হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

সরকারের ছয় মাস ও ‘জনগণের দিন’

এম আবদুল্লাহ

আজ ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হলো। চলতি বছরের গোড়ায় ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ১৭ তারিখে দায়িত্ব গ্রহণ করে বর্তমান সরকার। যেকোনো নতুন সরকারের স্বল্প মেয়াদের কয়েকটি মাইলফলক থাকে। সুশাসন, জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক মানদণ্ড যাচাইয়ে সব সরকারই ১০০ দিন, ১৫০ দিন, ছয় মাস বা ১৮০ দিনের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে কাজ করে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারও তার ব্যতিক্রম নয়।

প্রথম ১০০ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর প্রেস উইংয়ের এক ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছিল, ওই সময়ে তারেক রহমান সরকার জাতির সামনে আশাবাদ ও ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা দিতে পেরেছে। দুই শতাধিক উদ্যোগ ও প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান দেওয়া হয়েছিল। এগুলোর বাস্তবায়ন জনজীবন ও সমাজে দৃশ্যমান প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে বলে উল্লেখ করা হয়। ৩১ পৃষ্ঠার একটি ই-বুকে তার ফিরিস্তি প্রকাশ করা হয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও তার বাস্তবায়নের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। সেটিকে সরকারের ১০০ দিনের কর্মকাণ্ডের দলিল হিসেবে বর্ণনা করেন প্রেস উইং কর্মকর্তারা।

সেই ই-বুকের সূচনাতে নির্বাচনের আগে এ বছর ২৯ জানুয়ারি তারেক রহমানের একটি বক্তব্য যুক্ত করা হয়েছে। সেটা হচ্ছে ‘১২ তারিখ ধানের শীষের বিজয় হলে ফেব্রুয়ারির ১৩ তারিখ থেকে শুরু হবে জনগণের দিন।’ পরে ১৫০ দিন বা পাঁচ মাসের মাথায় সরকারের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন প্রেস ব্রিফিংয়ে পাঁচটি সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘পাঁচ মাসে জনগণের আস্থা, ভালোবাসা ও সমর্থন অর্জন, নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ রক্ষা, স্বল্প সময়ে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অনবদ্য সাফল্য, জনগণের স্বাধীনতা ও দেশের সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং গণমানুষের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব—এই পাঁচটি দিক দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।’ তার ভাষ্য, ‘বিগত দিনের ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকাঠামো পুনরুদ্ধারের ম্যানডেট পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মানুষের আস্থার চূড়ায় অবস্থান করছেন।’

এবার সরকারের ছয় মাস বা ১৮০ দিনের মাইলফলক স্পর্শ করার পরও সরকারের তরফে নিশ্চয়ই সাফল্যগাথা তুলে ধরা হবে। ছয় মাস প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ডেটলাইন। ক্ষমতা গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছিলেন, সেখানে তিনি ১৮০ দিনের লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরেছিলেন। এই সময়ে অনেকগুলো কর্মপরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তার টিমের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের জন্য তিনি এই সময়সীমা নির্ধারণ করেন।

অস্বীকার করার উপায় নেই, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তারেক রহমান সরকার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধ, বিনিয়োগের স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের ঘাটতি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার মতো একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ‘এই সময়ে নীতিনির্ধারণে দ্রুততা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত, প্রশাসনিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারের ইতিবাচক প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই সারা দেশে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। কারণ এ সরকার বিশ্বাস করে, দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করাই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রধান দায়িত্ব।’ ‘যেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের উপকার হবে, আমরা সেসব পরিকল্পনাই গ্রহণ করব’—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই বক্তব্য তুলে ধরে যেসব কাজ শুরু করা হয়েছে, তার একটি পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে সরকারি ব্রিফিংয়ে।

