হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনার মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ লেবার পার্টি।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ লেবার পার্টির মুখপাত্র মো. নাজমুল ইসলাম তালুকদার বলেন, বিমানবন্দরের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, লাগেজ পেতে বিলম্ব, ট্রলি সংকট, যাত্রী হয়রানি এবং বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নানা ধরনের ভোগান্তির দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। এমন একটি জনভোগান্তির ঘটনাকে কেন্দ্র করে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম-দুর্নীতি ও কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠেছে বলেই কি প্রশ্ন উত্থাপনকারী একজন নাগরিককে মামলায় ফাঁসিয়ে গ্রেপ্তার করতে হবে? আমরা মনে করি, বিমানবন্দরের প্রকৃত সমস্যা ও কর্তৃপক্ষের দায় আড়াল করার জন্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলাকে হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
লেবার পার্টির মুখপাত্র বলেন, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একজন রাজনৈতিক নেতা। তার রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের কারণে যদি আইন প্রয়োগে ভিন্ন আচরণ করা হয়, সেটি হবে আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থি।
তিনি বলেন, বিমানবন্দরের দুর্ভোগের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দীর্ঘ বিমানযাত্রার পর দেশে ফিরে লাগেজ পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, ট্রলির সংকট, জমজমের পানি গায়েব হওয়া, লাগেজ হারানো বা দেরি হওয়া, লাগেজ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং বিমানবন্দরকেন্দ্রিক বিভিন্ন ধরনের হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অথচ এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান না করে কোনো একটি ঘটনাকে সামনে এনে দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে প্রকৃত সমস্যা আরো আড়ালে থেকে যাবে।
লেবার পার্টির মুখপাত্র বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখে। অথচ দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে তাদের সঙ্গে নানা ধরনের হয়রানি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ শুনতে হয়। এটি কোনোভাবেই একটি সম্মানজনক রাষ্ট্রের চিত্র হতে পারে না।
তিনি আরো বলেন, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অভিযোগগুলো স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তদন্তের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের লাগেজ-ট্রলি সংকট, যাত্রী হয়রানি, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং সম্ভাব্য অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়েও স্বাধীন তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
তিনি সরকারের প্রতি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে অবিলম্বে তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান।