দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতন ঘটিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশের আপামর মানুষের মনে নতুন আশা-আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়েছে। গণমানুষের আশা পূরণ করে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে সরকারি ও বিরোধী উভয় দলকেই আপাতদৃষ্টিতে আন্তরিক মনে হয়। কিন্তু দুর্নীতিবাজ, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের রেখে যাওয়া বিশৃঙ্খল অর্থনীতি বর্তমান সরকারকে প্রায়ই বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি করে। সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটকালে দেশজুড়ে উদ্ভূত জটিল পরিস্থিতির তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নিজেই জনগণের কষ্ট অনুধাবন করে দুঃখ প্রকাশ করেন। সড়কে গ্যাস স্টেশনগুলোয় অপেক্ষমাণ গাড়ির দীর্ঘ সারি, গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে কারখানায় উৎপাদন কমে অর্ধেকে নেমে যাওয়া, বাসাবাড়িতে গ্যাস সংকটের কারণে নাওয়া-খাওয়া বন্ধ হওয়া, কয়েক গুণ গাড়িভাড়া গোনা, তীব্র গরমের মধ্যে লোডশেডিংয়ে ত্রাহি অবস্থা জনঅসন্তোষ বৃদ্ধিতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। সবকিছুর মূলে ছিল গ্যাস সংকট।
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ)। ২০১৬-১৮ সালের দিকে বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রায় ২ দশমিক ৭৫ বিসিএফ গ্যাস উৎপাদন করত। সরকারের উদাসীনতা এবং আমদানি থেকে কমিশন ভোগের অসৎ উদ্দেশ্যে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিতে কোনো মনোযোগ ছিল না, যার ফলে দেশে গ্যাস উৎপাদন ক্রমান্বয়ে কমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দৈনিক ১ দশমিক ৯৫ বিসিএফ হয়। হিসাব অনুযায়ী, দৈনিক চাহিদার মাত্র অর্ধেক জোগান হয় দেশীয় উৎপাদন থেকে, অবশিষ্ট চাহিদা মেটাতে আমদানির ওপর নির্ভর করা ছাড়া বিকল্প থাকে না। পতিত সরকার ২০১৮ সাল থেকেই গ্যাস আমদানি শুরু করে। কিন্তু এত কম সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশ গ্যাসের জন্য আমদানিনির্ভর হবে—এমনটি কল্পনায় ছিল না; বরং দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বনির্ভর হতে পারত বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র মোটাদাগে দুই প্রকৃতির—অনশোর (স্থলভাগে অবস্থিত) এবং অফশোর (সমুদ্রে অবস্থিত)। বাংলাদেশের প্রথম গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান মেলে ১৯৫৫ সালে। এরপর ষাটের দশকে কয়েকটি বড় গ্যাসক্ষেত্র, যেমন তিতাস, হবিগঞ্জ, কৈলাশটিলা, রশিদপুর আবিষ্কৃত হয়। বিস্ময়করভাবে, গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য কোনো নতুন গ্যাসক্ষেত্র পাওয়া যায়নি। ভোলা জেলায় আবিষ্কৃত সর্বশেষ গ্যাসক্ষেত্র ইলিশা-১-সহ বাংলাদেশে সর্বমোট আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র ৩০টি। এর মধ্যে মাত্র ২০টি থেকে গ্যাস উত্তোলন চলমান আছে, যেখানে গ্যাসের মজুত আনুমানিক ৬ ট্রিলিয়ন কিউবিক ফুট (টিসিএফ)। তাছাড়া পেট্রোবাংলার প্রাক্কলন অনুযায়ী, পরিত্যক্ত কিংবা উৎপাদনে নেই—এমন ১০টি গ্যাসক্ষেত্রে ১ টিসিএফ গ্যাস থাকতে পারে। বাংলাদেশে ১৯৯৬ সালে একটিমাত্র সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্র (অফশোর) আবিষ্কার হয়। অস্ট্রেলীয় বহুজাতিক কোম্পানি ‘সান্তোস’ চট্টগ্রামের সলিমপুরের কাছে স্থলভাগ থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরত্বে বঙ্গোপসাগরে সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে। ১৯৯৮ সাল থেকে ব্রিটিশ তেল কোম্পানি কেয়ার্ন এনার্জি এটি থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু করে। ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৪৮৮ বিসিএফ গ্যাস উৎপাদন হয়। অবশেষে ওই গ্যাসক্ষেত্র বর্তমানে সমুদ্রবক্ষে ১৬ নম্বর ব্লকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পরিত্যক্ত কিংবা উৎপাদনহীন গ্যাসক্ষেত্রের তালিকায় আরো আছে ১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত ছাতক, ১৯৮১ সালে আবিষ্কৃত ফেনী, ১৯৮২ সালে আবিষ্কৃত কামতা, ২০১৮ সালে আবিষ্কৃত ভোলা নর্থ, ২০২১ সালে আবিষ্কৃত সিলেটের জকিগঞ্জ এবং ২০২৩ সালে আবিষ্কৃত ভোলার ইলিশা-১ গ্যাসক্ষেত্র। এসবের মধ্যে অন্য কয়েকটিতে খুব বেশি পরিমাণ গ্যাস মজুতের প্রাক্কলন না থাকলেও ভোলা নর্থ এবং ছাতক গ্যাসক্ষেত্রে যথাক্রমে আনুমানিক ৫৫০ এবং ৪৪৭ বিসিএফ গ্যাস মজুত রয়েছে, কিন্তু উত্তোলন চলমান নেই।
