হোম > রাজনীতি

আহমদ ছফার সঙ্গে খালেদা জিয়ার সেই ফোনালাপ

আমার দেশ অনলাইন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও প্রয়াত লেখক ও বুদ্ধিজীবী আহমদ ছফার মধ্যে হওয়া ২ টি ফোনালাপ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে ইদানিং। এই দুই ফোনালাপের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা করেছেন মোহাম্মদ ইসরাক নামের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী।

আমার দেশ পাঠকের জন্য মোহাম্মদ ইসরাকের দৃষ্টিতে দুই ফোনালাপের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা হুবহু তুলে ধরা হলো:

‘‘একবার খালেদা জিয়া আহমদ ছফাকে ফোন করে দাওয়াত করেছিলেন। তিনি বেগম জিয়াকে বলেছিলেন, 'যেতে পারি এক শর্তে, আমাকে নিজের হাতে রান্না করে খাওয়াতে হবে। শেখ হাসিনার কাছে গিয়েছিলাম। তিনি আমাকে রান্না করে খাইয়েছিলেন।'

খালেদা জিয়ার রান্না করার সময়ও হয়নি, ছফাও যেতে পারেননি।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছফার আরেকবার ফোনালাপ হয়েছিল। উপলক্ষ্য ছিল এনজিও ব্যুরো থেকে ‘বাংলা-জার্মান সম্পীতি’র রেজিস্ট্রেশনের ব্যাপারে। ছফাই বেগম জিয়াকে ফোন করেছিলেন। ফোনটি ধরেছিলেন তাঁর পিএস। ছফা বিনয়ের সঙ্গে পিএসকে বলেছিলেন, ম্যাডামকে কি একটু দেয়া যাবে? আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাই।

পিএস সাহেব জানতে চাইলেন, আপনি কে?

ছফার জবাব, আমি আহমদ ছফা।

পিএস সাহেব ফের জানতে চাইলেন, কোন আহমদ ছফা?

পিএস-এর কথায় ছফা ভয়ানক রকম খেপে গিয়েছিলেন। তিনি রাগলে সচরাচর যে গালটি তাঁর মুখ দিয়ে বা’র হতো সেটি বেরিয়ে গিয়েছিল। তারপর তিনি কোন রকম ভূমিকা না করে বললেন, বাংলাদেশে আহমদ ছফা দু’জন আছে নাকি?

ছফা কথা না বাড়িয়ে রিসিভারটি ধপাস করে রেখে দিয়েছিলেন।

পিএস সাহেব ছফার এ অশোভন আচরণের কথা বেগম জিয়াকে জানিয়েছিলেন কিনা জানা যায়নি। কিছুক্ষণ পরে বেগম জিয়া ফোন করেছিলেন। ছফার কথার ঝাল তখনও থেকে গিয়েছিল। ফোন পেয়ে তিনি বেগম জিয়াকে বিরক্ত কণ্ঠে বলেছিলেন, ম্যাডাম, কী সব অশিক্ষিত পিএস-টিএস রাখেন আহমদ ছফার নাম জানে না।

ছফার কথায় বেগম জিয়া হেসে জবাব দিয়েছিলেন, 'আমি নিজে অশিক্ষিত; শিক্ষিত মানুষ পাব কোথায়। আপনারা কেউ তো এগিয়ে আসছেন না।'"

উপরের এই দুইটা ঘটনার বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে eআরকি-র ওয়েবসাইটে। এই বিবরণটা বাংলাদেশের শহুরে মধ্যবিত্ত শিক্ষিত এলিট ঘরানায় বেশ চর্চিত। ছফা বন্দনার সময় তারা গর্ব করেই এই বিবরণটা সামনে আনেন।

প্রথম ঘটনাটা দেখুন।

খালেদা জিয়া একজন রাজনীতিবিদ। তিনি ছফাকে স্ব উদ্যোগে ফোন করে দাওয়াত দিয়েছেন। ছফার সাথে খালেদার কোন ব্যক্তিগত সম্পর্ক নাই। খুনসুটির ব্যাপার নাই। একজন রাজনীতিবিদ একজন নাগরিকের সাথে পরামর্শ করবেন- ব্যাপারটা খুবই ফরমাল ব্যাপার।

কিন্তু ছফা আবদার করে বসলেন খালেদাকে নিজ হাতে রান্না করতে হবে! শুধু তাই না, খালেদা রান্না করলেন না জন্য ছফা তার সাথে সাক্ষাতও করলেন না। অন্যদিকে হাসিনা রান্না করে খাইয়েছে জন্য হাসিনার সাথে ছফা সাক্ষাত করেছেন।

কোন সভ্য দেশে এমনটা হলে ছফাকে সিটিজেশনশিপ সম্পর্কে ক্লাস করতে বলা হত। কিন্তু বাংলাদেশে ছফার এই অশ্লীল আনপ্রফেশনালিজমকেই সেলিব্রেট করা হয়- অন্যদিকে খালেদাকে দোষ দেওয়া হয় খালেদা কেন ছফাকে রান্না করে খাওয়াইলেন না।

আমাদের দেশ যে যে রিপাবলিক হতে পারে নাই বরং শাসকদের সাথে আমাদের সম্পর্ক রাজা ও প্রজার সম্পর্কের মতই, এর পেছনে ছফাদের ভূমিকা মারাত্মক। রিপাবলিকের পরিচালকদের সাথে আমাদের সম্পর্ক গিভ এন্ড টেকের। এখানে কোন রান্না করার মত বাতুলতা নাই। রিপাবলিকের নীতি নির্ধারকদের দায়িত্ব আমাদের রিপ্রেজেন্ট করা, আমাদের স্বার্থ রক্ষা করে নীতি নির্ধারণ করা। কিন্তু ছফারা দাবী করে বসলেন যে খালেদাকে রান্না করে খাওয়াতে হবে।

