরার ঘটনায় বিএনপি-নেতারা নিজ দলের নিয়োগকে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট বলে চ্যালেঞ্জ করছেন। এর ঝুঁকি দুটি। প্রথমত, এই লেবেল উপদলীয় লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে হটানোর অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে, ফলে প্রকৃত অনিয়ম ও রাজনৈতিক নামকরণের মধ্যে ফারাক ঘোলা হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, প্রতিপক্ষের হাতেও এটি অস্ত্র। মেহেরপুরে জামায়াতের স্থানীয় নেতা ডিলার নিয়োগকে শতভাগ দলীয়করণ বলেছেন। অর্থাৎ বণ্টন-রাজনীতির অস্বচ্ছতা ক্ষমতাসীনদের শত্রু-বর্ণনাকে উল্টো করে তাদের দিকেই ঘুরিয়ে দিতে পারে।

শত্রুর ছবি যথেষ্ট নয়

আজকের পরিস্থিতিতে সরকারের দুটি চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। একটি হলো বাইরের ধাক্কা, জ্বালানি ও আমদানি-সংকট। অন্যটি ভেতরের কাঠামো, যেখানে রেন্ট ও আনুগত্য বণ্টনের অস্বচ্ছতা কৃষকের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে। প্রধানমন্ত্রীর ‘স্বৈরাচার-গুপ্ত’ বয়ান প্রথমটির রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দিতে পারে এবং দলীয় ঐক্য ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু দ্বিতীয় সংকটের সমাধান এতে মেলে না। কৃষক শত্রুর ছবি দিয়ে ধান ফলান না, তিনি সার চান ন্যায্য দামে। প্রধানমন্ত্রীর সতর্ক বার্তার সত্যিকারের পরীক্ষা এই প্রশ্নে : যারা ডিলার হলেন, তারা কৃষকের জন্য কতটা সেবা দিলেন আর নিয়োগে ঘোষিত নীতিমালা কতটা মানা হলো।

লেখক: সাবেক সচিব, অধ্যাপক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল, ইউনিভার্সিটি

শিশু-কিশোররা ডুবছে অন্ধকারে

ইসলামি ব্যাংকিং ও ইসলামি অর্থায়ন এক নয়

বাংলাদেশ-চীন করিডোর: নতুন সম্ভাবনা

প্রবাসী মা ও তার সন্তানের সংকট

মোদির ভারতের পরাশক্তি হওয়ার স্বপ্ন ও বাস্তবতা

তরুণদের চাকরির বাজারে এআইয়ের ছায়া

বেগম জিয়া জীবিত থাকলে গুপ্ত স্লোগানের কী হতো

বিমানবন্দরের আয়নায় বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি

উন্নয়নের জন্য দরকার গণতন্ত্র

খাদ্য ঘাটতির দেশে বাড়তি উৎপাদন