হোম > রাজনীতি > বিএনপি

ভ্যানচালক জুয়েল ও গার্মেন্টসকর্মী লিলির কাছে যে ওয়াদা করলেন তারেক রহমান

স্টাফ রিপোর্টার

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি আসন ঢাকা-১৭ আসনের ভ্যানচালক জুয়েল, গার্মেন্টসকর্মী লিলিসহ কয়েকজনের কাছে স্থানীয় সমস্যার কথা শুনে সেগুলো সমাধানের ওয়াদা করলেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

শুক্রবার রাতে রাজধানীর ভাসানটেকে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় জনসাধারণের সঙ্গে এ আলাপচারিতায় মুগ্ধ কয়েকহাজার এলাকাবাসী।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বক্তব্য শুরু করার আগেই মঞ্চের ডান দিকে এগিয়ে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, এখানে কোনো মা-বোন আছেন যিনি গার্মেন্টসে কাজ করেন? শুনেছি এই এলাকায় অনেক গার্মেন্টসকর্মী রয়েছে। এমন একজন মা বা বোন মঞ্চে আসেন যিনি এই এলাকার ভোটার তবে আমার দলীয় কোনো কর্মী নয়। একদম সাধারণ মানুষ।

এরপর তিনি মঞ্চের বাম দিকে এগিয়ে গিয়ে বলেন, একজন ভাই আসুন। যে শ্রমিক হতে পারে, রিকশাচালক হতে পারে কিংবা দিনমজুর। এরপর তিনি একজন ছাত্র বা ছাত্রী কে আছেন এমন একজনকে মঞ্চে যেতে বলেন।

মঞ্চের সামনে থেকে অনেকেই হাত তুলেন। তবে তারেক রহমান বারবার বলেন, যে যারা আসবেন তারা অবশ্যই এই এলাকারই ভোটার হতে হবে এবং দলীয় কোনো কর্মী হতে পারবে না।

বস্তি পুনর্বাসনের দাবি ভ্যানচালক জুয়েলের

মঞ্চে উঠেন মোহাম্মদ জুয়েল। যে নিজেকে পরিচয় দেন একজন ভ্যান চালক হিসেবে। জুয়েলের হাতে একটি মাইক দিয়ে তারেক রহমান প্রশ্ন রাখেন, আমি এই এলাকার ভোটার। বিএনপি প্রার্থী। এখন তো এসে শুধু বক্তৃতা দিলে চলবে না। আমার কাছে কি কি চান, ইনশাল্লাহ আমি যদি নির্বাচিত হই, বিএনপি সরকার গঠিত হয়, আপনি আমার কাছে কি চান? আপনার এলাকার মূল সমস্যা কি? এলাকায় কি কি সমস্যা, কি করতে হবে?

উত্তরে জুয়েল বলেন, আমি বেনারসি মাঠে থাকি, বস্তিতে। ৩০ বছর ধরে এই এলাকায় থাকি। এখানে অনেক খেটে খাওয়া মানুষ আছে। আমাদের মূল চাওয়া আপনারা সরকার গঠন করতে পারলে বস্তিবাসীর পুনর্বাসন করে দিতে হবে। এটা হলো মূল চাওয়া।

তারেক রহমান উপস্থিত জনসাধারণের কাছে প্রস্ন রেখে বলেন, জুয়েলের এই মূল চাওয়ার সাথে আপনারা কারা কারা একমত তারা হাত তুলেন তো, আপনারা কি একমত?

সবাই হাত তুলে সমস্বরে বলেন, 'একমত'।

জুয়েলের কাছে জানতে চান, একটা সমস্যা গেল? আরেকটা?

