হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

জীবনের মধ্যাহ্নেই দেখছি মানবতার খণ্ডিত রূপ

মিনার রশীদ

মিনার রশীদ

উপমহাদেশের এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ জীবনের সায়াহ্নে মানবতার অসহায় রূপ দেখে গভীরভাবে ব্যথিত হয়েছিলেন। মানুষের মধ্যে বিভাজন, সংকীর্ণতা ও স্বার্থের সংঘাত তাকে কাতর করেছিল। কিন্তু আজকের পৃথিবীতে পরিস্থিতি যেন আরো জটিল ও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। মনে হচ্ছে, আমরা বিশ্বমানবতাকেই খণ্ডিত করে ফেলেছি।

আজকের বাস্তবতায় মানবতার প্রতি আমাদের আচরণ যেন শর্তসাপেক্ষ। আমরা কান্না শুরুর আগেই লাশের মুখটি দেখে নিই—সে ‘আমাদের’ না ‘অন্য কারো’; তারপর ঠিক করি, শোক প্রকাশ করব কি না। মানবিকতার এই বাছবিচারই আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড় সংকট।

একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের প্রেসিডেন্টকে অন্য একটি দেশ তুলে নিয়ে যায়। অন্য একটি দেশের সর্বোচ্চ নেতাসহ ৪০ জন ঊর্ধ্বতন নেতাকে হত্যা করা হয়। এগুলো নিয়ে বিশ্ববিবেক নীরব। ইরানে প্রায় দেড় শতাধিক স্কুলপড়ুয়া ছোট ছোট মেয়ের মৃত্যুর ঘটনা বিশ্বজুড়ে খুব একটা আলোড়ন তুলতে পারেনি। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। এমনকি আমাদের দেশের তথাকথিত মানবদরদি গোষ্ঠীগুলোর অনেকেও এতে দৃশ্যমান অস্বস্তি বা ক্ষোভ প্রকাশ করেনি। বিশেষ করে যারা নারী ও শিশুর অধিকার নিয়ে সর্বদা সোচ্চার বলে পরিচিত—তাদের নীরবতাই সবচেয়ে বিস্ময়কর।

আমাদের মূল সমস্যা সম্ভবত এখানেই—আমরা প্রায়ই সমস্যার শিকড় চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হই। মানবিকতার প্রশ্নে আমরা নীতির বদলে অবস্থানভিত্তিক বিচার করি। ফলে ন্যায়বোধের পরিবর্তে দ্বিচারিতা আমাদের আচরণে প্রাধান্য পায়।

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ একবার তীব্র ব্যঙ্গের সুরে বলেছিলেন, যারা ইরানকে একটি বা দুটি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সন্দেহে কঠোর শাস্তি দেওয়ার কথা বলেন, তাদের নিজেদের হাতেই রয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি পারমাণবিক অস্ত্র!

এই কথার মধ্যেই লুকিয়ে আছে আজকের বিশ্বরাজনীতির গভীর বৈপরীত্য। শক্তিধররা নিজেদের শক্তিকে নিরাপত্তা বলে ব্যাখ্যা করে, আর অন্যের সম্ভাব্য শক্তিকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরে।

মানবতার এই খণ্ডিত রূপই আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি—যেখানে ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও মানবিকতা আর সর্বজনীন নয়; বরং তা হয়ে উঠেছে পক্ষ, পরিচয় এবং স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল।

নারী : মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যের মোক্ষম অস্ত্র

আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া ও লিবিয়ায় লাখ লাখ নারী ও শিশুকে হত্যা করলেও মুসলিম বিশ্বের নারীদের প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের দরদ দেখানো কমেনি! সৌদি নারীরা যখন গাড়ি চালাতে পারত না, তখন ইরানি নারীরা বিমান চালিয়েছে। তারপরও নারীর প্রতি সহিংসতায় বেশি অভিযুক্ত হয়েছে ইরান! মাঝে মাঝে মনে হয় মধ্যপ্রাচ্যের তেলের চেয়েও সেখানকার নারীদের প্রতি পশ্চিমা বিশ্ব বেশি মহব্বত পোষণ করে।

যারা ২৫০ বছরের মধ্যে একবারের জন্যও রাষ্ট্র ও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে একজন নারীকে বসাতে পারেনি, ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস যে আজ তাদের কাছ থেকে নারীর ক্ষমতায়ন সম্পর্কে লেসন নিতে হয়! যারা দু-দুবার দুজন যোগ্য নারীকে রেখে একজন অর্ধোন্মাদ পুরুষকে ক্ষমতায় বসিয়েছে, তাদের কাছ থেকেই পুরুষতান্ত্রিক সমাজকে মোকাবিলা করার কৌশল শিখতে হয়! যারা মেয়েদের স্কুলে মিসাইল হামলা করে কয়েক মিনিটে ১৫০ মেয়েসন্তানকে হত্যা করে, তাদের কাছ থেকে আজও মানবতার লেসন নিতে হয়!

