হোম > রাজনীতি

রাজধানীতে জমে উঠেছে ভোটের লড়াই

স্টাফ রিপোর্টার

রাজধানী ঢাকার সকাল এখন আর শুধু যানজট আর ব্যস্ততার নয়- এতে যোগ হয়েছে নির্বাচনি উত্তাপ। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের প্রচারে মুখর হয়ে উঠেছে অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক। চায়ের দোকানের আড্ডা, মোড়ের জমজমাট আলাপ কিংবা বাসার গেটের সামনে সবজায়গায় ঘুরে ফিরে আসছে ওই একই প্রসঙ্গ-ভোট। সকাল গড়াতেই প্রার্থীরা ছুটে যাচ্ছেন ভোটারদের দুয়ারে, কেউ পথসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন, কেউ আবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে তুলে ধরছেন নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নির্বাচনি অঙ্গীকার। গণসংযোগ, মিটিং, মিছিল ও ছোট ছোট পথসভায় বুধবার প্রচারের ১৪তম দিন সরব ছিল পুরো শহর।

রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সরব উপস্থিতিতে রাজধানীর ভোটের মাঠে তৈরি হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ। ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলি, হাতপাখা, ফুটবল, কোদাল, ট্রাক, মাথাল কিংবা হাঁস -নানান প্রতীকের মিছিল-সমাবেশে শহরের চেহারাই বদলে গেছে। দীর্ঘ সময় পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের সম্ভাবনায় সাধারণ মানুষের আলোচনাতেও ফিরেছে ভোটের উষ্ণতা, যা রাজধানীজুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে নির্বাচনি আমেজ।

‘নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় জামায়াত অস্থির হয়ে উঠেছে’

বুধবার রাজধানীর ইসিবি চত্বরে ঢাকা ১৭ আসনের তারেক রহমানের পক্ষে গণসংযোগ করেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা–১৭ আসনের বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম।এসময় তিনি বলেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, জামায়াতের আচরণ তত অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে। জামায়াতের বর্তমান আচরণই প্রমাণ করে, তাদের সামনে আর বেশি সময় নেই। এই কয়েক দিনের মধ্যে তাদের অবস্থা আরও খারাপ হবে বলেই এখন থেকেই তারা অস্থির হয়ে পড়েছে। এখন ধৈর্য ধরার সময়। ১২ তারিখ পর্যন্ত ধৈর্য ধরে থাকতে হবে। নইলে ১২ তারিখের পর শুয়ে পড়তে হতে পারে। যদি বেশি অধৈর্য হন তাহলে বইসা যান।

‘সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ মুক্ত করতে চাই’

ঢাকা ৯ আসনের বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার তার নিজ বাড়িতে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। এসময় তিনি বলেন, আমরা চাই আমাদের এলাকা সমৃদ্ধ হোক। নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত হোক। এখানে গ্যাসের সমস্যা রয়েছে, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন দরকার, চিকিৎসাসেবার ঘাটতি আছে। ইনডোর ও আউটডোর স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন। আমাদের একটি বিশ্ববিদ্যালয় নেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় দরকার। আমরা আমাদের সমাজকে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত করতে চাই। আমরা যে বাংলাদেশ গড়তে চাই, তা শুধু আমাদের জন্য নয়। এই বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্মের জন্য যারা আগামী দিনে দেশকে নেতৃত্ব দেবে।

‘যার ধর্ম তার কাছে, কোনো ধর্মে হস্তক্ষেপ করা যাবে না’

বুধবার রাজধানীর কাকরাইলের সেন্ট মেরী’স ক্যাথলিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সাথে মতবিনিময় করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা ৮ আসনে দলটির ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। পরে কাকরাইল এলাকায় গণসংযোগ করে শান্তিনগর শেলটেক রহমান ভিলায় ফ্লাট মলিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এসময় তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেই বাংলাদেশকে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কেউ সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয় -আমরা সবাই সমান অধিকারসম্পন্ন বাংলাদেশি নাগরিক। ইসলাম ধর্মে স্পষ্টভাবে বলা আছে—যার যার ধর্ম তার তার কাছে এবং কোনো ধর্মে হস্তক্ষেপ করা যাবে না। সেই শিক্ষার ভিত্তিতেই বাংলাদেশে সবাই মিলেমিশে বসবাস করছে। মাঝে মাঝে কিছু কুচক্রী মহল বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করলেও সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

