হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

বেহেশতের টিকিট বনাম দুনিয়ার রাজনীতি

মিনার রশীদ

মিনার রশীদ

একসময় আমাদের গ্রামগঞ্জের বাজারগুলোর প্রবেশপথে এক বা একাধিক মাইক নিয়ে কিছু ধর্মীয় বক্তা বসতেন। বাজারে যাওয়া মানুষের উদ্দেশে সারাক্ষণই বলা হতো—‘আমার ইসলামদরদি ভাইয়েরা, দুনিয়ার বাজার করতে যাচ্ছেন, সঙ্গে আখিরাতের সওদাও নিয়ে যান।’ একই ধরনের ভাষা মসজিদ ও মাদরাসার ফান্ড সংগ্রহের সময়েও নিয়মিত শোনা যেত। চারআনা-আটআনা বলে বোধহয় গায়ে লাগত না। এখন আরো বড় জিনিস বেচাকেনা হচ্ছে দেখে আমাদের অনেকের কাছে তা ‘শিরক’ বলে মনে হচ্ছে!

তবে ইতিহাস থেকে জানা যায়, বেহেশতের টিকিট প্রথম ফেরি করে বিক্রি করেছেন বহলুল নামের একজন পাগল। তিনি খলিফা হারুন অর রশীদের জমানায় বাগদাদ নগরীতে বাস করতেন! কেউ বলত তিনি পাগল, কেউ বলত দরবেশ।

একদিন বহলুল শহরের হাটে দাঁড়িয়ে চিৎকার করতে লাগলেন—‘বেহেশতের টিকিট লাগবে, বেহেশতের টিকিট! খুব সস্তা!’ লোকজন হেসে উঠল। কেউ বলল—‘এই পাগল আবার কী শুরু করল!’

কিন্তু বহলুল দমলেন না। হাতে কাগজের টুকরো, তাতে লিখে দিচ্ছেন ‘বেহেশতের টিকিট’। দামও নাকি খুব কম—কয়েকটা দিনার মাত্র। এ খবর গিয়ে পৌঁছাল খলিফা হারুন অর রশীদের প্রাসাদে। বিশেষ করে, বিষয়টি কৌতূহলী করে তুলল তার বেগমকে।

বেগম গোপনে একজন খাদেম পাঠালেন বহলুলের কাছে। খাদেম গিয়ে জিজ্ঞেস করল—‘তোমার বেহেশতের টিকিট কত দামে দাও?’ বহলুল বললেন—‘আজকের দিনে একশ দিনার।’

খাদেম ফিরে গিয়ে সব বলল। বেগম কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন—‘টিকিটটা কিনে আনো।’

খাদেম অবাক হয়ে বলল—‘হুজুরা, লোকটা তো পাগল!’ বেগম শান্ত গলায় উত্তর দিলেন, আমি যা বলেছি, তুমি তাই করো! টিকিট কিনে আনা হলো। বহলুল কাগজে লিখে দিলেন—‘এই টিকিটের মালিক আল্লাহর পথে দান করেছে—‘সে আল্লাহর রহমতের আশা করতে পারে।’

রাতে হারুন অর রশীদ জানতে পারলেন পুরো ঘটনা। তিনি প্রচণ্ড রেগে গেলেন। পরিষদবর্গকে ডেকে ডেকে বললেন—‘দেখো দেখো, বেগম এক পাগলের কাছ থেকে বেহেশতের টিকিট কিনেছে!’

বছর কেটে যায়। বেগম জোবাইদা একদিন ইন্তেকাল করেন। দুনিয়ার সব ক্ষমতা, সব রাজকীয় আয়োজন তখন হারুন অর রশীদের কাছে অর্থহীন মনে হয়। শোকের ভারে এক রাতে তিনি গভীর ঘুমে তলিয়ে যান। সেই ঘুমেই তিনি এক স্বপ্ন দেখেন। স্বপ্নে দেখেন—বেগম জোবাইদা আলোয় ভরা এক উদ্যানে দাঁড়িয়ে আছেন। মুখে প্রশান্তির হাসি। চারপাশে এমন এক শান্তি, যা দুনিয়ার কোনো প্রাসাদেও নেই। বেগমের হাতে বহলুল পাগলের সেই টিকিট!