এটা ঠিক যে, বাংলাদেশের সমকালীন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নেতৃত্বের আচরণ, ব্যক্তিগত জীবনধারা ও জনসম্পৃক্ততা জন-আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আচরণকে একটি ভিন্নধারার নেতৃত্বচর্চা হিসেবে বিবেচনা করা বোধকরি অতিরঞ্জিত হবে না, যেখানে ভদ্রতা, সংযম, সৌজন্য, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবনযাপন ও জনপরিসরে আচরণকে সরল জীবনধারা এবং পারিবারিক মূল্যবোধের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। ১৭ বছর বিলেতের উন্নত গণতান্ত্রিক পরিবেশে অবস্থান করা তারেক রহমানের এসব দৃষ্টান্ত তার রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিরই অংশ, যা প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির তুলনায় একটি ভিন্নধারার নেতৃত্বের ইঙ্গিত বহন করে।

সরকারি বাসভবনের পরিবর্তে ব্যক্তিগত বাসভবন ব্যবহার করা, ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার এবং নিজ খরচে জ্বালানি ব্যয়ের উদ্যোগ একটি ব্যতিক্রমী প্রশাসনিক অনুশীলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ব্যক্তিগত সংযমের বার্তাও বহন করে। ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিত করার পদক্ষেপ, চলাচলের সময় সিগন্যালে অপেক্ষা করা, হেঁটে অফিসে যাওয়া, কিংবা অফিস শেষে সাধারণ মানুষের মাঝে গিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ঘটনাগুলো অংশগ্রহণভিত্তিক ও জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বের উদাহরণ হিসেবে বিবেচ্য। সাপ্তাহিক কার্যদিবসের অংশ হিসেবে শনিবার অফিস কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা, কাজে গতিশীলতা এবং সেবার গতি বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে দেখা যায়। তরুণ উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার ও চালনার মাধ্যমে তিনি স্থানীয় উদ্ভাবনী সক্ষমতার প্রতি সমর্থনের বার্তা দিয়েছেন। উদ্ভাবনী উদ্যোগে তরুণদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টিকে অনেকে ভবিষ্যৎমুখী নেতৃত্বের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। এসব উদ্যোগ শুধু ব্যক্তিগত আচরণ বা প্রতীকী পদক্ষেপ নয়; বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সরলতা, মানবিকতা, জবাবদিহিতা, জনসম্পৃক্ততা এবং অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্বের একটি নতুন ধারা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হওয়াই স্বাভাবিক।

অর্থনৈতিক চাপ, বৈশ্বিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার মধ্যেও সরকার কিছু নীতিগত ও জনমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকারের মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী আলোচ্য সময়ে সরকারের কার্যক্রমে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলে এমন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা, প্রশাসনিক ও বিচারব্যবস্থায় ডিজিটাল ও কাঠামোগত সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত পরিকল্পনা। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, স্পোর্টস কার্ড, ই-হেলথ কার্ড, ডিজিটাল ভূমিসেবা, ই-বেইলবন্ড, খাল পুনঃখনন, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুদের আর্থিক সম্মানী প্রদান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং শিক্ষা ও তরুণদের জন্য নতুন কর্মসূচি।

সরকারের ছয় মাসের মূল্যায়নে বিপরীত চিত্রও উপেক্ষার নয়। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের বাস্তবায়ন এখনো হতাশায় ঘেরা। দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের চাঁদাবাজি, দখলদারি, পেশিশক্তির প্রদর্শন, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের তাচ্ছিল্য, নাগরিকদের প্রতি ক্ষমতাদর্পী আচরণ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে একেবারেই সংগতিপূর্ণ নয়। এখানে গত কয়েক দিনে শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত কয়েকটি শিরোনাম পর্যালোচনা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

