পুলিশ ও কারা হেফাজতে এনসিপি নেতা গাজী সালাহউদ্দিন তানভীরের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
রোববার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানায় এবি পার্টি।
বিবৃতিতে এবি পার্টির নেতৃদ্বয় বলেন, হাসপাতালে গাজী তানভীরের শারীরিক অবস্থা দেখে তারা গভীরভাবে মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন। রিমান্ডে তার শরীরে অজ্ঞাত ইনজেকশন প্রয়োগ, শারীরিক নির্যাতন এবং চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর।
তানভীরের অভিযোগের বরাত দিয়ে তারা বলেন, তাঁকে কারাগারের ফাঁসির সেলে নিয়ে বিদ্যুৎ বন্ধ করে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়। এরপর তার শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যায় এবং তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার আরও অভিযোগ, বিচারকের সামনে নির্যাতনের কথা জানালে তাঁর সন্তানদের গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
এবি পার্টির নেতৃদ্বয় আরো বলেন, কোনো নাগরিক অপরাধ করলে তার বিচার আদালতে হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তি হবে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় হেফাজত কোনোভাবেই নির্যাতনের স্থানে পরিণত হতে পারে না। রিমান্ডের আগে ও পরে তানভীরের শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন, হেফাজতে তাঁর চিকিৎসা, কোনো ইনজেকশন দেওয়া হয়ে থাকলে সেটির ধরন এবং কার নির্দেশে বা কার মাধ্যমে তা দেওয়া হয়েছে,এসব বিষয়ে সরকারকে স্পষ্ট জবাব দিতে হবে।
তারা বলেন, অতীতে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর বহু অভিযোগ উঠেছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর একটি নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক অবিলম্বে ঘটনার স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত, তানভীরের পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল রেকর্ড পর্যালোচনা এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
একই সঙ্গে তারা একটি স্বাধীন, কার্যকর ও শক্তিশালী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন এবং বর্তমান মানবাধিকার কমিশন আইনে প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবি জানান।এবি পার্টির নেতৃদ্বয় গাজী সালাহউদ্দিন তানভীরের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।