আওয়ামী সরকারের স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর পকেট ভারী করার পরিকল্পনা থেকে সৃষ্ট বিবিধ অজুহাত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সংকুচিত করে। গ্যাসক্ষেত্রকে পরিত্যক্ত ঘোষণার অন্যতম অজুহাত হিসেবে উৎপাদন হ্রাসকে যুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, অথচ চলমান গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন হ্রাসের ঘটনা অস্বাভাবিক কিছু নয়। মূল কারণ, গ্যাসক্ষেত্রের জীবনমেয়াদ। একই ক্ষেত্র থেকে দীর্ঘ সময় গ্যাস উত্তোলন করা হলে সেখানে চাপ কমে যায়। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্রÑযেমন তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, রশিদপুরÑথেকে অবিরাম গ্যাস উত্তোলনের ফলে এসব ক্ষেত্রের অনেক কূপ থেকে আগের তুলনায় কম গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, যা একটি স্বাভাবিক ঘটনা। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত গ্যাসের মোট মজুত ছিল প্রায় ২৮ দশমিক ৮ টিসিএফ। এর মধ্যে ২০ টিসিএফেরও বেশি ইতোমধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে। অবশিষ্ট মজুত আগের তুলনায় কম বিধায় গ্যাসের চাপও কম। কিন্তু যে বিষয় আড়ালে থেকে যায়, তা হলো অনাবিষ্কৃত গ্যাস মজুতের হিসাব।
বিস্ময়কর হলো, বাংলাদেশের সঙ্গে সমুদ্রসীমা শেয়ারকারী দুটি দেশ যথাক্রমে ভারত এবং মিয়ানমার সমুদ্র থেকে প্রচুর গ্যাস উত্তোলন করে যাচ্ছে। মিয়ানমারে বর্তমানে চারটি সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন চলমান এবং গভীর সমুদ্রে আরো চারটি নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস রপ্তানি করে। অনুরূপভাবে প্রতিবেশী দেশ ভারত সমুদ্র থেকে গ্যাস উত্তোলন প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। ব্যতিক্রম বাংলাদেশের ক্ষেত্রে। বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় নতুন কূপ খনন, ত্রিমাত্রিক ভূকম্প জরিপ (থ্রি-ডি সিসমিক সার্ভে) এবং সাগরে গ্যাস অনুসন্ধানকাজ হয়নি বললেই চলে।
হাসিনা সরকার ২০১২ এবং ২০১৪ সালে যথাক্রমে মিয়ানমার এবং ভারতের সঙ্গে সমুদ্র বিজয়ের মন-মাতানো ঐতিহাসিক গল্প শুনিয়ে জনগণকে পর্যাপ্ত বিনোদন দিয়েছিল। বিজয়ের এক যুগ পেরিয়ে গেলেও সমুদ্র থেকে তেল-গ্যাস আহরণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি; বরং বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বিনা খরচে সমুদ্রে তেল-গ্যাসের মজুত আছে কি না, তা যাচাইয়ের প্রস্তাব করলেও পতিত সরকার এসব প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। মূল কারণ ছিল, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারে বাধা দিয়ে আমদানির ভিত্তি তৈরি করার মাধ্যমে ঘুষ এবং কমিশন বাণিজ্যকে চাঙা করা।
চাহিদার তুলনায় দেশীয় উৎপাদন কম হওয়ায় গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি আমদানির দায়িত্বে রয়েছে পেট্রোবাংলার রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এবং খোলাবাজার—এ দুই উৎস থেকে এলএনজি আমদানি করে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ১০৯টি এলএনজি কার্গো আমদানি করে। ২০২৬ সালে এই সংখ্যা আরো বাড়িয়ে প্রায় ১১৫টি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। শুরুর দিকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১৮ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৮ হাজার কোটি টাকায়। ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে শুরু করে ৬ বছরে ২ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানি করা হয়। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলো গত ২৩ বছরে মাত্র ৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ পেয়েছে। যৎসামান্য বিনিয়োগ দ্বারা গ্যাস উত্তোলনে ব্যবহার্য যন্ত্রপাতি কেনা সম্ভব হয়নি এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলা যায়নি।