‘গ্যাসের জন্য হাহাকার, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং’; ‘গ্যাস সংকটে একে একে বন্ধ হচ্ছে নিত্যপণ্যের কারখানা’; ‘তীব্র বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটে সড়ক অবরোধ ও স্থাপনায় নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি’; ‘লোডশেডিংয়ে বরফ সংকট, সাগরে যেতে পারছেন না জেলেরা’; ‘দলের পদ না ছেড়েই তারা সরকারি সংস্থায়’; ‘শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে সেই পুরোনো ধারা ফেরা নিয়ে শঙ্কা’; ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিকেও দলীয়করণ’; ‘পরিসংখ্যানগতভাবে মূল্যস্ফীতি কমলেও বাজারে স্বস্তি নেই’; ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম নির্ধারণে পুরোনো নীতিতে ফিরছে সরকার, বাড়ছে রোগীর দুশ্চিন্তা’; ‘এয়ার টিকেট সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চলছেই’; ‘পাঠ্যবই বদলেছে, বদলায়নি বিতর্কিতদের গদ্য-কবিতা’; ‘ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ নিয়ে অসন্তোষ, বিভিন্ন অভিযোগ’; ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে নিয়োগ পেল ছাত্রলীগ-যুবলীগ’; ‘বিএনপি নেতার নেতৃত্বে কৃষক দল নেতার বাড়িতে হামলা’; ‘প্রধানমন্ত্রীর খালাতো ভাইয়ের পেট্রোলপাম্পের সোয়া কোটি টাকা ছিনতাই’; ‘বাসার ভেতরে পড়েছিল স্বামী, স্ত্রী ও গৃহকর্মীর গলাকাটা লাশ’; ‘মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়া নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ’ প্রভৃতি। এই শিরোনামগুচ্ছ শীর্ষ প্রচারসংখ্যার দুই দৈনিক ‘আমার দেশ’ ও ‘প্রথম আলো’য় বিগত তিন দিনে প্রকাশিত হয়েছে। এক সপ্তাহ, এক মাস বা ছয় মাসের শিরোনাম এ স্বল্প পরিসরে তুলে ধরা সম্ভব নয়। প্রতিটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ সমস্যা ও সংকটের চিত্র।

বুঝতে হবে, চুলা না জ্বলার কারণে একজন কর্মজীবী নারী যখন সকালে অফিসে যাওয়ার আগে নাশতা করে যেতে পারেন না, পরিবারের অন্য সদস্যদের খাবারের ব্যবস্থাটা করতে ব্যর্থ হন, তখন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সাদাসিধে জীবনটা চোখের সামনে এনে সান্ত্বনা খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। হাজারটা যুক্তি থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি ম্যানেজমেন্ট নিয়ে ভুক্তভোগী জনগণের মনে প্রশ্ন জাগে এবং অসন্তোষ দানা বাঁধে। তেল-গ্যাস খাতে প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। দ্রুত নিজস্ব প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে কথা আছে, পদক্ষেপে গতি কম। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় ও নিয়োগে দলীয়করণ দেখলে বৈষম্যহীন সমাজের প্রত্যাশা কিন্তু ফিকে হয়ে যায়। বাজারে ১০০ টাকার কমে কোনো সবজি না পেলে সীমিত আয়ের শ্রমজীবী মানুষ কষ্টে গুমরে মরে। ফ্যামিলি কার্ডের অর্থও তখন নিরর্থক মনে হয়।