ঘুম ভেঙে গেলে হারুন অর রশীদ আর শান্ত থাকতে পারেন না। পরদিন সকালেই তিনি লোক পাঠান—বহলুলকে দরবারে হাজির করতে। বহলুল আসে—আগের মতোই নির্ভীক, নির্লোভ। খলিফা বলেন—‘বহলুল, আমিও তোমার কাছ থেকে সেই বেহেশতের টিকিট কিনতে চাই।’

কিন্তু বহলুল মাথা নিচু করে শান্ত গলায় বলেন—‘জাহাঁপনা, সেই টিকিট সব সময় পাওয়া যায় না। আর তা সবার ভাগ্যেও জোটে না।’ হারুন অর রশীদ বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করেন, কেন? বহলুল উত্তর দেন, ‘কারণ এই টিকিট টাকা দিয়ে কেনা যায় না। এটা জোটে শুধু বিশ্বাসের মূল্যে!’

অনেক অনেক বছর পর আবার সেই বেহেশতের টিকিট বিক্রির কথা শোনা যাচ্ছে। এবার বিক্রেতা বহলুল পাগলের মতো কেউ নন—ক্রেতাও মহীয়সী জোবাইদা বেগমের মতো কেউ নন । অভিযুক্ত বিক্রেতা জামায়াতে ইসলামী এবং ক্রেতা ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোটাররা।

রাজনীতি। প্রতীকী ছবি

আগে শুধু বিএনপির নিচের সারির নেতারা এসব নিয়ে কথা বললেও ইদানীং দেশে এসে কথা বলছেন অন্য এক মহীয়সী জোবাইদার স্বামী তারেক রহমান! ফলে বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক মহলে অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে পড়েছে!

এখনো বিএনপির পছন্দের বুদ্ধিজীবিতার তালিকায় যারা রয়েছেন এবং এখনো যারা গুপ্ত জামায়াত হিসেবে সাব্যস্ত হননি, তাদের মধ্যে ফাহাম আব্দুস সালাম অন্যতম। বিএনপির উদ্দেশে তার একটি পরামর্শ আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। ধর্মের তাত্ত্বিক বিষয়ে বিএনপির উচিত হবে না জামায়াতের সঙ্গে তর্কে জড়ানো। বিএনপির সর্বোচ্চ কিংবা দ্বিতীয় বা তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতাদের জন্য পরামর্শটি আরো বেশি প্রযোজ্য!

আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমানও তারেক রহমানকে একটি কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন। আমাদের ইতিহাসের দুই মহীরুহের সন্তান হিসেবে তারেক রহমান সাহেবের যে বিশেষ সুবিধা রয়েছে—অসুবিধাও তার চেয়ে কম নহে। জনগণ খুব সহজেই তার বাবা-মায়ের সঙ্গে এই তুলনাটি টেনে ফেলবে।

সিঙ্গাপুরে এসে আমি যে শিপিং অফিসে চাকরি করতাম, সেখানে আমি ছিলাম তিন নম্বর বস! অন্য কোনো কাউন্টারপার্ট বা ক্লায়েন্টের সঙ্গে কোনো নেগোসিয়েশন থাকলে আমার দুই নম্বর বস আমাকে পাঠিয়ে বলতেন, তুমি গিয়ে এই কথা বলো। তাতে তোমার এই কথা ব্যাক ফায়ার করলে আমি কিংবা বস গিয়ে ওটাকে কভার দিতে পারব। বলতে পারব, ও ছোট মানুষ! ভুল করে বলে ফেলেছে। কিন্তু আমি বা প্রথম বস বলে ফেললে সেই সুযোগ আর থাকবে না! গ্রে-এরিয়ায় দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষকে মোকাবিলায় আমাদের ওই কৌশল রাজনীতিতে কাজে লাগবে কি না, জানি না।

শেখ হাসিনার সঙ্গে তারেক রহমানের তুলনা টানা দুঃখজনক হবে। তারপরও সতর্ক না হলে এই তুলনা অটোমেটিক এসে পড়বে। কারণ শেখ হাসিনাও যা বলার নিজে বলে ফেলতেন! নিচের কারো জন্য অপেক্ষা করতেন না। অথচ ম্যাডাম খালেদা জিয়ার পলিসি ছিল ভিন্ন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিত্বের তো কথাই ছিল না। তার মুখ থেকে প্রতিপক্ষ সম্পর্কে ন্যূনতম সমালোচনা শোনা যায়নি।

ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ‘আইটেম’ হলো বেহেশত—ইংরেজিতে যাকে বলা হয় Heaven বা Salvation। তাদের সব কাজের অনুপ্রেরণা আসে এই জায়গা থেকে। অনেকেই দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট-জেল-জুলুম সহ্য করে বেহেশতের লোভ থেকে! বেহেশতের এই লোভ দুনিয়ার অনেক লোভকে শুষে নেয়! জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী ফাঁসির মঞ্চে ওঠার কিছুক্ষণ আগে নিজের নাতি এবং পরিবারবর্গের সঙ্গে যেভাবে খোশমেজাজে কথা বলেছেন, তা সত্যি আশ্চর্যজনক ঠেকেছে!

মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়ই বলে থাকে, ইসলাম কায়েম করাই তাদের লক্ষ্য। তাদের ভাষায়, যারা এই পথে সহযোগিতা করবে, তারা আল্লাহর প্রিয় বান্দা হবে এবং আখিরাতে পুরস্কৃত হবে। এখানে রাষ্ট্রক্ষমতার লড়াইকে ‘দ্বীনের লড়াই’ বানিয়ে ফেলা হয়।

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে খ্রিষ্টান ডানপন্থি দলগুলো সরাসরি বেহেশতের কথা কম বললেও মূল বক্তব্য একই থাকে। ‘God, Family, Nation’—এই স্লোগানের আড়ালে রাজনীতিকে পাপ–পুণ্যের মানদণ্ডে বিচার করা হয়। গর্ভপাত, সমকামিতা কিংবা ধর্মনিরপেক্ষতাকে ঈশ্বরবিরোধী কাজ হিসেবে চিহ্নিত করে বলা হয়, ঈশ্বরভীরু সরকার না হলে জাতি ধ্বংস হবে। এখানে ভোট দেওয়া মানে ঈশ্বরের পক্ষে দাঁড়ানো।

ভারতে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে ‘রামরাজ্য’ ও ‘ধর্ম রক্ষা’র স্লোগান দিয়ে ক্ষমতার পথ তৈরি করা হয়েছে। এখানে বলা হয়, ধর্ম রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় পুণ্য। দেশ ও ধর্মকে এক করে ফেলা হয়, যাতে রাজনৈতিক সমর্থন মানে ধর্মীয় কর্তব্য পালন। এর ফলে কংগ্রেসের মতো দলও রামরাজ্য প্রতিষ্ঠার কথা না বলে থাকতে পারে না!

সেক্যুলার ঘরানার যারা, ওনাদের সঙ্গে রাজনীতি করেন তারা এতে চরম বেকায়দায় পড়ে যান। এ রকম বেকায়দায় পড়ে গেছে বিএনপি। তবে বিষয়টি যে প্রজ্ঞার সঙ্গে মোকাবিলা করা দরকার ছিল, তা বোধহয় অনুপস্থিত থেকে যাচ্ছে! এটা সম্যকভাবে মোকাবিলা করতে হলে বেহেশতের টিকিট বিক্রির কিসিমটি ভালো করে হৃদয়ঙ্গম করতে হবে!