পাশ্চাত্যের চোখ দিয়ে নিজেদের সমস্যাকে আর না দেখে নিজেদের প্রজ্ঞা দিয়েই এসব সমস্যার রুট কজ অ্যানালাইসিস করতে হবে এবং নিজেদের কৃষ্টি-কালচারের ভেতর দিয়েই তার সমাধান খুঁজতে হবে! এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক কয়েকটি উদ্যোগ দেশের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রশংসা অর্জন করেছে। তার বিভিন্ন পরিকল্পনার মধ্যে দেশের নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং অতিদারিদ্র্য দূরীকরণে ইসলামের জাকাত ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর চিন্তাটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ইসলামই সর্বপ্রথম কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের—১ হাজার ৪০০ বছর পরেও তা আমরা সফলভাবে প্রয়োগ করতে পারিনি! এটাকে ইস্যু করে চিন্তাবিলাসী দল একদিকে ইসলামকে (সমবণ্টনের নামে) কুপিয়েছে, অন্যদিকে ইসলামদরদি জনতা এক ধরনের আত্মতৃপ্তিতে মগ্ন হয়েছে! বাস্তবে কী হয়েছে, সেই খবর কেউ রাখিনি! আর এই সুযোগে নারীদরদি পশ্চিমারা আমাদের নিয়ে মনের মতো খেলা খেলেছে!

ইসলামে নারীর যে অধিকার নির্ধারিত আছে, আমরা তা অনেক সময় কাজির গরুর মতো করে রেখেছি—কেতাবে আছে, কিন্তু গোয়ালে নেই। আমরা প্রায়ই বলি, ইসলামের বিধান অনুযায়ী একজন নারী একাধিক উৎস থেকে সম্পদ পাওয়ার অধিকার রাখেন। কিন্তু বাস্তবতার দিকে তাকালে দেখা যায়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস—পিতার সম্পত্তি থেকেই অনেক ক্ষেত্রে মেয়েরা বঞ্চিত হন। দেশের অনেক অঞ্চলে এখনো ‘ওয়ারিশ’ নেওয়ার বিষয়টি, বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে, সামাজিকভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়। এমন প্রচারণাও শোনা গেছে—যদি মেয়েরা পিতার সম্পত্তির অংশ নেয়, তবে নাকি বংশ নির্বংশ হয়ে যাবে। ৩০ বা ৪০ বছর আগে এই ধারণা যেমন ছিল, দুঃখজনকভাবে এখনো অনেক জায়গায় তা রয়ে গেছে।

অনেক সময় ফুফাতো ভাই মামাতো ভাইদের বলেন—‘দেখো, পবিত্র কোরআনে আমাদের এই ন্যায্য অধিকারের কথা স্পষ্টভাবে বলা আছে।’ কিন্তু একই ফুফাতো ভাইদের কাছে যখন তাদের নিজের ফুফাতো ভাই এসে একই যুক্তি তুলে ধরে, তখন সেই কথিত কোরআনের অনুসারীই বলে বসেন—‘আরে মিয়া, রাখো তোমার কোরআন! কোর্টে এসে দেখা করো!’

এই বৈপরীত্য আমাদের সমাজের এক গভীর বাস্তবতাকে সামনে আনে—ধর্মীয় নীতিকে আমরা অনেক সময় নৈতিক আদর্শ হিসেবে স্বীকার করি, কিন্তু বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে তা উপেক্ষা করি। তাই সমাজে ন্যায়বিচার ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হলে কেবল নীতির কথা বলা নয়, সেই নীতির সৎ ও কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করাও জরুরি।

এখনো পৃথিবীতে ৭০০ থেকে ৭৫০ মিলিয়ন মানুষ চরম দারিদ্র্যসীমায় অবস্থান করছে। এগুলো নিয়ে বিশ্বমানবতার ফেরিওয়ালারা কিছু লিপ সার্ভিস দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করতে পারছে না! অথচ কোরআন প্রায় ১ হাজার ৪০০ বছর আগে ঘোষণা করেছে, ধনীদের সম্পদে রয়েছে গরিবদের অধিকার! এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এটা গরিবদের প্রতি ধনীদের অনুকম্পা নয়, এটা তাদের ন্যায্য অধিকার!

