অর্থাভাবে রাজধানী ধানমন্ডির নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের এক মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন যখন থমকে যাওয়ার উপক্রম, ঠিক তখনই বড় ভাইয়ের মতো পাশে দাঁড়ালেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা মো. তরিকুল ইসলাম তারিক। তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রদলের সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক।
বুধবার তারিক তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ওই শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। এর মাধ্যমে কেবল একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনই বাঁচাননি, বরং সমাজে মানবিক রাজনীতির এক সুন্দর বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন বলে মনে করছেন সচেতনমহল। সংকটে পড়া ওই শিক্ষার্থীর চোখে এখন কেবলই কৃতজ্ঞতা আর সুন্দর আগামীর স্বপ্ন।
জানা গেছে, সামনেই ফাইনাল পরীক্ষা, অথচ পাহাড়সম বকেয়া বেতন আর ফরম পূরণের টাকার চিন্তায় তার চোখেমুখে ছিল অনিশ্চয়তার ছাপ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ছিল ফরম পূরণের শেষ দিন; টাকা জোগাড় না হলে এক বছরের পরিশ্রম পণ্ড হয়ে যেত তার। ঠিক সেই সংকটকালে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন তরিকুল ইসলাম তারিক। বুধবার বিকেলে তিনি সরাসরি ওই শিক্ষার্থীর হাতে প্রয়োজনীয় আর্থিক অনুদান তুলে দেন, যা দিয়ে মেটানো সম্ভব হবে কলেজের বকেয়া এবং নিশ্চিত হবে ফরম পূরণ।
সাহায্য পেয়ে আবেগাপ্লুত ওই শিক্ষার্থী জানান তার দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা। তিনি বলেন, “অ্যাডমিট কার্ড না পেলে আমি পরীক্ষায় বসতে পারতাম না। চরম এক দুঃসময়ে তারিক ভাই আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তার এই মানবিকতা আমাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস যুগিয়েছে। অতীতেও তার এমন অনেক কাজের কথা শুনেছি বলেই আমি তার কাছে গিয়েছিলাম।”
ছাত্রদল নেতা তরিকুল ইসলাম তারিকের কাছে বিষয়টি ছিল কেবলই একজন শিক্ষার্থীর প্রতি কর্তব্যবোধ। তিনি বলেন, রাজনীতির ঊর্ধ্বে হলো মানবিকতা। ছেলেটি যখন আমাকে ফোন করে জানালো যে, সে পরীক্ষা দিতে পারবে না, আমি স্থির থাকতে পারিনি। আমি তাকে সরাসরি ডেকে কথা বলি এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে তার এই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করেছি।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতির মূল লক্ষ্যই হওয়া উচিত মানুষের সেবা। একজন মেধাবী ছাত্রের পড়াশোনা কেবল টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে না। তাই, তার সমস্যা শোনামাত্র আমি কর্তব্যবোধের জায়গা থেকে এগিয়ে এসেছি।