ভারতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও পাকিস্তানের তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে রাজধানীর শাহবাগে কর্মসূচি পালন করেছেন কয়েকজন রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্ট। এ সময় তারা বিভিন্ন দাবিসংবলিত হাতে লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
শনিবার শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই সংহতি প্রকাশ করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্টরা।
কর্মসূচিতে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা সরকার যেভাবে দমন-পীড়ন চালিয়েছিল, ভারতে বর্তমানে তেমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন। সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপক, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি, রাজনীতিবিদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, নেহা বোরা ও ঐশী ঘোষসহ রাজনীতিবিদ, অনলাইন কনটেন্ট নির্মাতা ও সংগঠকদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে নাঈম আহমাদ বলেন, দেশটিতে রাজনৈতিক সংকট ও দমন-পীড়নের অভিযোগ রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাবন্দী রেখে তার ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে এবং তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ পরিস্থিতির প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেছে উল্লেখ করে ওই আন্দোলনের প্রতিও সংহতি জানান তিনি।
নাঈম আহমাদ বলেন, ‘শেখ হাসিনা যে পথে ক্ষমতা হারিয়েছেন, সেই পথেই নরেন্দ্র মোদি, শাহবাজ শরিফ ও আসিফ আলী জারদারিরাও ক্ষমতা হারাবেন।’
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জেডিপির এই আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেন-জি আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল। বাংলাদেশেও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
কর্মসূচিতে জেডিপির ইয়াসিন আরাফাত রাজ, জাতীয় ছাত্রমঞ্চের সালমান শরীফ ও আসমাইন হাওলাদার ইফরাতসহ অন্যরা অংশ নেন। এ সময় তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ‘ইমরান খান, অভিজিৎ দীপক, ধ্রুব রাঠিদের মুক্তি দাও’, ‘ভারতে সিজেপি ও পাকিস্তানে পিটিআইয়ের চলমান আন্দোলনে সংহতি’ এবং ইংরেজিতে একই দাবিসংবলিত স্লোগান লেখা ছিল।