সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধারের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা মেঘমল্লার বসুর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যার পর তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে।
ঢামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন মেঘমল্লার বসুর অবস্থা স্থিতিশীল করতে চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতির লক্ষণ দেখা যায়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেল থেকেই মেঘমল্লার বসুর শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হয়। পরে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে মেডিসিন বিভাগের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বুধবার অবস্থার আরও অবনতি হলে সন্ধ্যায় তাকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা।
বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢামেকের মেডিসিন আইসিইউর মেডিকেল অফিসার ডা. হাসান আল বান্না জানান, মেঘমল্লার বসুকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি অব্যাহত রয়েছে এবং চিকিৎসা চলছে।
এর আগে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট এলাকা থেকে অসুস্থ অবস্থায় মেঘমল্লার বসুকে উদ্ধার করা হয়। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট দেখে সহপাঠী ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা তার খোঁজ শুরু করেছিলেন। পরে পরিচিতজনেরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তার জরুরি চিকিৎসা শুরু করেন। বিষক্রিয়ার আশঙ্কায় তার পাকস্থলী পরিষ্কার করা হয় বলে হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। প্রথমে তাকে হাসপাতালের ৬০২ নম্বর কক্ষের ৩ নম্বর বেডে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতালে ভর্তির পর প্রথম দিকে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। তবে মঙ্গলবার বিকেলের পর পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা বাড়লে চিকিৎসকেরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে নেন। এরপর বুধবার সন্ধ্যায় তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
এর আগে মেঘমল্লার বসু নিজের ফেসবুক সুইসাইড নোটে লিখেন, আপনাদের সবার প্রতি একটা একান্ত অনুরোধ হলো আমার প্রাক্তন প্রেমিকা চূড়াকে যেন কোনোভাবেই আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী করা না হয়। আমাকে জীবনে কোনো মানুষ এত ভালোবাসা দেয়নি, যতটা তিনি দিয়েছেন। আমার গত অ্যাটেম্পটের পর সবাই ভেবেছে দোষ তার। তিনি একটি ভিলেনে পরিণত হয়েছেন। অথচ বাস্তবতা হলো আমি তাকে যত ইনসিকিউরিটি অনুভব করিয়েছি, তাতে তার দশবার অ্যাটেম্পট করার কথা ছিল।
এমএমআর