মূলত বিদেশ থেকে তরলীকৃত গ্যাস (এলএনজি) আমদানির আড়ালে আছে পতিত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের গড়ে তোলা শক্তিশালী সিন্ডিকেট এবং বিশাল কমিশন বাণিজ্য। নির্দিষ্ট কিছু ট্রেডিং কোম্পানি, রাজনৈতিক নেতা ও মধ্যস্বত্বভোগীকে ঘিরে আবর্তিত হয় সিন্ডিকেট। আওয়ামী সরকারের সময়ে দেশে এলএনজি আমদানিতে ঘুরেফিরে চারটি কোম্পানি কাজ পেয়েছে। এগুলো হলো সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়া পিটিই সিঙ্গাপুর ও গানভর, সুইজারল্যান্ডের টোটাল এনার্জিস এবং যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকারের আমলে ৬০ শতাংশের বেশি এলএনজি সরবরাহ করেছে ভিটল এশিয়া ও গানভর। ভিটল এশিয়া কোম্পানির মূল প্রতিষ্ঠান ভিটল ইনকরপোরেটেডের বিরুদ্ধে নানা সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুষ প্রদান ও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত সত্য, যে কারণে কোম্পানিটি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রায় ১৬০ মিলিয়ন ডলার অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হয়। এছাড়া ২০২১ সালে শ্রীলঙ্কা সরকার ঘুস-দুর্নীতির অভিযোগে ভিটলকে কালো তালিকাভুক্ত করে (দৈনিক বণিকবার্তা, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬)।
অন্য দেশে কালো তালিকাভুক্ত হলেও ভিটল এশিয়া ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের পছন্দের কোম্পানি। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আমদানি করা ১৩০ কার্গো এলএনজির মধ্যে ৪০ কার্গোর সরবরাহকারী ছিল ভিটল এশিয়া। ওই কোম্পানির সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও পারিবারিক কোম্পানির ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। অন্তর্বর্তী সরকারগঠিত অর্থনীতি নিয়ে শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদনে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আওয়ামী আমলে ৬০০ কোটি ডলার কমিশন বাণিজ্যের চিত্র উঠে আসে। ওই বাণিজ্যের মূলহোতা নসরুল হামিদ, যিনি ২০১৪ সাল থেকে টানা তিন দফায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। তার সময়ে খোলাবাজার থেকে এলএনজি আমদানি করতে দেশে ২৩টি তালিকাভুক্ত কোম্পানি ছিল। কিন্তু শুধু নসরুল হামিদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোই কার্যাদেশ পেত।
সংকীর্ণ গোষ্ঠীস্বার্থে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন সংকুচিত করে এ খাতকে বিদেশিনির্ভর করা হয়, যার ফলে বহির্বিশ্বের অস্থিরতা আমাদের বারবার নাজুক পরিস্থিতির সম্মুখীন করে। কাতার, ওমান, সৌদি আরব, হংকং, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য—এসব দেশ গ্যাস আমদানির প্রধান উৎস। তবে বিভিন্ন সময় ভূরাজনৈতিক কারণে আমদানি বাধাগ্রস্ত হয়। যেমন : কাতার এবং ওমানের সঙ্গে চুক্তির প্রকৃতি দীর্ঘমেয়াদি হলেও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এ দুই দেশ থেকে নিয়মিত সাড়া পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি হংকংভিত্তিক ঝেনইউ শিপিং কোম্পানির এলএনজি সরবরাহে ব্যবহৃত জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকায় বাংলাদেশ সরকার ওই কার্গো নিতে রাজি হয়নি। সাম্প্রতিক তীব্র গ্যাস সংকটের সূত্রপাত হয় জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে।
ভবিষ্যতে গ্যাসস্বল্পতার দরুন জনদুর্ভোগ এড়াতে স্বল্প, মধ্যম এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন। ইতোমধ্যে সরকার দেশে ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন এবং আরো দুটি ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। নিঃসন্দেহে এসব উদ্যোগ সময়োপযোগী। তবে স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানের পাশাপাশি সমুদ্রেও কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার সুযোগ না দিয়ে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিসম্পন্ন কোম্পানিকে কার্যাদেশ দেওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত। সর্বোপরি, আওয়ামী সরকারের দেড় দশকে জ্বালানি খাতে যে পুকুর চুরি করেছে, তার সঠিক হিসাব জনসম্মুখে তুলে ধরা আবশ্যক।
লেখক: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়