হোম > রাজনীতি > বিএনপি

খোকা ছিলেন রাজপথের খাঁটি যোদ্ধা: মির্জা আব্বাস

স্টাফ রিপোর্টার

প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন রাজপথের একজন খাঁটি যোদ্ধা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন—সব ক্ষেত্রেই তার সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার স্মৃতি রয়েছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য কিংবা ঝগড়া হলেও দিনশেষে বিএনপির আদর্শ ও মানুষের কল্যাণে তারা একসঙ্গে কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

বুধবার রাজধানীর গোপীবাগে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এবং ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন বক্তব্য দেন। তারা খোকার রাজনৈতিক জীবন, মুক্তিযুদ্ধে অবদান এবং ঢাকা মহানগরীতে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।

সহজ-সরল ও বড় মনের মানুষ ছিলেন খোকা

সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘খোকা ছিলেন রাজপথের একজন খাঁটি যোদ্ধা। তিনি কম হাসতেন, কিন্তু তার কথাবার্তা ও আন্তরিকতা মানুষকে সহজেই কাছে টেনে নিত। তিনি অত্যন্ত সহজ-সরল ও বড় মনের মানুষ ছিলেন।’

নিজেদের শৈশব, কৈশোর ও রাজনৈতিক জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, তার বাড়ি শাহজাহানপুরে আর খোকার বাড়ি গোপীবাগে। একই এলাকার বাসিন্দা থেকে কখন যে তারা একে অপরের সঙ্গী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধা হয়ে উঠেছেন, তা বুঝতেই পারেননি। মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন—সব ক্ষেত্রেই তারা একসঙ্গে ছিলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘খোকা এবং আমার জীবনের নানা ঘটনা নিয়ে যদি লিখতে বসি, তবে আস্ত একটি বই হয়ে যাবে। রাজনীতিতে আমাদের মতপার্থক্য কিংবা ঝগড়াও হতো, কিন্তু দিনশেষে আমরা বিএনপির আদর্শ ও মানুষের জন্য একসঙ্গে কাজ করেছি।’

রাজনীতির নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে একসঙ্গে পথচলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ সে আমাদের মাঝে নেই, সে থাকলে হয়ত বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আরও অনেক ভালো কিছু হতে পারত।’

প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, খোকাকে নিয়ে পরবর্তী সময়ে বড় পরিসরে একটি স্মরণসভার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে তার রাজনৈতিক অবদান ও জীবনের নানা দিক তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে খোকার পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানানো এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চান তিনি।

খোকা ও আব্বাসের নেতৃত্বে ঢাকায় বিএনপির ভিত্তি গড়ে ওঠে

ঢাকা মহানগরীতে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলার পেছনে সাদেক হোসেন খোকা ও মির্জা আব্বাসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

তিনি বলেন, তাদের নেতৃত্বেই ঢাকা মহানগরীতে বিএনপিকে সুসংগঠিত করা হয়েছে। আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দলকে ক্ষমতায় নেওয়া হয়েছে। বিএনপিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া যাবে না, কারণ দলটির পেছনে কোটি কোটি মানুষ রয়েছে।

আবদুস সালাম বলেন, সাদেক হোসেন খোকা শুধু ঢাকা মহানগরী নয়, সারা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন। তিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীন দেশে ঢাকার অন্যতম মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন খোকা।

খোকার জনপ্রিয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরও সেই জনপ্রিয়তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার লাশ ঢাকার বিমানবন্দরে নিয়ে আসার পর বিমানবন্দর থেকে শুরু করে পুরো সড়কজুড়ে মানুষের ঢল নেমেছিল। তার জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, ঢাকা শহরের মানুষের কাছে তিনি কতটা জনপ্রিয় ছিলেন।

বিএনপি জনগণের দল উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দলের নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ এবং তাদের থানার নেতা কমিশনার বাদল সরদারের জানাজায় মানুষের উপস্থিতির মধ্য দিয়েও তা প্রমাণিত হয়েছে।

বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, হুমকি-ধমকি দিয়ে বিএনপির কিছু করা যাবে না। কেউ যদি মনে করেন, একটু ধাক্কা দিলেই বিএনপি পড়ে যাবে, তাহলে ভুল করবেন। বিএনপি জনগণের সঙ্গে আছে। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে। পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে।

আবদুস সালাম আরও বলেন, বিরোধী দলে থেকে বিরোধিতা করতে হলে সংসদে কথা বলতে হবে। রাজপথে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা উচিত নয়। গত কয়েক দিন ধরে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। বিএনপি দলগতভাবে এখনো এর বিরুদ্ধে মাঠে নামেনি। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পেছনে কোটি কোটি মানুষ ও লাখ লাখ বিএনপির নেতাকর্মী রয়েছেন।

দেশের অর্থনীতি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। আবদুস সালাম বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট রয়েছে। গত ১৭ বছরে দেশে পর্যাপ্ত গ্যাসকূপ খনন করা হয়নি। তবে তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর গ্যাসকূপ খননের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কিছুদিন অপেক্ষা করলে এসব সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা যেভাবে ঢাকা মহানগরীকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, মির্জা আব্বাসসহ তারাও সেভাবে মহানগরীকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধ থেকে যেকোনো রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করা হবে।

ঐক্যবদ্ধ থাকলে ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া সম্ভব: ইশরাক

শ্রমিক আন্দোলনের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, অতীতে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যেভাবে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছেন, সেভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই তাদের রুখতে পারবে না।

ইশরাক হোসেন বলেন, তার বাবা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা রেখেছিলেন। তার সন্তান হিসেবে তিনিও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অতীতে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। ভবিষ্যতেও তাঁর নির্দেশনা ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কাজ করে যাবেন।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে ইশরাক বলেন, ‘একটি কুচক্রী মহল চেষ্টা করছে, আপনারা দেখেছেন বিগত কয়েক দিন ধরে যে শ্রমিক আন্দোলনের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করে একটা নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থা থেকে দেশকে উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে চেষ্টা করছেন, তাতে তার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে, যেখানে জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করবে।

ইশরাক বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, যেভাবে বিগত দিনে আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে একসঙ্গে লড়াই করেছিলাম, তাহলে কোনো ষড়যন্ত্রই আমাদের রুখে দিতে পারবে না।’

বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত হওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইশরাক বলেন, তার বাবার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সবাই উপস্থিত হয়ে দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে তাকে স্মরণ করেছেন। এ জন্য তিনি ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য ও রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নবীউল্লাহ নবী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহীন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা। এ ছাড়া ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে চায় বিএনপি: রিজভী

শেখ মুজিবের হাতেই স্বাধীন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক চর্চা ধ্বংসের সূচনা: তথ্য উপদেষ্টা

শ্রমিক আন্দোলনে ভাঙচুর-আগুনের নেপথ্যে কারা, ব্যাখ্যা দিলেন আবিদ

জুলাই সনদে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমিয়ে আনার বিষয়ে আমরা বিরোধিতা করেছি: নাছির

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে : রিজভী

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

লং মার্চ করে নয়, জুলাই সনদের সমাধান হবে সংসদে: রিজভী

সংস্কার লংমার্চে নয়, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আসতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

লং ড্রাইভ বাদ দিয়ে জনসেবায় আসুন: বিরোধী দলকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

শুধু মানুষকে দেখাতে অযৌক্তিকভাবে লংমার্চ করছে ১১ দল: রিজভী