হোম > রাজনীতি

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বামীর কবরের পাশে সমাহিত খালেদা জিয়া

স্টাফ রিপোর্টার

বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন। গতকাল বুধবার বিকেলে সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে তার লাশ বিশেষ ব্যবস্থায় রাজধানীর জিয়া উদ্যানে নেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে কবরে তার মায়ের লাশ নামান।

দলীয় পতাকার ছাউনির মাধ্যমে দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য এবং বিএনপির শীর্ষ নেতারা ধর্মীয় রীতি অনুসারে খালেদা জিয়ার কবরে মাটি দেন।

দাফন শেষে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে সামরিক সচিবরা শ্রদ্ধা জানান। এরপর জাতীয় সংসদের পক্ষে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল শ্রদ্ধা জানান। পরে খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।

সবার শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কবর জিয়ারত ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত সবাই তারেক রহমানকে সমবেদনা জানান। দাফনের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে তারেক রহমান পরিবারের সঙ্গে গুলশানের বাসভবনের উদ্দেশে রওনা হন।

দাফনের সময় তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান, তার দুই কন্যা জাহিয়া রহমান ও জাফিরা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিএনপির নেতাকর্মী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও শোক ও শ্রদ্ধা জানান।

এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিকাল ৩টায় খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। জানাজা শেষে খালেদা জিয়ার লাশ জাতীয় পতাকায় মোড়ানো গাড়িতে করে জিয়া উদ্যানে নেওয়া হয়।

জানাজার আগে সেখানে উপস্থিত হয়ে সবার কাছে মায়ের জন্য দোয়া চান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আপনারা দোয়া করবেন, আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন।

৩৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত মঙ্গলবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন খালেদা জিয়া। পরদিন বুধবার সকাল ৯টায় লাশ গ্রহণ করেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। পরে তাকে বিশেষ নিরাপত্তায় গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাড়িতে তারেক রহমানের বাসভবনে নেওয়া হয়।

এ সময় জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খালেদা জিয়ার লাশবাহী গাড়ি তারেক রহমানের বাসায় প্রবেশ করলে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সেখানে পরিবারের সদস্য, দলের নেতাকর্মী ও ঘনিষ্ঠ স্বজনেরা খালেদা জিয়াকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান। এ সময় মায়ের লাশের পাশে বসে কোরআন তিলাওয়াত করেন তারেক রহমান।

এসআই

পরিমিতিবোধে প্রশংসিত তারেক রহমান

শোককে শক্তিতে পরিণত করে দেশ গঠনে কাজ করবে বিএনপি

খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ

বাংলাদেশ হাই কমিশনে সমবেদনা জানাবেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

‘যেখানে মায়ের পথচলা থেমেছে, সেখান থেকেই এগিয়ে নেব’

‘ভারতের সঙ্গে গোপন বৈঠক’—সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির

সম্ভাবনাময় আসন ছাড়ায় জামায়াতে চাপা অসন্তোষ

মানুষের মাঝে চিরদিন বেঁচে থাকবেন তিনি

খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন এমরান সালেহ প্রিন্স

একটি কফিনের পাশে গোটা বাংলাদেশ