শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইনকিলাব মঞ্চের নবগঠিত কমিটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬ দুপুর ১২টায় হাদির কবর জিয়ারত ও দোয়ার মাধ্যমে নতুন কমিটির যাত্রা শুরু হয়।
জিয়ারতে ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নবগঠিত কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন।
জিয়ারত শেষে নবগঠিত কমিটির সদস্যদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো: রায়হান মোল্লা। তিনি বলেন, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে এমন সদস্যদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে যারা সংগঠনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন এবং আদর্শিকভাবে সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রায়হান মোল্লা বলেন, “ইনকিলাব মঞ্চকে যারা মোস্ট প্রায়োরিটি দেয়, সংগঠনের কাজকে যারা নিজেদের দায়িত্ব মনে করে, মূলত তাদেরকেই এই কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখাটি একটি শক্তিশালী বুদ্ধিবৃত্তিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠুক।”
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিলাব মঞ্চের মূল কার্যক্রম হবে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও চিন্তাশীল উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি নিয়মিত পাঠচক্র, গবেষণামূলক আলোচনা, ম্যাগাজিন প্রকাশ এবং মাসে অন্তত দুটি সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কেবল সাংগঠনিক কার্যক্রম নয়, বরং চিন্তা ও জ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগই একটি সংগঠনকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবশালী করে তুলতে পারে। এজন্য নতুন কমিটির সদস্যদের গবেষণা, আলোচনা ও লেখালেখির মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় বক্তব্য দেন ইনকিলাব মঞ্চ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক মো. ফজলে রাব্বি সরকার। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিলাব মঞ্চ ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাতীয় চেতনা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
ফজলে রাব্বি সরকার বলেন, “বাংলাদেশি সংস্কৃতিকে উজ্জীবিত করা এবং আমাদের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিলাব মঞ্চ কাজ করবে। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বৌদ্ধিক ঐতিহ্য সম্পর্কে আরও সচেতন হোক।”
তিনি আরও বলেন, নতুন কমিটি সংগঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরিকল্পিতভাবে কাজ করবে। এজন্য কমিটির সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে, যাতে প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেন।
নতুন কমিটির সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, একটি সংগঠন তখনই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যখন এর সদস্যরা সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সংগঠনের আদর্শকে ধারণ করেন। তাই সকলকে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।