জামায়াতে ইসলামীর কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি ও আলোচিত ইসলামি বক্তা আমির হামজার নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে করা ‘বডি শেমিং’ মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তার ওই বক্তব্যের জবাবে কড়া অবস্থান নিয়েছেন সংসদের একাধিক নারী সদস্য।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রুমিন ফারহানা গণমাধ্যমে বলেন, এই মন্তব্যটি দুই দিন আগে আমার নজরে এসেছে। তার অতীত রেকর্ড বিবেচনায় এটি কোনো ব্যতিক্রম নয়।
তিনি আরও বলেন, আমি অবাক হয়েছি যে সংসদে এক সপ্তাহ যাওয়ার পরও তিনি জানেন না যে প্রতিটি সদস্যের নির্দিষ্ট আসন থাকে। তিনি ডান-বামের কথা বলেছেন, অথচ বাস্তবে তার পাশে কেউ ছিল না। জামায়াতের এমপি হিসেবে তিনি জামায়াতের সদস্যদের সঙ্গেই বসেন।
তিনি মন্তব্য করেন, এটি নারীদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। একটি নারী বিদ্বেষী সমাজে এটি অস্বাভাবিক নয়, তবে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো—এখন তারা জনগণের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি।
অন্যদিকে নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন গণমাধ্যমে বলেন, আমি ভিডিওটি দেখেছি। এই বিষয়ে কথা বলাও আমার মর্যাদার নিচে।
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের বক্তব্য দিয়ে তিনি শুধু নারী এমপি নয়, সংসদের প্রতিটি এমপিকে অপমান করেছেন। এমনকি দেশের প্রতিটি নারীকে তার (আমির হামজা) নিজের মাকেও অপমান করেছেন।
আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা গণমাধ্যমের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে এমন একজন অশালীন ব্যক্তির জবাব দেওয়ার চেয়ে আমার আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে।’
ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি নায়াব ইউসুফ আহমেদ গণমাধ্যমে বলেন, এই মন্তব্য আমির হামজার ‘চরম সংকীর্ণ মানসিকতার’ পরিচয় দেয়।
তিনি বলেন, তারা নারীদের মানুষ হিসেবে দেখে না যেন আমরা অন্য গ্রহ থেকে এসেছি। যারা নারীদের এভাবে দেখে, তারা কীভাবে আমাদের নেতৃত্ব মেনে নেবে? এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
তারা প্রকৃত অর্থে ধর্ম মানে না বরং ধর্মের নামে নারীদের দমন করতে চায়। দেশের মানুষ এটি কখনো মেনে নেবে না, আমিও না।’