বিশ্বের অর্থনৈতিক বৈষম্য আজ মানবসভ্যতার অন্যতম বড় বাস্তবতা। একদিকে অল্প কিছু মানুষের হাতে বিপুল সম্পদ জমা হচ্ছে, অন্যদিকে কোটি কোটি মানুষ মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। এই প্রেক্ষাপটে ইসলামে একটি অপূর্ব জাকাত ব্যবস্থা রয়েছে, যা পৃথিবীর সকল ক্ষুধা ও সকল অভাবকে অ্যাড্রেস করতে পারে। এটা শুধু ধর্মীয় বিধান নয়, বরং একটি শক্তিশালী সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বণ্টন পদ্ধতি হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

আমরা জানি, ইসলামে জাকাতের হার নির্ধারিত হয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ একজন ধনী ব্যক্তিকে তার সঞ্চিত সম্পদের মাত্র আড়াই শতাংশ দরিদ্রদের জন্য ব্যয় করতে হয়। কিন্তু এই ক্ষুদ্র হারটিই যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এর সম্ভাব্য প্রভাব কত বড় হতে পারে, তা হিসাব করলে বিস্মিত হতে হয়।

আমরা যদি ইসলামের এই জাকাত ব্যবস্থাটি পৃথিবীর পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর সুপার ইমপোজ করি, তবে দেখতে পাই সারা পৃথিবীর ক্ষুধা ও দারিদ্র্য এই জাকাত ব্যবস্থা সমাধা করে ফেলতে পারে!

বর্তমান বিশ্বে ব্যক্তিগত সম্পদের মোট পরিমাণ আনুমানিক ৪৫০ ট্রিলিয়ন ডলার। যদি এই সম্পদের ওপর ইসলামি বিধান অনুযায়ী মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ জাকাত আদায় করা হয়, তাহলে প্রতি বছর প্রায় ১১ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থ পাওয়া সম্ভব।

পৃথিবীর প্রায় ৭০০ থেকে ৭৫০ মিলিয়ন মানুষের চরম দারিদ্র্য দূর করতে বছরে আনুমানিক ২০০ থেকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করলেই বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

এই তুলনাটি করলে দেখা যায়, বিশ্বের ধনীদের সম্পদ থেকে সম্ভাব্য জাকাতের পরিমাণ দারিদ্র্য দূর করার প্রয়োজনীয় অর্থের তুলনায় বহু গুণ বেশি। অর্থাৎ তাত্ত্বিকভাবে বলা যায়, বৈশ্বিক জাকাত ব্যবস্থা কার্যকরভাবে চালু করা গেলে পৃথিবীর চরম দারিদ্র্য মোকাবিলা করা মোটেই অসম্ভব নয়।

জানি, অনেকেই নাক সিঁটকাবেন আমার এই অবাস্তব হিসাবটি দেখে! কারণ পৃথিবীর সবাই ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করে না। কাজেই যারা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করে, চলুন তাদের জাকাতের ভলিউমটি হিসাব করি। অর্থাৎ ওআইসিভুক্ত দেশগুলোয় এই জাকাতের ভলিউম কত হবে? চ্যাটজিপিটি বলছে, ওআইসি দেশগুলোর মোট ব্যক্তিগত সম্পদ ≈ ২৫ – ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার। সম্ভাব্য জাকাত আদায় হতে পারে ২০০ – ৫০০ বিলিয়ন ডলার। এই টাকা দিয়ে মুসলিম বিশ্বের দারিদ্র্য (৩৫০ থেকে ৪৩০ মিলিয়ন) দূর করা তো সম্ভব হতোই; এমনকি মুসলিম বিশ্ব থেকে আদায়কৃত জাকাত থেকেই সারা পৃথিবী থেকে ক্ষুধা বা দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব হতো! জাকাতের আটটি খাতের একটিতে আছে—অমুসলিমদের মন জয় করার বিষয়। কাজেই এ খাতেও জাকাত দেওয়া যেত; তবে আগে নিজেদের ক্ষুধা দূর করা জরুরি।

