মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনে সেলিম উদ্দিন
জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির ও ডিএনসিসি মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, দেশের অসাধু রাজনীতিকরা মাদকমুক্ত সমাজ চান না, কারণ মাদকমুক্ত হলে তারা কর্মী খুঁজে পাবেন না।
তিনি বলেন, মাদকাসক্তদের প্রতি ঘৃণা নয়, বরং সহমর্মিতা প্রদর্শন করতে হবে। তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ ও সামাজিক সহযোগিতা জরুরি। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও মাদক নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরার মীর মুগ্ধ মঞ্চে আয়োজিত চার দিনব্যাপী মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির আওতায় ডিএনসিসির ৫৪ টি ওয়ার্ডে ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী গণসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়।
এ সময় উত্তরা পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, মদের বার বন্ধ করতে হবে। তাহলেই উত্তরা নিরাপদ ও মাদকমুক্ত হবে।
তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, সমাজের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা তরুণদের। কিন্তু বেকারত্ব, অপসংস্কৃতি ও বিলাসিতার প্রবণতার কারণে অনেক তরুণ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, সারা দেশে মাদকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা উচিত। ঢাকা উত্তর সিটি এলাকায় কোনো পরিবারের সন্তান মাদকাসক্ত হলে জামায়াতের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
তিনি জানান, এক মাসের মধ্যে ২৫টি ডিজিটাল অ্যাপ উদ্বোধন করা হবে, যার মাধ্যমে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সেলিম উদ্দিন বলেন, আধুনিকতার নামে অপসংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ছে, যা পরিবার ও সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রয়োজন।
যারা জামায়াতকে ক্ষমা চাইতে বলে, তাদের নিজ দলের কৃতকর্মের জন্য অন্তত কয়েকবার ক্ষমা চাইতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, জামায়াতের বিরুদ্ধে ভোঁতা অস্ত্র ব্যবহার করে ঘায়েল করা যাবে না।
সরকারকে উদ্দেশ করে সেলিম উদ্দিন বলেন, পলাতক শেখ হাসিনার সহযোগীদের কথায় চললে পরিণতি ভালো হবে না। হাসিনার পথে গেলে তার পরিণতিও ভালো হবে না। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি পুরাতন রাজনীতিকে বিদায় দিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চান। যেটা জামায়াত সংসদেও প্রশংসা করেছেন।
মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে ও মহানগরী যুব বিভাগের সেক্রেটারি ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, নাজিম উদ্দিন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও ইয়াছিন আরাফাত। এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।