হোম > রাজনীতি

মোসাব্বির হত্যার পেছনে ব্যবসাকেন্দ্রিক বিরোধের ইঙ্গিত

ডিবির সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার

রাজধানীর তেজতুরী বাজার এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা মো. আজিজুর রহমান মোসাব্বির হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে হত্যার পেছনে ব্যবসাকেন্দ্রিক বিরোধের ইঙ্গিত মিললেও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—জিন্নাত (২৪), মো. বিল্লাল হোসেন, আব্দুল কাদির (২৮) এবং মো. রিয়াজ (৩১)। এদের মধ্যে জিন্নাত দুই শ্যুটারের একজন, বিল্লাল ছিলেন ঘটনার মূল সমন্বয়কারী, আব্দুল কাদির আসামিদের আত্মগোপনে সহায়তা করেছেন এবং রিয়াজ ঘটনার আগের দিন ঘটনাস্থল রেকি করেছিলেন বলে অভিযোগ।

ডিবি জানায়, গত ৭ জানুয়ারি রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে পশ্চিম তেজতুরী পাড়ায় হোটেল সুপার স্টারের পাশের গলিতে দুর্বৃত্তরা মোসাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনি ও তার সঙ্গে থাকা সুফিয়ান বেপারী মাসুদ গুলিবিদ্ধ হন। দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মোসাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত মাসুদকে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পরদিন নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম তেজগাঁও থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে ডিবি প্রধান বলেন, ঘটনার পরপরই একাধিক টিম মাঠে নামে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। এরপর ঢাকা, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণাসহ বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিক অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে হত্যায় ব্যবহৃত নম্বরবিহীন একটি মোটরসাইকেল ও নগদ ছয় হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানায় ডিবি। তবে হত্যায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। অস্ত্রের উৎস শনাক্ত ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক আরেক শ্যুটার রহিমকে ধরতে অভিযান চলছে।

হত্যার উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ভিকটিম রাজনৈতিক দলের নেতা হওয়ায় রাজনৈতিক কোনো কারণ আছে কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটি ব্যবসাকেন্দ্রিক বিরোধ থেকে ঘটতে পারে। গ্রেপ্তারকৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাদের কেউ কেউ কারওয়ান বাজারে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে ওঠাবসা ছিল—এ তথ্যও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

বিদেশ থেকে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অর্থ পাঠানোর কোনো সংযোগ আছে কি না—এ বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি মোসাব্বিরের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও ওই ঘটনায় হওয়া সংঘর্ষ এবং মামলা—সবকিছু তদন্তের আওতায় রয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আগে জীবননাশের হুমকির কথাও পুলিশকে জানানো হয়েছিল।

ডিবি বলছে, তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। পলাতকদের গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার এবং হত্যার প্রকৃত মোটিভ নিশ্চিত করতে আইনগত প্রক্রিয়া জোরদার রয়েছে। প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানানো হয়।

ইরান দূতাবাসের শোক বইতে স্বাক্ষর করলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল

সংসদ অধিবেশন উপলক্ষে বিএনপির এমপিদের প্রশিক্ষণ শুরু

রাজধানীতে আজ বিক্ষোভ করবে জামায়াতে ইসলামী

রমনায় ছিন্নমূল মানুষের মাঝে জামায়াতের ইফতার বিতরণ

‘সম্পদের হিসাব চাইলে ১৮ কোটি মানুষ রাজপথে নামবে’—এমন বক্তব্য দেননি আসিফ

দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণ করছে সরকার: নাহিদ

শাপলার চেতনাকে অস্বীকারকারীরাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অকার্যকর করতে চায়

জুলাই সনদ ও গণভোটকে অবৈধ ঘোষণার চেষ্টা করছে সরকারি দল

ইদ্রিস হত্যার বিচার দাবিতে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