‘নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে’

ঢাকা-১৬ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আমিনুল হক বুধবার মিরপুর-১১ ও আদর্শ নগর এলাকায় গণসংযোগ করেন। জনসংযোগে তিনি বলেন, অসহায় মানুষকে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা চলছে। শবে বরাতের আগে রাতে প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে খাবার ও চাল পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। যা সাধারণ মানুষের চোখে পড়লে তারা দৌড়ে পালিয়ে যায়। একটি অশুভ চক্র বিভ্রান্তিমূলক তথ্য এবং অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। উসকানিদাতা ও বিশৃঙ্খলাকারীদের বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। সাধারণ মানুষ এখন অনেক সচেতন। মিথ্যাচার বা প্রলোভনে তারা পা দেবে না। আমরা আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার অপেক্ষায় আছি।

‘নির্বাচনে কারচুপি রুখতে রাজপথে থাকতে হবে’

ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বুধবার রাজধানীর শিয়া মসজিদ থেকে শ্যামলী এলাকায় ছাত্রশিবির আয়োজিত এক ‘নির্বাচনি স্বাগত মিছিল’ এ অংশ নেন। মিছিল পরবর্তী সমাবেশে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যেকোনো ধরনের কারচুপি বা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ রুখতে ছাত্র জনতাকে রাজপথে অতন্দ্র প্রহরীর মতো প্রস্তুত থাকতে হবে। ভোট দিয়ে ঘরে ফিরে গেলে চলবে না, বরং ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত কেন্দ্র ও রাজপথের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হবে।

‘কোনো অবস্থাতে রক্ত গরম করা যাবে না’

জামায়াতের ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যদের নিয়ে মিরপুর-১০ এ অবস্থিত প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনি সভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, আগামী কয়েকটা দিন আপ্রাণ চেষ্টা করে আমীরে জামায়াতকে নির্বাচিত করতে হবে। তাকে নির্বাচিত করতে পারলে আগামী পাঁচটি বছর ভালো থাকতে পারবেন। প্রচার ক্ষেত্রে বুদ্ধিমত্তা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে। কোনো অবস্থাতে বিন্ধুমাত্র উত্তেজনা তৈরি করা যাবে না। ভোটের দিন কোনো অবস্থাতে রক্ত গরম করা যাবে না, কিন্তু সাহস রাখতে হবে। প্রয়োজনে আমরা জীবন দিব কিন্তু কোনো অবস্থাতেই কেন্দ্র ছেড়ে যাবো না ইনশা-আল্লাহ।

‘হুমকি- ধামকি দেখিয়ে আমাদের পরাজিত করা যাবে না’

ঢাকা-১৬ আসনের জামায়াতের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আব্দুল বাতেন বুধবার মিরপুর-১২ ও মোল্লা মার্কেটসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। এসময় তিনি বলেন, সারা দেশে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার জন্য মানুষ হুমড়ি খেয়ে বসে আছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ১২ তারিখে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। আমাদের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে। এসব হুমকি- ধামকি দেখিয়ে আমাদের পরাজিত করা যাবে না। কারণ বিগত সময়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনো রক্তচক্ষুর সামনে মাথা নত করে নাই। সামনেও করবে না, ইনশাআল্লাহ।

বঙ্গভবনের কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ

বিএনপির ৩ নেতার জন্য সুখবর

ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে: জামায়াত

জামায়াত আমিরের অ্যাকাউন্ট হ্যাক: বঙ্গভবন কর্মকর্তাসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

স্বাস্থ্যখাত নিয়ে জামায়াতের ৩৭ প্রতিশ্রুতি

লুটপাট নয়, জনগণের অধিকার চাই: সাইফুল হক

এবার জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার কারণ জানালেন চরমোনাই পীর

জামায়াতের ইশতেহারে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই বিপ্লব নিয়ে যে পরিকল্পনা

আওয়ামী দোসর জাতীয় পার্টিকে আশ্রয় দিয়েছে বিএনপি

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ফরিদপুরকে বিভাগ করা হবে: তারেক রহমান