জুয়েল বলেন, 'এখানের গরীব মানুষ আছে, খেটে খাওয়া মানুষ আছে, তাদের সহযোগিতা করতে হবে।'

তারেক রহমান তার কাঁধে হাত রেখে বলেন, আপনি বলেন, ভয় পেয়েন না। কেউ কিছু বলবেনা।

আশ্বস্ত হয়ে জুয়েল বলেন, 'এলাকার ভেতরের রাস্তাগুলো ভাঙাচোরা। সেগুলো ঠিক করলে ভালো হয়। তবে মূল চাওয়া পুনর্বাসন, বস্তিবাসীর পুনর্বাসন।'

এলাকার সমস্যার কথা জানান ছাত্রী হেনা

জুয়েলের পর তারেক রহমান মঞ্চে ডেকে কথা বলেন এশিয়া প্যাসিফিকের ছাত্রী হেনা আক্তারের সাথে। তিনি এই এলাকার ভোটার, থাকেন পুরাতন কচুক্ষেত এরিয়াতে।

তারেক রহমান হেনা আক্তারের কাছে জানতে চান ভাষানটেক এলাকার সমস্যা কি?

জবাবে হেনা বলেন, আমাদের এদিকে বস্তি এরিয়াটা বেশি। আমাদের ক্যান্টনমেন্টের ভেতরের এরিয়াটা খুব সুন্দর, গুছানো পরিবেশ। এদিকের পরিবেশটা যদি একটু সুন্দর হতো। তাহলে পুরো জোনটা একই রকম দেখা যেত। সুন্দর দেখা যেত...যাতে ক্যান্টনমেন্ট এরিয়া, কচুক্ষেত এরিয়া, ভাষানটেক এড়িয়া...১৭ আসনের অন্তর্ভুক্ত আছে..দেখতেও ভালো লাগবে।

উপস্থিতির দিকে তাকিয়ে তারেক রহমান জিজ্ঞেস করেন, এই যে আমাদের এই বোন যে কথা বলল, তার সাথে কি আপনারা একমত?

উপস্থিতি হাত নেড়ে বলেন, একমত।

নিজের চাওয়া জানান গার্মেন্টস কর্মী লিলি

হেনার মঞ্চে আসেন ৯৫ ওয়ার্ডে এ ভোটার লিলি বেগম। পেশায় গার্মেন্টসকর্মী।

তারেক রহমান বলেন, এই এলাকার সমস্যাটা কি। কি করতে হবে। আমি ইনশাল্লাহ আপনাদের ভোটে জিতলে মূল কাজটা কি করতে হবে?

লিলি বলেন, 'আমরা বস্তিবাসী। আমাদের কিছুই নেই। আপনি বলছেন ফ্যামিলি কার্ড দিবেন। আমরা ফ্যামিলি কার্ড চাই।

তারেক রহমান এসময় একটি ফ্যামিলি কার্ড দেখিয়ে বলেন, এই যে ফ্যামিলি কার্ড। উনার মতো প্রত্যেক মা বোন এমন একটি ফ্যামিলি কার্ড পাবে, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে।

লিলি বলেন, আমরা এটাই চাই। আমাদের দেশবাড়ি নেই। নদীতে সব চইলা গেছে। আমরা চাঁদপুর ছিলাম।

জুয়েলের মতো তিনিও বস্তিবাসীর পুনর্বাসন চান। তিনি বলেন, আপনাকে যদি ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে পারি। তাহলে আমাদের পুনর্বাসন দিবেন। জয়যুক্ত ইনশাল্লাহ করবে। আল্লাহর রহমতে ধানের শীষ পাশ করবে।

তারেক রহমান জানতে চান, আর কি বিষয়?

লিলি বলেন, 'আমার ছেলেই মাস্টার্স পাশ করছে। আমাদের অনেক জায়গা থেকে চাকরি দেয়ার কথা বলছে। আমরা গিয়েছিলাম। হয়নাই। আমাদের অনেক যুবল আছে, যারা লেখাপড়া করে ঘুরতেছে। চাকরি নাই। আপনার কাছে আমাদের অনুরোধ। আপনি সবাইকে চাকরি দিবেন যারা শিক্ষিত।

'এই বোন তাহলে একটা কথা বলেছেন। এক নম্বর পুনর্বাসন, দুই যুবসমাজের কর্মসংস্থান, চাকরির প্রয়োজন। এই সমস্যা শুধু ভাষানটেক না, এই সমস্যা সারা বাংলাদেশে আছে।' বলেন তারেক রহমান।

গৃহিণী শান্তা চান ফ্যামিলি কার্ড

ফ্যামিলি কার্ড পেলে আপনার মত একজন নারীর কী সুবিধা হবে বলে আপনি মনে করেন?

