হোম > রাজনীতি > বিএনপি

যুবদল কমিটিতে পদবাণিজ্যের অভিযোগে স্মারকলিপি পদবঞ্চিতদের

স্টাফ রিপোর্টার

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সদ্যঘোষিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে পদায়নের ক্ষেত্রে ‘ব্যাপক অনিয়ম ও পদ বাণিজ্যের’ অভিযোগ তুলেছেন সংগঠনের পদবঞ্চিত নেতারা। এর প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে একটি লিখিত অভিযোগপত্র (স্মারকলিপি) জমা দিয়েছেন তারা।

সোমবার সকালে ধানমন্ডিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের সরকারি বাসভবনে সাক্ষাৎ করে পদবঞ্চিত যুবদল ও সাবেক ছাত্রদল নেতারা এ অভিযোগপত্র তুলে দেন।

এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে পদবঞ্চিত নেতারা বলেন, সদ্যঘোষিত যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ত্যাগী ও রাজপথের লড়াকু সৈনিকদের মূল্যায়ন করা হয়নি। উল্টো নিষ্ক্রিয় ও অযোগ্যদের বড় বড় পদ দেওয়া হয়েছে। তারা এ কমিটির অনিয়ম ও পদ বাণিজ্যের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। একই সঙ্গে অযোগ্যদের বাদ দিয়ে রাজপথের পরীক্ষিত, জেল-জুলুমের শিকার ও যোগ্যতা সম্পন্ন যুবদল নেতাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে জনাব রুহুল কবির রিজভীর সহযোগিতা কামনা করেন।

এ সময় ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক শীর্ষস্থানীয়সহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিলেন— রফিকুল ইসলাম রফিক (সাবেক সহ-সভাপতি, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ), মো. হুমায়ুন কবির (সাবেক সহ-সভাপতি, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ), সাজ্জাদ হোসেন উজ্জ্বল (সাবেক সহ-সভাপতি, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ), জাকির হোসেন খান (সাবেক সহ-সভাপতি, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ), মো. দুলাল হোসেন (সাবেক সদস্য-সহ-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি), খালিদ মাহমুদ মাসুদ (সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি), অলিউদ্দিন সুমন দেওয়ান (সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি), আবুল হাসান (সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ), সেলিম হোসেন মুন্না আকন্দ (সাবেক সদস্য, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি), আনোয়ার জাহিদ (সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ), শরীফ মোহাম্মদ ফরহাদ দিপু (সাবেক সহ-সভাপতি, ছাত্রদল ঢাবি), আরিফুল ইসলাম আরিফ (সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ), কাজী মেজবাউল আলম (সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ), মুজাহিদুল ইসলাম (সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ), তুষার (সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ), সবুর খান সাগর (সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ), স্বপন মন্ডল (সাবেক জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ), রবিউল হাসান আরিফ (সাবেক সহ-ক্রীড়া সম্পাদক, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ), মহিবুল্লাহ জয় (সাবেক সদস্য, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ), খশরু আহমেদ হিরন (সাবেক ছাত্রনেতা, ঢাবি), জহিরুল ইসলাম দিদার (সাবেক ছাত্রনেতা, ঢাবি), খলিলুর রহমান জনি (সাবেক সদস্য, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ), নজরুল ইসলাম নাহিদ (সাবেক সহ-সভাপতি, ঢাবি ছাত্রদল), নজরুল ইসলাম নজরুল (সাবেক ছাত্রনেতা, জবি) এবং দুলাল মাতব্বর (সাবেক ছাত্রনেতা, ঢাকা মহানগর পূর্ব)।

নেতারা আশাবাদ প্রকাশ করেন, দলের হাইকমান্ড যুবদলের এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এবং প্রকৃত ত্যাগীদের মূল্যায়ন করবেন।

এ বিষয়ে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, কমিটি ঘোষণার পর থেকেই আমরা দেখতে পাই দীর্ঘদিনের রাজপথের লড়াই-সংগ্রামে থাকা নেতাদের বাদ দিয়ে এমন ব্যক্তিদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে, যাদের অনেকে চেনেই না। আবার স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্তদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।

যুবদলের সাবেক সদস্য (সহ-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) মো. দুলাল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন রাজপথের লড়াই সংগ্রামে ছিলাম; ৭-৮ বার জেল খেটেছি; বাসা তুলে নিয়ে তিন দিন আমাকে গুম করে রাখে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার। ছাত্রদলের তিন কমিটি ও যুবদলের গত কমিটিতে থাকার পরও এবারের কমিটিতে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর বিপরীতে ৪০ থেকে ৫০ জন রয়েছেন যাদের বিগত সময়ে মাঠের আন্দোলনে কোনো ভূমিকা ছিল না। এ ছাড়া পার্টি অফিস থেকে আমাদের তুলে নিয়ে যাওয়াদের মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ জন একসঙ্গে জেলে ছিলাম। কিন্তু তাদেরও মূল্যায়ন করা হয়নি। তাহলে জীবনের এত মূল্যবান সময়গুলো আমরা কোথায় ব্যয় করলাম।

এর আগে গত ৪ জুন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই অনিয়ম, পদবাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে।

কমিটিতে অনিয়মের অভিযোগ এবং ত্যাগী ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাদের যথাযথ মূল্যায়নের দাবিতে গত ১৩ জুন দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন পদবঞ্চিতরা।

এর আগে ১০ জুন রমনা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে নতুন কর্মসূচিবিষয়ক মতবিনিময় সভা করেন তারা। পরে একই দাবিতে ১৭ জুন বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে ফের অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন যুবদলের পদবঞ্চিতরা। এসব কর্মসূচিতে সংগঠনে উপযুক্ত পদ না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

এএস

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে শাহবাগে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

হারুন-আল-রশিদের মৃত্যুতে বিএনপি একজন অভিভাবক হারিয়েছে: রিজভী

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদের ইন্তেকাল

দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসীর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়ালেন ছাত্রদল নেতা

এই ইউএনও-ডিসিরা আওয়ামী লীগের, তাদের থেকে লীগের গন্ধ যায়নি

প্রয়াত বিএনপি নেতা নোমানের নামে মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণ

সস্তা রাজনীতি পরিহার করে সুস্থ ধারার রাজনীতিতে ফিরুন

জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হলেন আফরোজা আব্বাস

মুশফিকুল ফজল আনসারীকে দেখতে সিএমএইচে বিএনপির স্বাস্থ্য সম্পাদক

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে সাংবাদিকরা সবসময় পাশে ছিলেন