এবার হিসাব বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে : বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণার ভিত্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের মোট জাতীয় সম্পদের পরিমাণ প্রায় তিন ট্রিলিয়ন ডলার। এর বড় একটি অংশ দেশের ধনী শ্রেণির হাতে কেন্দ্রীভূত। গবেষণা অনুযায়ী দেশের শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষের হাতে প্রায় ৫৮ শতাংশ সম্পদ এবং শীর্ষ এক শতাংশ মানুষের হাতে প্রায় ২৪ শতাংশ সম্পদ রয়েছে।

এই হিসাব অনুযায়ী শীর্ষ এক শতাংশ মানুষের হাতে সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭২০ বিলিয়ন ডলার। এই সম্পদের ওপর যদি ইসলামি বিধান অনুযায়ী ২ দশমিক ৫ শতাংশ জাকাত আদায় করা হয়, তাহলে প্রতি বছর প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব। বাংলাদেশে প্রায় তিন কোটি মানুষ দরিদ্র বা দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি অবস্থায় বসবাস করে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। যদি ধরে নেওয়া হয়, একজন দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বছরে গড়ে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা প্রয়োজন, তাহলে মোট প্রয়োজন হবে প্রায় ১ দশমিক ৫ লাখ কোটি টাকা।

অর্থাৎ শুধু দেশের শীর্ষ ১ শতাংশ ধনীর জাকাত থেকেই তাত্ত্বিকভাবে এই প্রয়োজন মেটানো সম্ভব।

বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ : কেন আমরা পারছি না?

সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমান যখন জাকাত ব্যবস্থার সর্বজনীনতা নিয়ে স্টাডি শুরু করেছেন, তখন তারই জোটের এক ছোট দলের বিশাল নেতা (যিনি প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন) তিনি দেশে দক্ষিণপন্থার উত্থান নিয়ে তার আশঙ্কার কথা আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন! কারণ একজন ব্যবসায়ী বা ধনী ব্যক্তি তখনই তার সম্পদের ২ দশমিক ৫ শতাংশ স্বেচ্ছায় দিতে রাজি হবেন, যখন তার ধর্মীয় বিশ্বাসটা গভীর হবে। এজন্য তাকে অদৃশ্য আল্লাহ এবং পরকালীন বিচারব্যবস্থার প্রতি অন্ধ বিশ্বাসী হতেই হবে।

তাকে সেই আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে, যে আল্লাহ আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিকে (যার একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে আলোর নিজের গতিতে পৌঁছাতে লাগে এক লাখ বছর) ঘণ্টায় দুই লাখ কিমি বেগে মহাশূন্যে সাঁতার কাটাচ্ছেন। মানবজাতি যতটুকু ধাতস্থ করতে পেরেছে, তাতে দেখা যায় এ রকম গ্যালাক্সি আছে মাত্র তিন ট্রিলিয়ন! সেই স্রষ্টাই নির্দেশ দেন—তোমাকে যে সম্পদ দেওয়া হয়েছে, তার মালিক তুমি নও, তুমি কিছুদিনের কেয়ারটেকার মাত্র; তোমার সম্পদে অধিকার রয়েছে গরিবদের। এই বিশ্বাস থেকেই এই অন্ধ (!) বিশ্বাসী ব্যক্তি হিসাব করে ২ দশমিক ৫ শতাংশ দিয়ে দেয় জাকাত ফান্ডে!

মূলত আমরা আটকে গেছি এই জায়গায়। এমন পর্যায়ের বিশ্বাসকেই জোনায়েদ সাকিরা মৌলবাদী অন্ধ বিশ্বাস বলে অভিহিত করেন এবং এটাকে পাতলা করার কোশেশ করে যাচ্ছেন! ৫৭টি মুসলিম দেশেই এই সাকিদের জয়জয়কার! দেশে দেশে আবার এরাই মানবতার ঝান্ডা বহন করে যাচ্ছেন। মানবতার এই করুণ পরিণতির জন্য মূলত এরাই দায়ী!

লেখক: কলামিস্ট

মিসর থেকে শিক্ষা

ক্ষমতা বদলালে আনুগত্যেরও রঙ বদলায়

বাংলাদেশে জাকাতের পূর্ণ ফল পেতে করণীয়

ইরানি কুর্দিরা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কী করবে

রমাদান : সংযমের আলোকে পুনর্জাগরণ

প্রতিনিধিত্বশীলতা আর ইতিহাসের পাঠ

মুসলিম উম্মাহ কথাটাই এখন বায়বীয় তামাশা

ইরান বিপ্লবের রুহ ও দীর্ঘ একাকিত্ব

আন্তর্জাতিক নারী দিবস : বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন

গিগ ইকোনমি : সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা