দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বের পথ ধরে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান। তিনি বলেছেন, দেশের এই অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে পরাজিত শক্তি নানা চক্রান্ত করছে। সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
শনিবার ’৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক স্মরণসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঐতিহাসিক ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে সাবেক ছাত্রনেতা আমান উল্লাহ আমান বলেন, দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ জেহাদের রক্ত সেদিন ছাত্রসমাজকে এক সুতোয় গেঁথেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তৎকালীন ২২টি ছাত্রসংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এবং বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী ও আপসহীন নেতৃত্বে রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর পরিণতিতেই স্বৈরাচারের পতন ঘটে।
তৎকালীন রাজনৈতিক ঘটনাবলি তুলে ধরে ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, দেশ ও দেশের মানুষের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে জিয়া পরিবার রাজপথে নেমে নেতৃত্ব দিয়েছে। নানা নির্যাতন, গুম ও প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশনায়ক তারেক রহমান জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। তার নেতৃত্বে আন্দোলন এক দফায় রূপ নেয় এবং ফ্যাসিস্টদের পতন নিশ্চিত হয়।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে আমান উল্লাহ আমান বলেন, জনগণের ভোট ও আস্থার ভিত্তিতে আজ দেশ সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরকারের নানামুখী উদ্যোগের সুফল প্রতিফলিত হচ্ছে। দেশের এসব অর্জন যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হচ্ছে, তখনই ফ্যাসিবাদের অনুসারীরা গোপনে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, এ দেশে অসাংবিধানিক উপায়ে কিংবা চক্রান্ত করে ক্ষমতায় আসার আর কোনো সুযোগ নেই। সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে। এ জন্য বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের সভাপতি আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে স্মরণসভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভা যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন সাবেক জিএস খায়রুল কবির খোকন ও সাবেক এজিএস নাজিম উদ্দিন আলম।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ৯০-এর সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ও সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, বেগম রোকেয়া হলের সাবেক ভিপি ও সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা, ঢাকা কলেজের সাবেক ভিপি ও বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলসহ বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।