নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের সমন্বিত সহায়তা দিতে দেশের সব সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
বুধবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ অনুযায়ী জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা, ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, মনোসামাজিক পরামর্শ, আশ্রয় ও পুনর্বাসন সহায়তা নিয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার প্রথমে আটটি পুরনো মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চালু হয়েছিল। পরে আরও ছয়টি নতুন মেডিকেল কলেজে চালু করা হয়। বর্তমানে ১৫টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার রয়েছে। এসব সেন্টারে চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, ডিএনএ ও ফরেনসিক সহায়তা, পুনর্বাসন এবং সমাজে পুনর্বাসনের সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
মন্ত্রী জানান, প্রতিটি সেন্টারে ২২ জন করে জনবল থাকার কথা। এর মধ্যে চারজন চিকিৎসক, ছয়জন নার্স, চারজন পুলিশ কর্মকর্তা, একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, একজন আইন কর্মকর্তা, একজন কম্পিউটার অপারেটর এবং আরও সহায়ক জনবল থাকার কথা।
তার তথ্য অনুযায়ী, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৮১ হাজার ৯২৮ জনকে সেবা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনের শিকার ৪৯ হাজার ৭৬৭ জন, যৌন নির্যাতনের শিকার ৩১ হাজার ৫৯৬ জন এবং অগ্নিদগ্ধ ৫৬৫ জন সেবা পেয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। এসব মেডিকেল কলেজে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সেবার পরিধি আরো বিস্তৃত করা এবং যে চাহিদা রয়েছে, সেই চাহিদাকে অ্যাড্রেস করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৯৫টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল রয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি জেলা সদরে এবং ৬৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চালু আছে। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো পর্যায়ক্রমে ৬৪ জেলা এবং দেশের প্রত্যেক উপজেলায় ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল বা সেন্টার চালু করা।
মন্ত্রী জানান, আগে এই কার্যক্রম ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল নামে ছিল, পরে মাল্টি-সেক্টরাল অ্যাপ্রোচ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। এখন নতুনভাবে কুইক রেসপন্স টিম বা কিউআরটি কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে, যাতে ঘটনা ঘটার পর দ্রুত ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো যায় এবং সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা যায়।
মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা একটি সামাজিক ব্যাধি। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বা গণআন্দোলন তৈরি করতে সরকার কাজ করছে। শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। সরকারি দল, বিরোধী দল, সংসদের বাইরের রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষকসহ সবাইকে নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার একদিকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার ও সেলের কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে, অন্যদিকে জনগণের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের প্রতিকার পাওয়ার পথ সম্পর্কে জানাতে কাজ করছে।
এমই