বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বাংলাদেশ—এ দুটি ‘অবিচ্ছেদ্য’ নাম বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জিয়াউর রহমান এবং বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য, একে আলাদা করা যায় না। কারণ জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। আর সেই মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ একটি নতুন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে স্থান পায়।’
তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি জনগণের যে আস্থা, তার প্রকাশ ঘটেছিল ১৯৭৫ সালে। দেশের মানুষ যখন নতুন নেতৃত্ব খুঁজছিল, তখন একটি সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তাকে আবার দেশ গঠনের দায়িত্ব দিয়েছিল। প্রথমটি ছিল দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা, দ্বিতীয়টি ছিল দেশ বিনির্মাণের দায়িত্ব।’
বিএনপি মহাসচিব তার বক্তব্যে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশ পুনর্গঠন, ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ এর মাধ্যমে জাতির একক পরিচয় তৈরি, যোগ্য ও দক্ষ মানুষদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং অর্থনৈতিক বিভিন্ন সংস্কারসহ নানামুখী উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তুলে ধরেন।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকাল একটি রাজনৈতিক শক্তি কেবল ‘সংস্কার, সংস্কার’ বলে চিৎকার করে। তারা বলে—আমরা নাকি সংস্কারে বিশ্বাস করি না, সংস্কার করছি না। অথচ বাংলাদেশে সংস্কারের জন্ম তো বিএনপিই দিয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র উপহার দিয়েছিলেন। এটি একটি ঐতিহাসিক ও মৌলিক সংস্কার ছিল। এছাড়া তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন।’