এই ফ্যামিলি কার্ড বাংলাদেশে প্রায় চার কোটি পরিবার আছে। আমরা চেষ্টা করবো সবাইকে দিতে। এই কার্ডের মাধ্যমে যার সংসার আছে তাকে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা দিব অথবা সমপরিমাণ প্রয়োজনীয় যে খাদ্য সামগ্রী আছে তা দিব। আপনাকে যদি এরকম একটা কার্ড পান, কি সুবিধা আপনার হবে বলেন? মাত্র তো আড়াই হাজার টাকা..'

শান্তা বলেন, অনেক সুবিধাই হবে। এই টাকার মধ্যেই আমরা চাল কিনতে পারব, ডাল কিনতে পারব, অনেক কিছু কিনতে পারব।'

মা-বোনেরা কি উনার সাথে একমত? প্র‍শ্ন রেখে তারেক রহমান বলেন, 'একমত যদি হোন, আর আপনারা যারা পুরুষ ভাইয়েরা আছেন। আপনারা যদি চান আপনার মা বা স্ত্রী কিংবা বোন যে সংসাত করছে তার হাতে এমন একটি ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছাক।

'আমরা ফ্যামিলি কার্ড দিই এটা যদি চান তাইলেতো দুটো কাজ করতে হবে। এক- এখানে বিএনপি প্রার্থীকে জয়যুক্ত করতে হবে। দুই- আপনাদের যারা আত্মীয়স্বজন-বন্ধুবান্ধব আছে তাদের বলতে হবে সারা বাংলাদেশে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে। তাহলেই সারা বাংলাদেশে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া সম্ভব হবে।'

সকল সমস্যা ও চাওয়া পূরণের ওয়াদা তারেকের

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, 'আজকে এতটুকু আপনাদের বলতে চাই,আমি যেহেতু আপনাদের প্রার্থী। আমি এই এলাকায় ছোট থেকে বড় হয়েছি। বহু মানুষ এই এলাকায় ছোট থেকে বড় হয়েছে, ২০/২৫/৩০ বছর ধরে বসবাস করছেন। এই এলাকায় গত ৫০ বছর ধরে বড় হয়েছি, যদিও মধ্যখানে অনেকটা সময় বাইরে থাকতে হয়েছে তবুও

আমি আপনাদেরই একজন। আজকে যখন আমি এই এলাকার প্রার্থী হয়েছি, আপনাদেরকে এতটুকু বলতে পারি যে ইনশাল্লাহ আল্লাহর রহমতে আগামী নির্বাচনে আমি জয়ী হলে এবং ধানের শীষ সরকার গঠন করলে...আজকে এখানে যে কজন মানুষ আপনাদের সকলের পক্ষ থেকে যে সমস্যার কথা বলে গেছে, পুনর্বাসন মূল সমস্যা..তাছাড়াও যত সমস্যার কথা বলে গিয়েছে, ইনশাল্লাহ আমরা সে সমস্যার সমাধান করবো এই এলাকার মানুষের জন্য। আপনাদের এলাকাবাসী হিসেবে, এই এলাকার সন্তান হিসেবে এই ওয়াদা আমি করে গেলাম।'

তরুণদের মেধা বিকাশসহ পর্যাপ্ত খেলার মাঠ পুনরুদ্ধার করবো: মির্জা আব্বাস

গণভোট সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই ধানের শীষের প্রার্থীর

ক্ষমতায় গেলে কৃষি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বস্তিবাসীর পুনর্বাসনের কাজ করব

এদেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির অপর নাম বিএনপি

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচন করুন

সানজিদা ইসলাম তুলির পক্ষে ভোট চাইলেন তাবিথ আউয়াল

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বেকারত্ব কমিয়ে আনা হবে

ঢাকা-১৭ আসনে নিজ নির্বাচনি জনসভায় তারেক রহমান

একটি দল ইসলামকে ব্যবহার করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে চায়: মেজর হাফিজ

শনিবার চট্টগ্রামে যাচ্ছেন তারেক রহমান