দেশের স্বাস্থ্য ও জ্বালানিখাতে অরাজকতা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের ভূমিকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খেলাফত মজলিস। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং দেশের বিভিন্নক্ষেত্রে চলমান অরাজকতা বন্ধে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
আজ বৃহস্পতিবার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সভায় এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে অবৈধ বলে সংসদে তা উত্থাপন করা হয়নি। অথচ তারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর ও গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিল। গণভোটে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে যে রায় এসেছে তা বাস্তবায়নে সরকারি দলের নীতিগত দায় রয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদের যে ৪৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল নির্বাচিত সংসদকে সেগুলো নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করতে হবে। গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে ভয়াবহ অরাজকতা বিরাজ করছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ঔষধ ও সরঞ্জাম সংকটে চিকিৎসা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। হাম প্রাদুর্ভাবে অনেক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। মশার উৎপাত বেড়েছে। জ্বালানী তেল মজুদকারীদের বিরুদ্ধে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে ৩দিন অনলাইন ক্লাস চালু অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত। এতে আর্থিক ও নৈতিকভাবে শিক্ষার্থীদের বহুমুখী ক্ষতির শিকার হতে হয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সংকট মোকাবেলায় সরকার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র ও আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারে। পাবলিক পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাসের অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মাসিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউস বিন ইসহাক, যুগ্ম মহাসচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিজানুর রহমান, অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুর রহমান ফিরোজ, প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক প্রভাষক আবদুল করিম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রিফাত হোসেন মালিক, ডা. আসাদুল্লাহ, খন্দকার সাহাব উদ্দিন আহমদ, মুফতি আবদুল হক আমিনী, অধ্যাপক মাওলানা আজিজুল হক, মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ খন্দকার, হাজ্বী নুর হোসেন, মাওলানা ফারুক আহমদ ভূইয়া, আবুল হোসেন, আমির আলী হাওলাদার প্রমুখ।