কৃষকের অধিকার, সামাজিক ন্যায় ও ইনসাফের সংগ্রামে পীর মুহসীনউদ্দীন দুদু মিয়া আজও প্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেছেন জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ। তিনি বলেন, দুদু মিয়া আমাদের মুক্তির লড়াইয়ের অন্যতম পূর্বসূরি। অথচ পরিকল্পিতভাবে মুসলিম ঐতিহাসিক ও সংগ্রামী ব্যক্তিত্বদের আড়াল করে রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেডিপি কার্যালয়ে ‘মহা বিপ্লবী মুহসীনউদ্দীন দুদু মিয়ার ১৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ বলেন, জেডিপি আমাদের লড়াই-সংগ্রামের সব বীরকে অব্যাহতভাবে স্মরণ করবে। বিশেষ করে দুদু মিয়া কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অধিকার ও মুক্তির সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি শুধু একটি ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের নেতা ছিলেন না; তাঁর নেতৃত্বে ফরায়েজি আন্দোলন পূর্ববাংলার কৃষকসমাজের ওপর জমিদারি ও ঔপনিবেশিক নিপীড়নের বিরুদ্ধেও শক্তিশালী প্রতিরোধে রূপ নেয়।
তিনি আরও বলেন, “আজকের বাংলাদেশে কৃষকের ন্যায্য অধিকার, শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা এবং রাষ্ট্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে দুদু মিয়ার সংগ্রাম থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়ার আছে। তাঁর আদর্শ ও সংগ্রামের চেতনা ধারণ করে আমাদের লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।”
উল্লেখ্য, মুহসীনউদ্দীন আহমদ দুদু মিয়া (১৮১৯–১৮৬২) ফরায়েজি আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়তউল্লাহর পুত্র। ১৮৪০ সালে পিতার মৃত্যুর পর তিনি আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে ফরায়েজি আন্দোলন ধর্মীয় সংস্কারের পাশাপাশি কৃষক ও মেহনতি মানুষের অধিকার, জমিদারি নিপীড়ন এবং ঔপনিবেশিক কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ রূপ নেয়। সরকারি শিক্ষক বাতায়নেও তাঁকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও পূর্ববাংলার নিপীড়িত মানুষের প্রতিরোধ সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জেডিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ইয়াসিন আরাফাত রাজের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জেডিপির প্রধান সংগঠক আহছান উল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান হোসেন রাহাত, বাংলাদেশ গ্রিন পার্টির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য-সচিব ইউসুফ আম্মার, জেডিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার আয়মান আন্দালিব ও আব্দুল হামিদ এবং জাতীয় ছাত্রমঞ্চের সদস্য-সচিব আহনাফ আতিফ।