খুলনা-৫ আসন
দুই হেভিওয়েটের লড়াইয়ে হাইভোল্টেজ নির্বাচন হবে খুলনা-৫ আসনে। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। আর বিএনপির প্রার্থী আলী আসগার লবি। দুজনই সাবেক এমপি। প্রচারের শুরুর দিকে লড়াইটা ভারসাম্যহীন মনে হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগিয়েছেন লবি। মূলত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমঝোতা এবং হিন্দু ভোটারদের কাছে টানতে পারাকে সফলতা হিসেবে দেখছেন তার অনুসারীরা।
ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলা নিয়ে খুলনা-৫ আসন। এ আসনে মোট ভোটার চার লাখ তিন হাজার। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, ডুমুরিয়ায় প্রায় ৩৫ শতাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস, ফুলতলায় আট শতাংশের কিছু বেশি। বিগত সংসদ নির্বাচনগুলোয় এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জিতেছেন বেশিরভাগ সময়। জাতীয় পার্টি ও বিএনপি জিতেছে একবার করে। চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের গোলাম পরওয়ার একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ ও ২০১৮ সালে আরো দুবার নির্বাচনে অংশ নিয়েও বিতর্কিত ভোটগ্রহণে পরাজিত হন তিনি।
আওয়ামী লীগবিহীন এবারের নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায় ও নারী ভোটাররা মূল ফ্যাক্টর বলে মনে করছেন সবাই। ডুমুরিয়ার সাহস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মো. মাহবুবুর রহমান তার এলাকায় লবির পক্ষে প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। জানতে চাইলে তিনি আমার দেশকে বলেন, যখন কাজ শুরু করেছিলাম, তখন পরিস্থিতি খুবই খারাপ ছিল। নারী ভোটারদের মধ্যে আমাদের অবস্থান ছিল নাজুক। তবে পরিকল্পিতভাবে কাজ করায় সময় আমরা অনেক এগিয়েছি।
সূত্রে জানা গেছে, পালিয়ে বা আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সম্পর্ক জোরদার করা হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও। তারা শুধু ধানের শীষে ভোট দেওয়াই নয়, পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকারও করেছেন। ফলে বিজয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদী বিএনপি।
সম্প্রতি খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন জামায়াতের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ সময় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হওয়া নিয়ে সংশয় ও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কালো টাকা ছড়ানোর পাশাপাশি সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের এলাকায় জড়ো করছেন। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও হিন্দুধর্মের নেতাদের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার হুকুম দেওয়া হচ্ছে।
সংখ্যালঘু ভোটার অধ্যুষিত রংপুর ইউনিয়নের শলুয়া বাজার। বাজারের একটি দোকানের বারান্দায় বসে বিশালাকৃতির টানা জালের ছিঁড়ে যাওয়া বিভিন্ন অংশ মেরামতের কাজ করছিলেন দেবরঞ্জন বিশ্বাস ও তার ছেলে কার্তিক বিশ্বাস। জাল মেরামত করাই তাদের পেশা। কার অবস্থান ভালো জানতে চাইলে জানান, দুই পার্টির লোকজনই ভোট চেয়েছেন। তবে গোলাম পরওয়ার এলাকার মানুষ। অনেকদিন ধরে তাদের পাশে আছেন। তা ছাড়া বিল ডাকাতিয়ার সমস্যা মেটাতে হলে তার বিকল্প নেই।
তবে ভিন্নমত ভ্যানচালক প্রকাশ সরকারের। নিজেদের নিরাপত্তা ও সম্পদ রক্ষায় ধানের শীষ রক্ষাকবচের কাজ করবে বলে মনে করছেন তিনি। ভোটে নৌকা মার্কা না থাকায় হিন্দুদের ভোট একচেটিয়া কোথাও যাবে না বলে ধারণা তার।
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে অচলাবস্থায় প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ সলুয়া বাজারের সুব্রত জুয়েলার্সের মালিক দেবব্রত রায়। তিনি বললেন, নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়া অধিকার। তবে আমার কেন্দ্রে ধানের শীষ বেশি ভোট পাবে।
শাহপুর, থুকড়া ও আমভিটা এলাকার একাধিক গৃহবধূর সঙ্গে কথা হলে তারা দাঁড়িপাল্লার প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়ে বলেন, তাদের এলাকায় নারীদের সিংহভাগ ভোট এবার গোলাম পরওয়ার পাবেন। আওয়ামী লীগের অত্যাচারী স্বভাবের নেতাকর্মীরা বিএনপির আশ্রয়ে এলাকায় ফিরে আসায় তারা ক্ষুব্ধ।
জামায়াতে ইসলামের কালিতলা স্কুল কেন্দ্রের প্রধান নজরুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পরে হিন্দুরা বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও চাঁদাবাজির শিকার হয়। পরে তাদের অনেকেই জামায়াতের হিন্দু শাখায় যোগ দিয়েছে। জামায়াত সব সময় তাদের পাশে আছে। প্রতিপক্ষ নানা অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ালেও নীরব ভোটাররা গোপন বুথে ভোট বিপ্লব ঘটাবেন বলেই বিশ্বাস তার