ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ
শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত দেশীয় খুনিদের চিহ্নিত করা, পলাতক খুনিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। এ সময় ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তেরও দাবি জানানো হয়।
বিক্ষোভ মিছিল থেকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে ওসমান হাদির হত্যাকারীদের সুনির্দিষ্ট তথ্য দাবি করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। আগামী শুক্রবারের মধ্যে সরকার যদি হাদি হত্যাকারীদের নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা তাদের বিচার নিশ্চিত করতে সময়সীমা দিতে না পারে তাহলে জনগণকে নিয়ে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করারও ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শাহবাগ প্রদক্ষিণ করে ওসমান হাদির সমাধিস্থলের সামনের রাস্তায় এসে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার তিন মাস হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত সরকার ওসমান হাদির বিচারের ব্যাপারে কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রণয়ন করতে পারেনি। সরকার বারবার বলছে হত্যাকারীকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রক্রিয়া কেয়ামত পর্যন্ত চলবে কি না সেটা আমরা জানতে চাই।
আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বক্তব্য দিয়েছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচিত ছিল সেই বক্তব্য আমলে নিয়ে এর সত্যমিথ্যা ঘটনা উদ্ঘাটন করার। কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বললেন যে পরাজিত প্রার্থীর কোনো কথা তারা আমলে নিচ্ছেন না।
আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে তারা নিজেদের পক্ষ থেকে আর কোনো দফা বা আলটিমেটাম দেবেন না। এখন আলটিমেটাম ও দফা সরকার দেবে বলে জানান তিনি
ইনকিলাব মঞ্চ এখন চূড়ান্ত আন্দোলনের দফা বা আলটিমেটাম দেবে বলেও জানান আবদুল্লাহ আল জাবের। আগামী সাত দিনের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট দুটি কথা শুনতে চান বলে জানান তিনি।
আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, প্রথমত জাতিসংঘের অধীনে একটি তদন্ত হওয়ার কথা ছিল। জাতিসংঘ তদন্তের ব্যাপারে সম্মত হয়েছে নাকি তারা বারণ করে দিয়েছে, এটা আমরা সরকারের কাছ থেকে শুনতে চাই। দ্বিতীয়ত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে এটা সুস্পষ্ট যে হাদি হত্যায় ভারত ও বাংলাদেশের যোগসূত্র রয়েছে। তাই আমি মনে করি সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে কীভাবে এই খুনের বিচার দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা যায় সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’
আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, গতকাল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ একটি বক্তব্য দিয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমরা তাকে পছন্দ করি, কিন্তু তার বক্তব্যে আমরা বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে কোনো দৃঢ় অবস্থান দেখতে পাইনি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এত গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য প্রকাশ করার পরেও আমাদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিষয়টিকে আমলে নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছিল, ভারত ওসমান হাদির খুনিদের ফিরিয়ে দিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। প্রশ্ন হলো তাদের ফিরিয়ে আনার নির্দিষ্ট সময়সীমা কী? নাকি এ প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে থাকবে?
ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্য মাসুদুর রহমান আদনান বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই ইনকিলাব মঞ্চকে আশ্বস্ত করে বলেছিল যে আমরা ওসমান হাদির বিচারের বিষয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কিন্তু তাদের সরকার ফাংশন করার তিন মাস অতিক্রম করার পরেও এ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা দেখা যায়নি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হলে এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।