এবং প্রচ্ছন্নভাবে বোঝানো হল যে হাসিনা যেহেতু রান্না করে খাওয়ান তাই হাসিনা ভাল। অথচ আবারও একই কথা- রান্না করে খাওয়ানো কিন্তু হাসিনার কাজ না। হাসিনার কাজ সিভিল সোসাইটি এক্টর হিসাবে ছফার সাথে প্রফেশনাল ডিলিংসে যাওয়া। কিন্তু অসভ্য ছফার মাথায় এই সভ্য চিন্তাটা এলিয়েন। এদিকে হাসিনার ভাই কিন্তু ছফাকে ধরে মারতে চেয়েছিল একাত্তরের গৃহযুদ্ধের পর- ওটা ছফার জীবনীতেই আছে। ছফা ওটা ভুলে যেতে রাজি আছে স্রেফ একটু ল্যাটকা আবেগের জন্য।

ছফারা নিজেদেরকে প্রজা বানিয়েছেন, আমাদেরকেও প্রজা করে গেছেন। জমিদারের বাসায় এক প্লেট ভাত খাওয়াতেই ছফাদের তৃপ্তি। সেই ভাত যদি জমিদার নিজে রান্না করে দেয় তাহলে তো আরও ভাল। কিন্তু নিজের সংসদীয় আসনের রিপ্রেজেন্টিটিভের সাথে হোটেলে বসে মিটিং করাটা ছফাদের ঠিক সয় না। কুকুরের পেটে যেমন ঘি সয় না, তেমনি ছফাদের নসীবেও খালেদা সয় না।

এবার দ্বিতীয় ঘটনাটার দিকে দেখুন।

ছফা শুধু আনপ্রফেশনালই নন, তার মারাত্মক ইগো। তিনি একজন স্টেটসম্যানকে ফোন করেছেন। কিন্তু নিজের পরিচয়টা ঠিকমত দিতে তার অনীহা।

অথচ খালেদা কিন্তু ঠিকই কলব্যাক করেছেন। এরপরও ছফার চোটপাট থামে নাই। কিন্তু খালেদা খুব বিনয়ের সাথে নিজের অজ্ঞতা স্বীকার করে ছফার মত "শিক্ষিত" মানুষদের সাহায্য চেয়েছেন।

ছফার মধ্যে যদি বিন্দুমাত্র শিক্ষা-দীক্ষা থাকত তবে ছফা এতে লজ্জিত হতেন। একজন এইট পাশ মহিলার মধ্যে যে বিনয়, প্রফেশনালিজম, এবং মডার্ন সিভিক সেন্স গ্রো করেছে, সেটা ছফার মত স্বঘোষিত জাতির বিবেকের মধ্যে আসে নাই। একটা আইট পাশ মহিলা এত বড় নেতা হয়েও তার মধ্যে ইগো ভর করে নাই, কিন্তু ছফার ইগোর চোটে মাটিতে পা পড়ছে না।

শুধু তাই না, ছফার এধরণের অসভ্যতার পরও খালেদা ছফার হেল্প চাইতে কুণ্ঠা বোধ করছেন না। খালেদা জানেন যে স্টেটসম্যান হিসাবে তাকে নিউট্রাল থাকতে হবে। রাগ, অনুরাগ, বিরাগের বশবর্তী হয়ে তিনি কারও মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিতে পারেন না।

কিন্তু ছফা এর বিনিময়ে কি করলেন? সেটা আমরা জানি না। তবে উনি খুব সম্ভবত বিএনপিতে যুক্ত হন নাই- অশিক্ষিত খালেদাকে নিজের শিক্ষা-দীক্ষা দিয়ে সহায়তাও করেন নাই। হাসিনার রান্না করা ভাতই তার ভাল লাগলো। আর তার ভক্ত-অনুসারীরা ছফার এই অশ্লীল অসভ্যতাকে গর্বভরে প্রচার করতে থাকল।

এই ছফারাই বাংলাদেশের শহুরে মধ্যবিত্ত শিক্ষিত এলিট সমাজের রুচি ও দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করেছে। বাংলাদেশে যে আওয়ামী-শাহবাগী ফ্যাসিবাদ চেপে বসেছে তা তো এমনি এমনি না।‘‘

অর্থনীতির সুফল জনগণের পরিবর্তে একটা গোষ্ঠীর হাতে চলে গেছে

ব্যবসায়ীদের জন্য আমরা ‘কমফোর্ট জোন’ তৈরি করতে পারিনি

গণভোটে দেশের মানুষকে 'হ্যাঁ' ভোট দেওয়ার আহ্বান সাকির

ফ্যাসিস্ট মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই: আবু জাফর কাসেমী

খালেদা জিয়াকে বিদেশ নেওয়ার বিষয়ে যা জানালেন ফজলে এলাহী

খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার মতো শারীরিক অবস্থা নেই

শান্তিপূর্ণ পরিবর্তন না হলে অস্থিতিশীলতা থেকে যাবে : নাহিদ ইসলাম

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত অবনতির জন্য আ.লীগ সরকার দায়ী

লুটেরাদের শাস্তি দিন, কারখানা বন্ধ নয়: মির্জা ফখরুল

দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে এভারকেয়ারে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভিড়