নির্বাচিত সরকার যত দ্রুত আসবে দেশের মঙ্গল তত দ্রুত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর ৮৯ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর ঘোষণাধি মহান মুক্তিযুদ্ধের তুর্যধ্বনি শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আলাল বলেন, নির্বাচনের কথা এই কারণে আমরা বলছি যে ১৪,১৮,২৪ সালে নির্বাচনে যা হয়েছে, মানুষ তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে নিজেদের ভোট প্রয়োগ করতে চায়। আর একটা নির্বাচন সরকার যা করতে পারবেন একটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তা করতে পারবে না। সুতরাং নির্বাচিত সরকার যত দ্রুত আসবে দেশের মঙ্গল তত দ্রুত হবে।
তিনি বলেন, ঝড়ের মধ্যে একটি জাহাজ পড়লে একজন দক্ষ নাবিক পারে সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তেমনি বাংলাদেশের এই অবস্থায় একজন দক্ষ নাবিক প্রয়োজন। সেই দক্ষ ভান্ডারটা বিএনপির মধ্যে আছে। বিএনপির দেশ পরিচালনার দক্ষতা রয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম বিভিন্ন নদীর পানির ভাগাভাগি নিয়ে জাতিসংঘে প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল। আর আওয়ামী লীগ সরকার শুধু দিয়েই গেছে। শেখ হাসিনার সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিল ভারতকে আমি যা দিয়েছি তারা সারা জীবন মনে রাখবে। ভারত কেন? চায়না হোক আমেরিকা হোক ভারত হোক পাকিস্তান হোক আর বিশ্বের যে কোন দেশেই হোক সবার সাথে বন্ধুত্ব হবে সমান্তরাল ভিত্তিতে। আমার দেশের মর্যাদা আর তার দেশের মর্যাদা দুটো যখন সমান্তরাল হবে তখনই তাদের সাথে বন্ধুত্ব হবে।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমাদের ছোট বন্ধুরা, আমাদের সন্তান সমতুল্য যারা তাদেরকে বলছি, আপনারা পাকা ফল ঝাঁকি দিয়ে পেড়েছেন। ১৫-১৬ বছর আমরা ত্যাগের মধ্য দিয়ে বিশেষ করে জিয়া পরিবার বেগম খালেদা জিয়া যে অববনীয় কষ্টের মধ্য দিয়ে একাগ্র চিত্রে এই ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের জন্যে মানসিকভাবে কঠোর ছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় একটা পর্যায়ে এসে আপনারা গাছে ঝাকি দিয়েছেন আর পাকা ফল পড়েছে। আমি নিশ্চিত এই ফল পড়তো হয়তো আর কিছুদিন সময় লাগতো। তার মানে এই নয় আপনারা সব কৃতিত্ব নেবেন এই আন্দোলনে আরো যাদের ভূমিকা রয়েছে তাদেরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করবেন। এটা কখনোই কাম্য হতে পারে না।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের উদ্দেশ্যে যুবদলের সাবেক এই সভাপতি আরও বলেন, আপনারা কেন সরকারে গেলেন? আন্দোলনে থাকলে আন্দোলনের মাধ্যমেই তো দাবি আদায় করা যায়। সরকারে যেহেতু গিয়েছে তখন মানুষের মধ্যে প্রশ্ন জেগেছে আপনারা সারাদেশে যে কম্বল বিতরণ করছেন এর টাকা দিচ্ছে কে? আপনারা রাজনৈতিক দল করার জন্য বৈঠক করছেন। খোলা জিপে চড়ে মাইলের পর মাইল ঘুরে বেড়াচ্ছেন, টাকা দিচ্ছে কে? এই প্রশ্ন করলেই অপরাধ হয়ে যাবে? এ প্রশ্ন করার অধিকার সবার রয়েছে। আগে এ প্রশ্ন করতে পারে নাই বলেই আন্দোলনে মায়েরা, মুগ্ধরা পানি দিয়েছে; জীবন দিয়েছে। তারা দেখিয়ে দিয়েছে যারা মরতে জানে তাদেরকে মারা যায় না। আবার প্রমাণ করতে পারবে না এমন নিশ্চয়তা কিন্তু নাই। সুতরাং নিজেদেরকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে ভাবাটা আপনাদের ঠিক হচ্ছে না।
জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইজতিয়াক আজিজ উলফাত এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফেজ উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম সহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।