বেহেশতের টিকিটের মোহে মানুষ আকৃষ্ট হচ্ছে—এই বয়ানটি ক্রমেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে। বরং নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের সুবিধাবাদ, নীতিহীন সমঝোতা ও গভীর অস্বচ্ছতার প্রতি জনমনে যে তীব্র অনাস্থা জন্মেছে, তারই প্রত্যক্ষ প্রতিফলন হিসেবে জনগণ বিকল্প পথে ঝুঁকছে। এখানে চালিকাশক্তি কোনো পারলৌকিক স্বপ্ন নয়; এটি সম্পূর্ণরূপে ইহজাগতিক—জনগণের জাগতিক প্রয়োজন ও প্রত্যাশা মেটাতে সক্ষম নেতৃত্বের তাগিদ থেকে উৎসারিত। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই প্রবণতা অশিক্ষিত জনগোষ্ঠীতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিভিন্ন জরিপ স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে শিক্ষিত শ্রেণির মধ্যেই তাদের গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা প্রচলিত রাজনৈতিক বয়ানকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে।

ধর্মের তাত্ত্বিক জটিলতায় না জড়িয়ে বিএনপির উচিত ইসলামপন্থি দলগুলোর এই চ্যালেঞ্জ ইহজাগতিকতা দিয়েই মোকাবিলা করা। তজ্জন্যে দৃশ্যমান কিছু ইহজাগতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার, যাতে জনগণ টের পায় যে প্রকৃত অর্থেই কিছু পরিবর্তন হচ্ছে। চার কোটি নতুন ভোটার কীভাবে বিহেইভ করবে, তা জানি না! সামনের নির্বাচনে প্রায় ১৭ থেকে ২০ শতাংশ সুইং ভোটার রয়েছে, যারা দলীয় আবেগ কিংবা বেহেশতের টিকিটের বিনিময়ে ম্যানেজ হবে না! কিন্তু এই সুইং ভোটাররাই মোটামুটি নির্ধারণ করবে সামনে কারা ক্ষমতায় যাচ্ছে!

সবকিছু মিলিয়ে বিএনপিকে ‘এখন একটা শক্ত প্রোপাগান্ডা মোকাবিলা করতে হচ্ছে’। মূলধারার মিডিয়ার বড় অংশ এখন বিএনপির পক্ষে অবস্থান নিলেও প্রতিপক্ষের সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারের সম্মুখে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। কারণ মূলধারার মিডিয়া আগের রেজিমে যে আস্থার সংকটে পড়েছিল, তা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারছে না! ফলে ইহজাগতিক যেই পরিকল্পনা বিএনপি পেশ করে সেটাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলা হচ্ছে!

বিএনপি কর্তৃক উপস্থাপিত ফ্যামিলি কার্ড নিয়েও একই ফেনোমেনা শুরু হয়ে গেছে! প্রশ্ন করা হচ্ছে—এত টাকা কোথা থেকে আসবে?

অথচ এই প্যাকেজটি বাস্তবায়ন করা সরকারের পক্ষে অসম্ভব হবে না। বর্তমান আর্থসামাজিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে এক কোটি পরিবারের জন্য এই অনুদানটির প্রয়োজন হতে পারে! আর এক কোটি পরিবারকে মাসে ২০ হাজার টাকা হিসেবে এক বছরে লাগবে ২ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন টাকা, যা ডলারে হয় ২০ বিলিয়ন ডলারের মতো। আমরা জানি, আওয়ামী সরকারের লাইসেন্সধারী লুটেরা গোষ্ঠী গত ১৬ বছরে প্রায় ২৫০ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাচার করেছে—অর্থাৎ প্রতিবছর পাচার করেছে ১৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এটা থেকে যদি তারেক রহমান ধারণা করেন, তিনি যদি এই টাকা পাচার ৮০ শতাংশ বন্ধ করতে পারেন, তবে প্রতিবছর ৫০ লাখ পরিবারকে এই প্রণোদনা দিতে পারবেন! কাজেই এই হিসাব গাঁজাখুরি কোনো হিসাব নয়। এটি অত্যন্ত বাস্তবায়নযোগ্য (Achievable) একটি পরিকল্পনা!

আরো সংযতভাবে হিসাব ধরলে, ধরা যাক মাত্র ২৫ লাখ পরিবার দিয়েই উদ্যোগটি শুরু করা হলো। এই ২৫ লাখ পরিবার নতুন করে বিভিন্ন পণ্যের ভোক্তা হিসেবে বাজারে যুক্ত হবে। গড়ে প্রতিটি পরিবারে চারজন সদস্য ধরলে, বাজারে অন্তত এক কোটি নতুন ভোক্তার প্রবেশ ঘটবে । এর ফলে সংশ্লিষ্ট পণ্য ও সেবাকে কেন্দ্র করে একটি নতুন অর্থনৈতিক চক্রের সূচনা হবে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এই পরিবারগুলো যদি সপ্তাহে মাত্র দুটি করে ডিম অতিরিক্ত গ্রহণ করে, তবে সপ্তাহে বাড়তি চাহিদা তৈরি হবে প্রায় দুই কোটি ডিমের। একইভাবে তারা পোশাক কিনবে, জুতা কিনবে, দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ব্যবহার করবে—আর প্রতিটি ক্ষেত্রেই নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। যারা এই কর্মসংস্থানে যুক্ত হবেন, তারাও আবার ভোক্তা হিসেবে বাজারে অংশ নেবেন, ফলে অর্থনীতি আরো গতিশীল হবে।

অতএব সমস্যাটি অর্থের ঘাটতির নয়; মূল সমস্যা রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব। দুর্নীতি রোধে শুধু বক্তব্য বা প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়—এর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং দৃশ্যমান কাজের মাধ্যমে আস্থা তৈরি করতে হবে।

তারেক রহমানের বক্তব্য—ক্ষমতায় এলে তিনি দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবেন—শুনতে আকর্ষণীয়, কিন্তু এর সাফল্য নির্ভর করবে কথার জোরে নয়, কাঠামোগত সাহসে। বাস্তবতা হলো, যদি দুর্নীতির মূল উৎসে আঘাত করা যায়, তাহলে অর্থের সংকট কোনো মৌলিক সমস্যা থাকে না; অর্থ আপনাতেই পথ খুঁজে নেয়। প্রশ্ন একটাই—রাষ্ট্র কি নিজেকে শুদ্ধ করার মতো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারবে?

এই জায়গায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে একটি স্বাধীন ও কার্যকর ‘ন্যায়পাল’ প্রতিষ্ঠা। যদি ন্যায়পাল শুধু নামমাত্র পদ না হয়ে বাস্তব ক্ষমতা পায়—এবং যদি তিনি রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য কিংবা শীর্ষ আমলাদের বিরুদ্ধেও নির্ভয়ে ব্যবস্থা নিতে পারেন—তবেই দুর্নীতির শেকড় নাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। অন্যথায়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই আবার বক্তৃতার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

দুর্নীতি দমন মানে কাউকে নিশানা করা নয়; বরং এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে ক্ষমতা জবাবদিহির আওতায় থাকবে। তারেক রহমান যদি এই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পথে সত্যিই এগোতে পারেন, তবে ‘দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা’ স্লোগান নয়—রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তব নীতিতে পরিণত হতে পারে।

আমরা তার সফলতা কামনা করি।

লেখক : কলামিস্ট

কেন ‘হ্যাঁ’ ভোটই গণতন্ত্রের শেষ সুযোগ

ঋণখেলাপি এবং দ্বৈত নাগরিক সব ভবিষ্যৎ আইনপ্রণেতা

২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ও ডিপ স্টেট

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র ঘিরে রিফাইন্ড লীগের বুলবুলি আখড়াই

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা

‘এই দিনে ১১ মিনিটে বাকশালী শাসন কায়েম করেছিলেন শেখ মুজিব’

নতুন উচ্চতায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা খাত

সবুজ পাসপোর্টের মানোন্নয়ন জরুরি

বিশ্বে বিরল মৃত্তিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম ভান্ডার গ্রিনল্যান্ড

নির্বাচন বিতর্ক ও জাতীয় ঐক্য