হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

পলিথিন নিয়ন্ত্রণে দরকার উচ্চ শুল্কহার

সৈয়দ আসিফ ইকবাল

‘বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫’-এর ৬(ক) ধারামতে, সরকার সব ধরনের পলিথিন শপিং ব্যাগ বা পলিইথাইলিন বা পলিপ্রপাইলিনের সামগ্রী, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, তা উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাতকরণ, বিক্রি ও বিক্রির জন্য প্রদর্শন সম্পূর্ণ বন্ধ করার বা এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত শর্তাধীনে সব কার্যক্রম পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে নির্দেশ জারি করতে পারবে এবং ওই নির্দেশ পালনে সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তি বাধ্য থাকবেন।

নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন শপিং ব্যাগ উৎপাদন ও বাজারজাতকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য তা বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মিত কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আইনটি ১৯৯৫ সালে হলেও শুরুতে এর প্রয়োগের ব্যাপারে সরকারের যথেষ্ট চেষ্টা ছিল না। পরে ২০০৪ সালে ঢাকায় ব্যাপক বৃষ্টি হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এমনকি মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সার্ভার রুমে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষতি হয়।

জলাবদ্ধতার কারণ উদ্‌ঘাটন এবং পানি নিষ্কাশনের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা দেখতে পান জলাবদ্ধতার মূল কারণ হলো পানি নিষ্কাশন হওয়ার প্রত্যেকটি রাস্তায় পলিথিন বা প্লাস্টিকসামগ্রী দিয়ে আটকানো। সরকারের উচ্চপর্যায়ে টনক নড়ে এবং তৎকালীন বন ও পরিবেশমন্ত্রী শাহজাহান সিরাজের নেতৃত্বে কয়েক বছরের মধ্যে ওয়ানটাইম ব্যবহৃত পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়।

২০০৮ সালে ক্ষমতার পালাবদলের পর তৎকালীন সরকারের দুর্বল নজরদারির সুযোগে পলিথিন শপিং ব্যাগ আবার বাজারে আসতে শুরু করে। যেহেতু এ ধরনের শপিং ব্যাগ উৎপাদন, বিতরণ ও ব্যবহার আইনগত নিষিদ্ধ, তাই অসাধু উৎপাদন এবং বিতরণকারীদের ‘রেগুলেটরি রিলেটেড কস্ট’ (ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট, ট্যাক্স, এসডি) একেবারেই ছিল না এবং এখনো নেই। ফলে এ ধরনের ব্যাগ বিনা মূল্যেই ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছে যাওয়া শুরু হয়। সমীকরণটা দাঁড়াল এমন, যখন পলিথিন ব্যাগের অনুমতি ছিল, তখন টাকার বিনিময়ে মানুষকে কিনে ব্যবহার করতে হতো, ফলে কেনা ব্যাগের একটা বড় অংশ পুনর্ব্যবহার হতো। কিন্তু ২০০৮-০৯-এর দিকে যখন নতুন করে ব্যাগ বাজারে আসা শুরু করল, তখন বিনা মূল্যে পাওয়া যায় এবং নিম্নমানের বলে পুনর্ব্যবহারের পরিমাণ একেবারেই কমে যায়। এর পর থেকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিনের ব্যাপকতা লাভ করে।

এখনো দেশের মাটি, নালা, ছোট খাল ও মহাসড়কের পাশে সর্বত্রই ওয়ানটাইম ব্যবহৃত পলিথিন এবং প্লাস্টিকসামগ্রীর ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। গত ১০-১৫ বছরে পলিথিন ব্যবহার আমাদের মধ্যে অনেকটাই নেশার মতো বিস্তার লাভ করেছে। শহর এলাকার কিছু সুপারশপে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ করলেও ব্যাপক ব্যবহারের ব্যাপারে কার্যকর কিছু করতে পারেনি। পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা ও পরিবেশ উপদেষ্টা মিলে পাটের ব্যাগের ব্যবহারের জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করছেন, যার প্রত্যেকটির মূল্য ২০ টাকা। জনগণ সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে পাওয়া পলিথিন শপিং ব্যাগ বাদ দিয়ে ২০ টাকায় কিনে পাটের ব্যাগ ব্যবহার করবে, এমন ভাবনা দুরাশা মাত্র।

যে আইন দ্বারা ওয়ানটাইম পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন ও বিপণন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তা সংশোধন বা বাতিল করে পলিথিনের ওপর উচ্চ শুল্ক, ট্যাক্স ও ভ্যাট আরোপ করা যেতে পারে, যাতে কোনোভাবেই কোনো ক্রেতা ২০ বা ৩০ টাকার নিচে কোনো পলিথিন ব্যাগ কিনতে না পারে। তাহলে হয়তো পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার না করে পাটের ব্যাগ কিনবে। বেশি দামে ব্যাগ কিনলেও একবার ব্যবহার করেই এটি ফেলে দেবে না, অন্যদিকে পণ্যের বিক্রেতা অযথা ব্যাগ দিতেও রাজি হবে না। এর মাধ্যমে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার যেমন সিংহভাগ কমে যাবে, তেমনি সরকারও কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করতে পারবে বলে আশা করা যায়। আমাদের দেশে সিগারেট, কোমল পানীয় ইত্যাদি ক্ষেত্রে সরকার উচ্চ শুল্ক আরোপ করে আসছে। এতে একদিকে রাজস্ব বাড়ছে, অপরদিকে ব্যবহারকারীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান নাগরিক বাস্তবতায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে পলিথিন ব্যবহার অত্যাবশ্যক হয়ে উঠেছে।

ভারতে সংখ্যালঘুদের অস্তিত্বের সংকট

জুলাই শুধু একটি মাস নয়, বিবেকের প্রতিচ্ছবি

পদ্মা বাঁধ পানির ন্যায্য হিস্যার বিকল্প নয়

সংসদে কি বদলাচ্ছে রাজনৈতিক সংস্কৃতি?

অনৈক্যের সংকটে সাংবাদিকতা

ভারতকে একদলীয় ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে কংগ্রেস!

কাঁটাতারে আজও ঝুলে আছে রাষ্ট্রের বিবেক

জুলাই শহীদদের কতবার শহীদ করা আমরা সহ‍্য করব

শেখ হাসিনার অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য

পররাষ্ট্রনীতির বৈশ্বিক বাস্তবতায় আমাদের অবস্থান