ইএএসডির জরিপ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট প্রায় ২০৮টি আসনে জয়লাভ করতে পারে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ৪৬টি। এছাড়া জাতীয় পার্টি ৩টি, অন্যান্য দল ৪টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৭টি আসনে জয়ী হতে পারেন।
নির্বাচনকে সামনে রেখে গবেষণা সংস্থা এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) এই নতুন জনমত জরিপ প্রকাশ করেছে। সাড়ে ৪১ হাজার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে জরিপটি তৈরি করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে রাজধানী ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ইএএসডির এক জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. শামীম হায়দার তালুকদার।
ইএএসডি জানায়, জাতীয় জনমত জরিপটি দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের প্রতিটিতে প্রাইমারি স্যাম্পলিং ইউনিট পদ্ধতি অনুসরণ করে পরিচালিত হয়েছে। এতে সারা দেশ থেকে মোট ৪১ হাজার ৫০০ জন উত্তরদাতার মতামত সংগ্রহ করা হয়। তথ্য সংগ্রহে ব্যবহার করা হয়েছে ‘কোবো টুলবক্স’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।
জরিপটি পরিচালিত হয় ১৮ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। এতে গ্রাম ও শহর এলাকার মানুষের সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৬৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৬ শতাংশ নারী।
জরিপের সামগ্রিক ফলাফলে দেখা যায়, রাজনৈতিক দল হিসেবে সর্বোচ্চ ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার বিএনপিকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, সমর্থন ১১ দশমিক ৯ শতাংশ। এছাড়া এনসিপি পেয়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ সমর্থন। জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রে এই হার মাত্র দশমিক ৪ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন ২ দশমিক ৬ শতাংশ।
ইএএসডির জরিপে নারী ভোটারদের মধ্যে বিএনপির জনপ্রিয়তা বেশি দেখা গেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী নারী ভোটারদের মধ্যে ৭১ দশমিক ১ শতাংশ বিএনপিকে সমর্থন জানিয়েছেন।
জরিপে অংশগ্রহণকারী ৬৬ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ মনে করেন, আসন্ন নির্বাচনের পর বিএনপি জোট সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার তাদের নিজ নিজ আসনে বিএনপি প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।
ইএএসডি জানায়, বিএনপি জোট প্রায় ২০৮টি আসনে জয়লাভ করতে পারে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেতে পারে ৪৬টি আসন। জাতীয় পার্টি ৩টি, অন্যান্য দল ৪টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৭টি আসনে জয়ী হতে পারেন। এছাড়া ২২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হাড্ডাহাড্ডি বা ক্লোজড কনটেস্ট হতে পারে।
জরিপে আওয়ামী লীগকে পূর্বে ভোট দেওয়া ভোটারদের বর্তমান রাজনৈতিক ঝোঁক বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এদের একটি বড় অংশ পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ইএএসডির তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটারদের মধ্যে ৮০ শতাংশ আসন্ন নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, ১৫ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং বাকি ৫ শতাংশ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতি ঝুঁকেছেন।
সংস্থাটির জরিপে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে সর্বাধিক সমর্থন দিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা। মোট ৬৮ শতাংশ উত্তরদাতা তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান বলে মত দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে মত দিয়েছেন ১৪ শতাংশ এবং নাহিদ ইসলামের পক্ষে ২ শতাংশ উত্তরদাতা। এ বিষয়ে মত প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক ছিলেন ১৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইএএসডির উপদেষ্টা কাজী সাইফউদ্দীন বেননূর। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম ও নাহরীন আই খান, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের সহযোগী অধ্যাপক তৌফিক জোয়ার্দার এবং নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য মীর নাদিয়া নিভিন।