হোম > রাজনীতি

শাসকগোষ্ঠী ডেমোক্রেসির কথা বললেও গণরায়কে ভয় পায়

ছাত্রশিবিরের সভাপতি

স্টাফ রিপোর্টার

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, দেশের শাসকগোষ্ঠী নিজেদের সর্বেসর্বা মনে করে এবং ডেমোক্রেসির কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে গণরায়কে ভয় পায়। তার মতে, দুর্নীতি ও সম্পদ লুটপাটের প্রবণতার কারণে তারা জনগণের মতামত উপেক্ষা করে।

জনগণ যে উদ্দেশ্যে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে, সেই রায় বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব; আর তা উপেক্ষা করা হলে শেষ পর্যন্ত জনগণই তাদের অধিকার আদায়ে ভূমিকা রাখে বলে জানান তিনি।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা কলেজ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত 'শহীদ কামরুজ্জামানের শাহাদাত বার্ষিকী' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে সমালোচনা করে শিবির সভাপতি বলেন, দেশের নেতৃত্বে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির আধিপত্য লক্ষ করা যায়, যারা সাধারণত নিরাপদ অবস্থানে থেকে সুবিধা ভোগ করে এবং পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরে আসে। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখন ‘বাবার দোয়া, মায়ের দোয়া পার্টি’তে পরিণত হয়েছে। বাবার আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে ছেলেরা এখন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি একসময় দন্ত-নখরহীন অবস্থায় ছিল এবং জুলাই আন্দোলনের সময় নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে এটিকে ‘বাচ্চাদের আন্দোলন’ বলেছিল মূলত ব্যর্থ হলে দায় এড়ানো ও নিরাপদে থাকার কৌশল হিসেবে। কিন্তু আন্দোলন সফল হওয়ার পর তারা আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড বলে দাবি করছে।

নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক বাস্তবতা, যেখানে ‘ডিপ স্টেট’ ও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগও উঠে আসে। তবে ইতিহাস বলে, এ ধরনের ক্ষমতার কাঠামো দীর্ঘস্থায়ী হয় না, ক্ষমতার মোহ শেষ পর্যন্ত সাময়িকই।

নুরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পর অনেক শাসকগোষ্ঠী এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে তাদের দেশত্যাগ করতে বাধ্য হতে হয়েছে। এই পরিস্থিতি হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি; বরং এটি দীর্ঘদিনের জমে থাকা জন-অসন্তোষ ও জনরায়ের প্রতিফলন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শিবির সভাপতি বলেন, স্বাধীনতার পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি অংশ বিদেশে অবস্থান করলেও পরে দেশে ফিরে রাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্ত হয়। স্বাধীনতার পর বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালু করা হয়, যেখানে সংবাদপত্র বন্ধ এবং রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

জনগণের মতামত উপেক্ষা করে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। ইতিহাসের উদাহরণ টেনে তিনি ১৯৭৫ সালের ঘটনা, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, জনগণের ক্ষোভ জমতে জমতে একসময় বিস্ফোরণে রূপ নেয়, যার ফলে শাসকগোষ্ঠীর টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে জামায়াত নেতা কামরুজ্জামানের অবদান তুলে ধরে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, শহীদ কামরুজ্জামান ভাই ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা মানুষ, যিনি ইসলামি আন্দোলনের বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ফাঁসির মঞ্চেও তিনি অবিচল ছিলেন এবং সাহসিকতার সঙ্গে সত্যের কথা বলেছেন। এমনকি জল্লাদও সাক্ষ্য দিয়েছিল, তিনি বিন্দুমাত্র বিচলিত হননি, বরং আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুত ছিলেন।

তিনি প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য হিসেবে সাংবাদিকতায়ও সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু তাকে প্রথমেই গ্রেপ্তার করে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয় এবং তৎকালীন একটি প্রশ্নবিদ্ধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার করা হয়, যা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ছিল বলে জানান তিনি।

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সেলিম উদ্দিন

চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোয় কোনো স্বার্থ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার

প্রবাসীদের কষ্ট ও ভোগান্তির বর্ণনা দিতে গিয়ে কাঁদলেন জামায়াত আমির

মেডিকেল কলেজে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার চালুর উদ্যোগ: সংসদে মন্ত্রী

সীমান্তে বিজিবির সাহসিকতার প্রশংসা সারজিসের

জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

সীমান্তবর্তী জেলায় প্রতিবাদ সমাবেশ, ঢাকায় বিক্ষোভ করবে ১১ দল

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বিএনপির প্রতিনিধি সমাবেশ

ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে: বিরোধীদলীয় নেতা