দৈনন্দিন জীবনে মানুষ স্বস্তি না পেলে, নিরাপত্তাবোধ না করলে ‘১২ তারিখ ধানের শীষের বিজয় হলে ফেব্রুয়ারির ১৩ তারিখ থেকে শুরু হবে জনগণের দিন’—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সেই আশ্বাস ভুক্তভোগী মানুষের কাছে প্রশ্নবোধক হয়ে দাঁড়ায়; কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ অধরাই থেকে যায়। ‘হাসপাতালের সেবা বন্ধ করে দুই এমপির সভা, ফিরে গেলেন রোগীরা’; ‘স্থানীয় সরকারের নির্দলীয় চরিত্র ক্ষতিগ্রস্ত’; ‘চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে মিন্টুর হটলাইন, পাঁচ দিনে ১৬৭ অভিযোগ’; ‘বিএনপির দুপক্ষের বিরোধ, এক নেতাকে পিটিয়ে হত্যা’; ‘যুবদল নেতার চাঁদা দাবির ভিডিও ভাইরাল’; ‘রায়গঞ্জে বিএনপির সংঘর্ষে নিহত ২’; ‘চাঁদা না পেয়ে বন্ধ করা হলো সড়কের কাজ’; ‘বিশ্বাস করেন, সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খালি তদবির—স্থানীয় সরকারমন্ত্রী’; ‘আরো পাঁচ সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক, সবাই বিএনপি নেতা’; ‘ইউএনও কার্যালয়ে মব করে নিয়োগ পরীক্ষার কাগজ নিয়ে গেলেন বিএনপি নেতা’; ‘কার্যকারিতা হারাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের ২০ অধ্যাদেশ’; ‘জনপ্রতিনিধিকে ইচ্ছামতো বরখাস্তের সুযোগ রেখে দিচ্ছে বিএনপি সরকারও’; ‘আগের নিয়মেই ফিরছে বিচারক নিয়োগ’; ‘দাওয়াত না পেয়ে অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতার হট্টগোল’; ‘কলেজে ঢুকে শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করলেন বিএনপি নেতা’; ‘ই-সিগারেটে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় বাড়ছে উদ্বেগ’; ‘বর্তমান সরকারের সময় ৪৬৪ হত্যা ও ৬৬৬ ধর্ষণ মামলা (এপ্রিল পর্যন্ত)’; ‘উপাচার্যের কার্যালয়ে ঝুলছে ছাত্রদলের দেওয়া তালা’ প্রভৃতি সংবাদ শিরোনামগুলো কোনোভাবেই সুশাসন ও স্বস্তির বার্তা দেয় না।

ছয় মাসের মাথায় আত্মতুষ্টির পুরোনো ধারা থেকে বেরিয়ে বাস্তবতার আলোকে টেকসই গণতন্ত্র, কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও সুশাসন নিশ্চিত করা বাঞ্ছনীয়। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবনাচার ও ইতিবাচক রাজনীতিই শেষ কথা নয়। দিন শেষে জনতুষ্টি নির্ভর করবে সামগ্রিক সুশাসনে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান সার্থকতা পাবে উদার গণতান্ত্রিক ও সহনশীল রাজনীতিচর্চায়। ‘জনগণের দিন’ নিশ্চিত করতে চাই জন-আকাঙ্ক্ষার সত্যিকারের প্রতিফলন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে শ্লথ গতি সরকারের সদিচ্ছাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড়াচ্ছে। সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া আবশ্যক। কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীর কথায় কথায় প্রতিপক্ষের ওপর হামলে পড়া জুলাই অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশার পরিপন্থী। প্রধানমন্ত্রীর সংযম ও সহনশীলতার বার্তা যে মাঠপর্যায়ে কমই প্রভাব ফেলছে, তা অনুধাবন করে সর্বস্তরে দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। তা না হলে ধীরে ধীরে, দৃষ্টির আড়ালে জ্বলতে থাকা তুষের আগুনই একসময় দাউ দাউ করে জ্বলে উঠে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে ছাই-ভস্মে পর্যবসিত করবে।

লেখক : যুগ্ম সম্পাদক, আমার দেশ ও রাজনীতি বিশ্লেষক

চসিক সচিবের মুখে হাসিনার প্রশংসা

ভারতবিরোধী মনোভাব সবচেয়ে তীব্র পাকিস্তানে

বিএসএফের গুলিতে পা হারিয়ে দুর্বিষহ জীবন পঙ্গু বারীর

বাথরুমে হঠাৎ অসুস্থতা এড়াতে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়তে বাংলাদেশের প্রয়োজন ৫৭ রান

অনলাইনের ভুয়া পোস্টে বিশ্বাস করে যেভাবে বিপদ ডেকে আনলেন লিবিয়ার অভিবাসীরা

কিশোরগঞ্জের পথে প্রধানমন্ত্রী

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক ডেপুটি স্পিকারের লাশ উদ্ধার

মিসরে রাবা গণহত্যার ১৩ বছর, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দাবি পরিবারের

বাংলাদেশের বুকে এক টুকরো ভারত: রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র